লোকজ্ঞান মূলত অভিজ্ঞতালব্ধ জ্ঞান যা প্রকৃতি বা স্থানীয় পরিবেশের সাথে মিথষ্ক্রিয়ার মাধ্যমে অর্জিত হয়। এ সমস্ত লোকজ্ঞান স্থানীয় সম্প্রদায়কে দুর্যোগ থেকে বাঁচতে সাহায্য করে। লোকজ্ঞান খুবই গুরুত্বপূর্ণ উপাদান এর মাধ্যমে বিভিন্ন স্তরের দুর্যোগের প্রস্তুতি বাড়ায়। স্থানীয় জনগোষ্ঠী বিপজ্জনক পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত হয়। লোকজ্ঞনের মাধ্যমে সমুদ্র, পানি, বাতাসের প্রাকৃতিক লক্ষণ ও আচারণ আবহাওয়ার পরিবর্তন এবং প্রাণীদের আচরণ পর্যবেক্ষণ করে আসন্ন ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, জলোচ্ছ্বাস, ভূমিকম্পের পূর্বাভাস সম্পর্কে অবগত হয়। আর এসব লক্ষণ যখন তারা পর্যবেক্ষণ করে তখন নিজেদের মতো করে দুর্যোগের প্রস্তুতি নেয়।
প্রবাদ, খনার বচন, ছড়া, ধাঁধার মতো মৌখিক ধারাগুলোর গভীর সারমর্ম রয়েছে। প্রকৃতির অবস্থাকে বোঝার জন্য এই ধারাগুলোই পূর্ববর্তী প্রজন্মের কাছে শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ ভাণ্ডার ছিল। ঐতিহ্যগত জ্ঞান যেমন ধাঁধা, প্রবাদ-প্রবচন এর সাথে প্রাচীন ধারণা ধর্মবিশ্বাস এবং অনুশীলন মানুষ ও প্রকৃতিকে নিবিড়ভাবে আবদ্ধ করে রাখার ক্ষমতা রাখে। তবে বর্তমানে আধুনিক প্রথার প্রভাবে এসব লোকজ্ঞান অনেক পিছিয়ে পড়েছে। এই জ্ঞানের সাথে প্রযুক্তিগত ও বৈজ্ঞানিক জ্ঞান অন্তর্ভুক্ত করে দুর্যোগ প্রবণ জনগোষ্ঠীকে সাহায্য করা যেতে পারে। দুর্যোগ মোকাবিলায় বিভিন্ন দেশে লোকজ্ঞানের ব্যবহারের মনোযোগ দিচ্ছে। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত ইতিমধ্যেই এ ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ভারত বিপজ্জনক পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য তাদের নিজস্ব উপায় তৈরি করেছে এবং ব্যবহার করেছে। দুর্যোগের ঝুঁকি ও এর থেকে পুনরুদ্ধারের জন্য বিভিন্ন উপায় অবলম্বন করছে (Shaw, R, Takeuchi, Y & Uy, N (2008)। এ যায় বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা (এনজিও), আন্তর্জাতিক বেসরকারি সংস্থা পর্যবেক্ষণ করে এর পক্ষে মতামত দিয়েছে অর্থাৎ লোকজ্ঞান ভিত্তিক (আইএনজিও), এবং জাতীয় ও স্থানীয় সরকার-সহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান।