1 verified Rokomari customers added this product in their favourite lists
TK. 280TK. 249 You Save TK. 31 (11%)
নিজের জীবন থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে লেখা উপন্যাস এটা। আত্মজীবনী "অদেখা" প্রকাাশ করে পাঠকের প্রতিক্রিয়া দেখে দমে গেছি।
নিজের সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনার আগে পিছে কিছু বানানো অংশ। অনুভূতি এবং
শুরুতেই প্রশ্ন জাগে, মুখোশকাল কি? স্বতন্ত্র উপন্যাস না, আত্মজীবনী? আত্মজৈবনিক উপন্যাস হিসেবে এর আগে লেখক 'অদেখা' নামের একটা বই লিখেছেন। এরপর অবশ্য সেটাকে আত্মজীবনী হিসেবে স্বীকার করে নিয়েছেন।
কিন্তু মুখোশকাল-কে স্রেফ আত্মজীবনী বলে চালিয়ে দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এর মধ্যে উপন্যাসের মতো অনেক উপাদান যুক্ত হয়েছে, যেগুলো সত্য হতেও পারে আবার নাও হতে পারে।
কিশোরদার সাথে ব্যক্তিগত সম্পর্কের কারণে বইটির যাত্রা শুরুর কাল থেকেই পড়তে শুরু করেছিলাম এক একটি অধ্যায়। উনি নিজেই লিখছেন, নিজেই বদলাচ্ছেন। কিন্তু উপন্যাসের মূল জায়গাটা রয়ে যাচ্ছে। কখনো নাম বদলাচ্ছে। কখনো ঘটনার বর্ণনার ধরন। একটা আংশিক সত্য ঘটনাকে কেন্দ্র করে আস্ত উপন্যাস লেখার যাত্রাটা মন্দ ছিলো না।
লেখক হিসেবে কিশোর কুমার দাস নতুন। লিখতে চান পুরানোদের মতো করে। খেই হারিয়ে ফেলেন, তবুও এগিয়ে যান। এই এগিয়ে যাওয়াটা তার কাছ থেকে আগামী দিনে আরও ভালো লেখা পাওয়ার আশাবাদ জাগায়।
ভূমিকা শেষ, এবার ফিরে আসি মুখোশকালে। নীল এবং শর্মিলার গল্প হলেও, এই উপন্যাসে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র হিসেবে আছেন গালিব সাহেবও। শর্মিলার বোন নাবিলাও কি এই উপন্যাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ! কিংবা শর্মিলার প্রেমিক আদিল!
গল্প শুরু হয় মানসিকভাবে বিপর্যস্ত শর্মিলার নিজেকে নীলের কাছে সমপর্ণের মধ্য দিয়ে। নীল এখানে শিক্ষক আর শর্মিলা শিষ্য! জীবনকে নতুনভাবে আবিস্কারের খেলায় নামে শর্মিলা। নীলও তার নিজস্ব দীক্ষায় দীক্ষিত করতে চায় শর্মিলাকে। এমন মাস্টারিপনার দরুন শর্মিলার ক্লান্তিও আসে। নীল হাল ছাড়ে না। শর্মিলাও দিনশেষে আবার নীলের কাছেই ফিরে, জীবনের মানে বদলাতে। ঘটনা তার মতো এগিয়ে যায়। দৃশ্যপটে দেখা যায় রেলস্টেশনে উদয় হয়ে শর্মিলাদের ঘরে ঢুকে পড়া গালিব নামের রহস্যময় এক অন্ধ লোককে। যিনি হঠাৎ এসে সবকিছুতে জুড়ে বসেন। যার ভূমিকা তার উপস্থিতির প্রতিটি মুহূর্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। অন্যদিকে নিয়মিত আলাপের অভ্যাসে শর্মিলার প্রতি নীলের এক ধরনের দূর্বলতা তৈরি হয়। এই দূর্বলতার শেষ কোথায়? কোথায় গিয়ে থামবে এই দ্বৈরথ!
এসবের উত্তর পাবেন, 'মুখোশকাল' উপন্যাসে।
মুখোশকালের সবচেয়ে দূর্বল জায়গা কি? কিছুদূর পর পর ভারি ভারি সব বাক্য। জীবনের নানা বোধ নিয়ে দার্শনিকের দেয়া তত্ব। আমরা যেভাবে মুখরোচক উপন্যাস একটানা পড়ে যেতে চাই, সেই আরামটা এই উপন্যাসে একটু কম আছে।
আবার অন্যদিক থেকে হিসেব করলে, মুখোশকালের সবচেয়ে শক্তিশালী দিক এটাই। জীবনের নানা পর্যায়ের ঘাত-প্রতিঘাতের বিপরীতে যে বাক্য তৈরি হয়, তা হয়তো অনেকের ভাবনার খোরাক যোগাবে।
বিদ্যানন্দ প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত 'মুখোশকাল' উপন্যাসটি পড়তে পারেন। কিশোর কুমার দাস নিয়মিত লিখে গেলে, আমরা আরও একজন ভালো লেখক পাবো।