ড. হরিশংকর শ্রীবাস্তব মোগল সম্রাট হুমায়ূন এর সাথে সম্পর্কিত সমস্ত ফারসি গ্রন্থ অবলোকন করেছেন এবং ইংরেজিতে যত জীবনী ও মোগল যুগের ইতিহাস লেখা হয়েছে তার সবি খুব গভীর ভাবে নিরীক্ষন করেছেন।জীবনের ঘটনাবলী ও রাজনৈতিক সমস্তর্মকাণ্ড তিনি সম্পূর্ণ রুপে পর্যবেক্ষণ করে ও অন্য লেখকদের যুক্তি ও চিন্তাধারার নিরিখে নিজের সিধান্তে পৌছেছেন।
হুমায়ূন তৈমুর বংশের এক বিচিত্র রত্ন ছিলেন। ঐ বংশে অদ্ভুত সব বিভুতিরা জন্ম নিয়েছেন।যাদের ধারাবাহিক্তা তৈমুর থেকে নিয়ে আওরঙ্গজেব দশ বারো পুরুষ অব্ধি চলতে থাকে। এমন রাজবংশ জগতে অতি দুর্লভ যে বংশে এমন ওজস্বী নায়কদের আবির্ভাব ঘটেছে। হুমায়ূন এই সুদীর্ঘ সোনালী শিঙ্খলের এক অমুল্য সংযোজন ছিলেন। তার চরিত্রে দোষ গুন এর এক অদ্ভুত সংমিশ্রণ ছিল।যা তাকে এক দিকে হিন্দুস্থানের বাদশাহ, অন্যদিকে নিরবাসিত বাদশাহ রুপে ইরানের বাদশাহের অনুগ্রহের পাত্র বানিয়ে দেয়। এক সময় যিনি ছিলেন দিল্লির সম্রাট, জার সামনে রাজা ও নবাবগন অবনতমস্তক হতেন আর সেই হুমায়ূন বাদশাহ রাজস্থানের মরুভূমিতে নির্ধন , অসহায়ের মতো ঘুরে বেরিয়ছেন। তা সত্ত্বেও তিনি সকল অবস্থাতেই খুশি ছিলেন, দুঃখ দুর্দশায় তিনি নিরাশ হতেন না। আবা্র জয় পরাজয়ে বিহবল হতেন না।তার পচিশ বছ্রের রাজত্বকালে পনেরো বছরই তাকে বিদেশে কাটাতে হয়। ভাইয়েরা তাকে ধোকা দিয়েছে ।কখনো বা তিনি দুনিয়ার প্রতি এতটাই উদাসীন হয়ে পরতেন যে,রাজকারয ত্যাগ করতে উদ্যত হয়ে যেতেন।কখনো বা বিলাস ব্যস্নে এতটাই নিমগ্ন হয়ে পরতেন যে শ্ত্রু মিত্রের পরোয়া থাক্ত না।যখন তিনি রাজ সিংহআসনে বসেন তখন তাকে অস্যংখ স্মস্যা ঘিরে রেখেছিল।এই সমস্ত সমস্যাই তাকে সাম্রাজ্যচুত্য করে।এরপর ইরানীদের স্বল্পমাত্র সাহায্য নিয়ে সমস্ত শ্ত্রু প্রাজিত করে পুনরায় সিংহআসনে বসেন।এমন আশ্চর্য উথান প্তন এর ঘটনা বাস্তবিকই হৃদয়কে গভীরভাবে আকর্ষণ করে। কালের নিস্টহুরতা ও মানুষের ধৈর্যের অদ্ভুত দ্বন্দ্ব হুমায়ুনের জীবন চ্রিতকে অত্যন্ত আকর্ষণীয় করে তুলেছে। শুধু মাত্র ঐতিহাসিক দৃষ্টিতেই নয়। ম্নোবিগৈজ্ঞানিক সিদ্দন্তাব্লী অনুধাবনের জন্য ও হুমায়ুনের ইতিহাস জানা আবশ্যক। ড. হরিশংকর শ্রীবাস্তব এই গ্রন্থ রচনা করে আমাদের সাহিত্যের একটি মহত কাজ সম্পন্ন করেছেন