'ঝরাফুল' উপন্যাসটি ২০১০ইং থেকে ২০২২ইং সালের বাংলাদেশ এবং মধ্যপ্রাচ্যের প্রবাসীদের জীবন জীবিকার পটভূমিকায় রচিত একটি জীবনমুখী উপন্যাস। উপন্যাসের মূল চরিত্র হামাদি পড়ে পাঠক জানতে পারবেন। নিম্মমধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষিত এক তরুণের দেশ ত্যাগের কারণ, প্রবাসে সুদিনের স্বপ্ন, স্বপ্নভঙ্গ, সুখ-দুঃখ-বেদনার অনুভূতি। একজন তরুণের প্রবাস যাত্রা যে কতটা পীড়াদায়ক তা এখানে অনুমেয়। এয়ারপোর্ট থেকে শুরু করে কর্মক্ষেত্রের বিভিন্ন পর্যায়ে একজন প্রবাসীকে যে, কী পরিমাণ হয়রানি, অবজ্ঞা আর অবহেলার মধ্য দিয়ে যেতে হয় তা পাঠক বুঝতে পারবেন বইটি পড়ে! হামাদির প্রবাস জীবনের নানা ঝড়- ঝঞ্ঝা, ঘৃণা- বিদ্বেষ পাঠককে যেরূপ বেদনাহত করবে, প্রেম - আবেগ-চেতনা আর সাফল্যের আনন্দে সেরূপ পাঠক উদ্বেলিত হবে। উপন্যাসের গুরুত্বপূর্ণ অপর চরিত্র, প্রবীণ শিক্ষক শুকর আলী স্যার চরিত্রটি পড়ে পাঠক বুঝতে পারবেন মেধাবী ও বিচক্ষণ এই শিক্ষক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতাকে জলাঞ্জলি দিয়ে কেন তিনি মফস্বলে নিজে একটি ব্যক্তিগত উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করলেন। সেই বিদ্যালয়ে থেকে পড়াশোনা করা আরেকটি চরিত্র উপন্যাসের অন্যতম নায়িকা পুলিশ অফিসার নন্দার জীবন চরিত্র ও আদর্শের মধ্য দিয়ে ফুটে উঠে একজন মানবীয় গুণাবলী গুণসম্পন্ন সৎ, ন্যায়পরায়ণ পুলিশ অফিসারের দুঃসাহসিক ভূমিকা। অপরদিকে এস অাই রাহুল আকতারের চারিত্রিক অধঃপতনের মধ্য দিয়ে প্রতীয়মান হয় প্রশাসন যন্ত্রকে ব্যবহার করে ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করার হীন মানসিকতা। ক্ষমতাসীন ও বিরোধী জোটের রাজনীতিবিদদের একাংশের অপরাজনীতির দ্বারা যে সাধারণ নাগরিক ও রাষ্ট্র ব্যবস্থা কতটা ক্ষতির সম্মুখীন হয় তা তাঁদের চরিত্র পড়ে পাঠক বুঝতে পারবেন। প্রবাসে কর্মস্থলে ভারত- পাকিস্তানি নাগরিকদের সাথে বাঙালি শ্রমিক-পেশাজীবিদের প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে প্রকাশ পায় বাংলাদেশ ও এই দেশের মানুষের প্রতি তাঁদের দীন ও নিচু দৃষ্টিভঙ্গি। গল্পের প্রধান নায়িকা নীদির অপ্রাপ্তি যেমন পাঠককে কাঁদাবে তেমনি তার অকৃত্রিম ভালবাসার উষ্ণ পরশে আপনার হৃদয় হয়ে উঠবে প্রেমের ঢেউয়ে উত্তাল। প্রেম শক্তিতে মন হবে পুলকিত, জাগ্রত। প্রবাসের কষ্ট ভরা জীবনের গ্লানি যেমন আপনাকে বিচলিত করবে তেমনি মধ্যপ্রাচ্যের মরুভূমির অপার উদারতা আর মনোমুগ্ধকর সৌন্দর্যে আপনি হতে পারেন মোহিত। সবশেষে অনেক অনেক শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা বাংলার সুর্য সন্তান রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের যারা জীবনের সব সুখ বিসর্জন দিয়ে পরিবার-সমাজ ও রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য প্রতিনিয়ত লড়াই সংগ্রামে নিয়োজিত।
ফটিকছড়ি উপজেলার সাদেক নগর গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। পিতা মুহাম্মদ মুছা, মাতা কামরুল নাহার কদল।
পেশায় একজন প্রকৌশল। প্রকৌশল বিদ্যায় পড়াশোনা করলেও তিনি ভালোবাসেন সাহিত্য। সাহিত্যের প্রতি অনুরাগ থেকে বিদ্যালয় থাকাকালীন সময় হতে লেখালেখিতে হাতেকড়ি। ভালোবাসেন গ্রাম বাংলার প্রকৃতি, আবহমান সংস্কৃতি। বিপ্লবী মানসিকতা সম্পন্ন এই কবির লেখায় প্রায়শ ফুটে উঠে জুলুম অত্যাচার অন্যায়ে অবিচারের বিরুদ্ধে দৃঢ় প্রতিবাদ।তিনি একাধারে কবি উপন্যাসিক গল্পকার, সমাজকর্মী ও সংগঠক।