প্রয়াত লেখক ও আমলা আবদুশ শাকুরের "আত্মকথন" এর দুসরা পর্ব এই বই। প্রথম পর্বে জন্ম থেকে মোটামুটি যৌবনে পদার্পণ পর্যন্ত কালকে কলমে লিপিবদ্ধ করেছেন। এই দুসরা পর্বেও নিজস্ব ভঙিমায় বিস্তৃত শব্দভান্ডারের সদ্ব্যবহারে আত্মকে নিয়োজিত করেছিলেন শাকুর সাহেব।
আমলা জীবনের আমলামি বঙ্গদেশে কতটা সততা বেচে করতে হয় তার একটি সুস্পষ্ট ধারণা লেখকের ব্যক্তিগত জীবন থেকেই পাবেন পাঠক। প্রায়শই শোনা যায়, ওএসডি(অফিসার অন স্পেশাল ডিউটি) করা হয়েছে অনেককে। এরমূলে শুধু যে সরকারদ্রোহিতা থাকেনা, বরং সরকারের অসৎ এজেন্ডা বাস্তবায়নে সহায়তা করতে না চাইলেও কেউ স্বয়ং সরকারপ্রধানের রোষানলে পড়তে পারেন। বছরের পর বছর প্রমোশনহীন হয়ে অপাঙতেও হয়ে থাকতে হয় এদেশে তার উজ্জ্বল নজির আবদুশ শাকুর।
সিএসপি হবার আগে ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক।তারও আগে ছিলেন ঢাবির ইংরেজি সাহিত্যের ছাত্র। তাই তাঁরই জবানে সাক্ষাৎ মিলবে খান সরওয়ার মুরশিদ, মুনীর চৌধুরী,এ জি স্টক, জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী কিংবা বিতর্কিত সাজ্জাদ হোসাইনের। শাকুর সাহেব জানাবেন, প্রফেসর সাজ্জাদ শিক্ষক হিসেবে পয়লা নম্বরের হলেও কতটা উগ্রবাদী মানসিকতার ছিলেন।
শাস্ত্রীয় সংগীত কিংবা রবিঠাকুরের গান উভয়ের প্রতিই ছিল আবদুশ শাকুরের অকৃত্রিম আকর্ষণ। তার সাক্ষ্য সারা বই জুড়েই আছে।
প্রশাসনের বাঁকে বাঁকে কতটা দুর্নীতি ওত পেতে আছে তারও কিছু দৃষ্টান্তের কথা লিখেছেন আবদুশ শাকুর।
এবার আসি কেন ৫-২ = ৩ তারকা দিলাম-
প্রথমত, আত্মকথন দাবি করলেও এই বই কোনোভাবেই আত্মকথা নয়, স্মৃতিকথাই একে বলা চলে।
দ্বিতীয়ত, লেখক পাঠকের উদ্দেশ্যে লিখেন। কিন্তু জনাবের লেখায় নিজের শাব্দিক পান্ডিত্যের পরিচয় দিতে গিয়ে বেশ দুর্বোধ্য করে ফেললেন পুরো বই। হয়ত বিশেষ উচ্চমার্গীয় পাঠককুলের জন্যই রচিত এই বই। অামার মত অভাজনদের জন্য নহে।
তৃতীয়ত, প্রথম পর্বেই লিখেছেন এমন বেশকিছু ঘটনার পুনরাবৃত্তি এসেছে এই পর্বে। ঘটনা বর্ণনায় এসব না আসলেও চলত।
আবদুশ শাকুর নিঃসন্দেহে ভিন্নমাত্রার লেখক। একজন আমলার আমলামি জানতে কিংবা সংগীত নিয়ে বহু অজানা ঘটনার লোভেও বইটি পড়তে পারেন।