'নবীজির (ছ.) তাহাজ্জুদ ও মুনাজাতে মাকবুল'বইটি চারটি অধ্যায়ে বিন্যস্ত হয়েছে। প্রথম অধ্যায়ে নবীজির (ছ.) তাহাজ্জুদ। দ্বিতীয় অধ্যায়ে প্রয়োজনীয় মাসনূন দুয়া এবং ঈমানী ও জান্নাতী মৃত্যু এবং প্রিয় নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর শাফায়াত লাভের সুসংবাদ সম্বলিত প্রায় ত্রিশটির মত গুরুত্বপূর্ণ আমল। তৃতীয় অধ্যায়ে রয়েছে প্রিয় নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রতি হাদীসে বর্ণিত ও নির্বাচিত দুরূদ ও সালাম এবং চতুর্থ অধ্যায়ে রয়েছে বঙ্গানুবাদসহ মুনাজাতে মাকবুল । মানুষের শরীরের জন্য যেমন খাবার প্রয়োজন, ঠিক তেমনি রূহের জন্য আমল প্রয়োজন। কারণ ঠিকমত পানাহার না করলে যেমন মানুষের দেহ দুর্বল হয়ে পড়ে, ফলে শত্রুর মোকাবেলায় টিকতে পারে না, ঠিক তেমনিভাবে আমল ছাড়া মানুষের রূহ দুর্বল হয়ে পড়ে, ফলে নফস ও শয়তানের মোকাবেলায় টিকতে পারে না। নফস ও শয়তানের যে কোন ধোকায় সহজেই ফেসে যায়। আখিরাতের সাজার কথা ভুলে যায়। দুনিয়ায় গুনাহের মজার লোভ ছাড়তে পারে না। এ জন্য বুযুর্গানে দ্বীন বলেছেন, মানুষের নেক আমল যখন কমতে থাকে গুনাহের চাহিদা তখন বাড়তে থাকে। এক পর্যায়ে নেক আমলের চাহিদার উপর গুনাহের চাহিদা প্রবল হয়ে যায়। আর এ অবস্থা চলতে থাকলে মানুষ আস্তে আস্তে কুফরির দিকে চলে যায়। এ জন্য চব্বিশ ঘন্টার যাবতীয় মাসনূন দুয়া ও মাসনূন আমল সমূহ আমাদের ঈমানের জন্য প্রাচীর স্বরূপ। যারা দৈনন্দিন জীবনকে মাসনূন দুয়া ও আমল দ্বারা সাজিয়ে রাখে তারা নফস ও শয়তানের ধোকা থেকে নিরাপদ থাকে। গুনাহের চাহিদা এবং সুযোগ হলেও আখিরাতের অনন্তকালের সাজার কথা স্মরণ করে গুনাহের সামান্যকালের মজা ছাড়তে পারে। আলহামদুলিল্লাহ! আমাদের প্রাণপ্রিয় শাইখ ও মুরশিদ মুহিউস সুন্নাহ মুফতি নূরুল আমীন দা. বা. এর দিকনির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে যে সংকলনটি আমরা তৈরী করার তাউফীক পেয়েছি তা আমাদে সকলের জন্য জীবনের শ্রেষ্ঠ পাথেয় হবে ইনশাআল্লাহ ।
আরেফ বিল্লাহ মাওলানা শাহ হাকীম মুহাম্মদ আখতার সাহেব (রহ.) (১৯২৮-২০১৩) ছিলেন পাকিস্তানভিত্তিক একজন প্রখ্যাত দেওবন্দি আলেম, আধ্যাত্মিক সাধক, কবি ও লেখক [৩]। তিনি থানভী সিলসিলার অন্যতম প্রধান শায়খ এবং উপমহাদেশের প্রখ্যাত বুজুর্গ শাহ আব্দুল গণি ফুলপুরী (রহ.)-এর প্রধান খলিফা ছিলেন [৩, ৬]। তিনি ২০০টিরও বেশি বই লিখেছেন এবং করাচিতে 'আশরাফুল মাদারিস' প্রতিষ্ঠা করেন [৬, ৮]। জীবনী ও অবদান: জন্ম ও শিক্ষা: তিনি ১৯২৮ সালে ভারতের উত্তরপ্রদেশের প্রতাপগড়ে জন্মগ্রহণ করেন [২, ৩]। তিনি শাহ আব্দুল গণি ফুলপুরীর কাছে বাইয়াত হন এবং তাঁর সোহবতে আধ্যাত্মিকতার উচ্চ শিখরে পৌঁছান [৯]। উপাধি: তাঁর আধ্যাত্মিক জ্ঞান ও আল্লাহপ্রেমের কারণে তাঁকে "আরেফ বিল্লাহ" (আল্লাহর পরিচয় লাভকারী) উপাধি দেওয়া হয় [৭, ১৪]। কর্মক্ষেত্র: তিনি পাকিস্তানে সমাজসেবা ও তাসাউউফের খেদমতে নিজেকে নিয়োজিত করেন। ২০০১ সালে তিনি "আল-আখতার ট্রাস্ট ইন্টারন্যাশনাল" নামক একটি অলাভজনক সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেন [৬, ৮]। সাহিত্যকর্ম: তাঁর উল্লেখযোগ্য বইয়ের মধ্যে রয়েছে মাআরিফে মাসনবী, রুহ কি বিমারিয়ান আওর উনকা ইলাজ, ফাইজানে মহাব্বত ইত্যাদি [৮]। মৃত্যু: তিনি ২ জুন ২০১৩ সালে করাচিতে ইন্তেকাল করেন [১১]।