একটা সময় ছিল যখন মাছ চাষ করলে বিনিয়োগের প্রায় সমপরিমাণ টাকা লভ্যাংশ পাওয়া যেতো। কিন্তু পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন কারণে মাছ চাষে লাভের পরিমাণ কমতে থাকে। এমনকি কখানো কখনো লোকসান গুণতে হয় অথবা লভ্যাংশ বিনিয়োগের তুলনায় অত্যন্ত সীমিত হয়। মাছ চাষের ক্ষেত্রে এমনি সময় কিভাবে উৎপাদন খরচ আরও কমানো যায়, অপচয় রোধ করা যায় এবং লাভ নিশ্চিত হয় তা ভাবার একটা সময় এসে গেছে। বর্তমানে নির্দিষ্ট কিছু পদ্ধতিতে পুকুরে মাছ চাষ করা হচ্ছে- ১. সনাতন পদ্ধতির মাছ চাষ : এ পদ্ধতিতে পুকুরের কোন ব্যবস্থাপনা ছাড়াই মাটি ও পানির উর্বরতায় পানিতে যে প্রাকৃতিক খাদ্য তৈরি হয় মাছ তাই খেয়ে জীবন ধারণ করে। এক্ষেত্রে আলাদা কোন পরিচর্যা নিতে হয় না। ২. আধা-নিবিড় পদ্ধতির মাছ চাষ : এ পদ্ধতিতে নিয়মমতো পুকুর প্রস্ত্তত করে আংশিক সার ও খাদ্য সরবরাহ করে মাছের খাদ্য উৎপন্ন করতে হয়। পুকুরের বিভিন্ন স্তরে উৎপাদিত খাদ্যের সঠিক ব্যবহারের দিকে লক্ষ্য রেখে মাছের পোনা ছাড়তে হয়। ৩. নিবিড় পদ্ধতির মাছ চাষ : অল্প জায়গায়, অল্প সময়ে বেশি উৎপাদনের জন্য সার ব্যবাহার করে পুকুরে প্রাকৃতিক খাদ্যের উৎপাদন বাড়াতে হয়। ৪. কার্প জাতীয় মাছের মিশ্র চাষ : পুকুরের বিভিন্ন স্তরে উৎপন্ন খাবার সম্পূর্ণ ব্যবহার করার জন্য রুই, কাতলা, মৃগেল, কালিবাউস, বিগহেড, সিলভারকার্প, কমনকার্প প্রভৃতি নানা প্রজাতির মাছ একত্রে চাষ করা যায়। চাষ শুরু করার আগে বা মাছের পোনা ছাড়ার আগে সঠিক নিয়মে পুকুর তৈরি করা অত্যাবশ্যক। শুরুতে বিজ্ঞান ও পরিবেশসম্মত পুকুর তৈরি করা হলে মাছ চাষের এক তৃতীয়াংশ কাজ সম্পন্ন করা হয়। অথচ অনেক চাষি এক্ষেত্রে অদক্ষতার পরিচয় দেন। ভালভাবে পুকুর শুকানো, রাক্ষুসে মাছ অপসারণ, দূষণ মুক্ত জল সরবরাহ করা, চুন/জিওলাইট প্রয়োগ, জলতে প্রাকৃতিক খাবার জন্মানো এবং পুকুরে জল প্রবেশ এবং নিষ্কাশনের রাস্তা সঠিকভাবে রক্ষা করা অত্যাবশ্যক। এক্ষেত্রে অবহেলা করা হলে পরবর্তীতে নানা প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হতে হয়।