সুন্দরবন বিশ্ব ঐতিহ্যের মধ্যে অন্যতম এক নিদর্শন। সুন্দরবনকে যাঁরা কাছ থেকে দেখেছেন তাঁদের চোখে হয়তো অনেক কিছু ধরা পড়লেও অনেক কিছুই আড়ালে থেকে যায়। লেখক ফখরে আলমের ‘সুন্দরবনের মানুষ’ নামের বইটিতে সুন্দরবনের লুকায়িত সব কিছুই ধরা পড়ে। লেখকের কলমে আমরা চোখে না দেখেও অনেক কিছুই অবলোকন করতে পারি অনুভূতি দিয়ে, এক প্রতিচ্ছবি উপস্থাপিত হয় আমাদের কল্পনায়। বইটিতে সুন্দরবনের ভাষা কেমন, বাসিন্দা কারা, নিঃসঙ্গ বনরক্ষী, বাওয়ালি, মৌয়ালি, জেলে, সুন্দরবনের শিশু, নারী, চরের শ্রমদাস, ভিআইপি, ডাকাত, শিকারি, আন্তর্জাতিক পাচার চক্র, চিংড়ি পোনা শিকারি, উত্সব, খাবার এসব বিষয় খুব স্পষ্ট ও সাবলীলভাবে তুলে ধরা হয়েছে। বেশির ভাগ মানুষের কাছেই রহস্যঘেরা বন হলো সুন্দরবন। লেখক বইটিতে সেই রহস্য উন্মোচনেরই চেষ্টা করেছেন প্রতিটি পাতায় পাতায়।
কত বই-ই তো পড়ি ... পাতার পর পাতা উল্টে যাই দ্রুত, বই শেষ হলে রেখে দেই শেলফে । তারপর একসময় ভুলেও যাই । কিন্তু কিছু বই পড়ার সময় বারবার থামতে হয়, খোলা জানলা দিয়ে বাইরের আকাশের দিকে চোখ চলে যায় একটু পরপর । বইয়ের পাতায় শব্দেরা যে গল্প শোনাচ্ছে তা অবিশ্বাস্য ঠেকে । মনে হয়- এমন অদ্ভুত সময়ও পার করেছে আমার দেশ!
দ্রুত পড়তে মন সাড়া দেয় না, ইচ্ছে হয় বইটা শেষ না করি । শেষ করলে তো শেষই হয়ে গেলো । কিছু বই আসলে সমাপ্তি ডিজার্ভ করে না, ডিজার্ভ করে আত্নীকরণ, নিজের মধ্যে ধারণ করা ।