গৃহপালিত পশু পাখি পালন হচ্ছে এমন একটি ব্যবসা যেখানে অল্প দিনে ভালো আয় করা সম্ভব। পাখির ডিম ও মাংস শুধু সুস্বাদু নয় আমিষ সমৃদ্ধ খাদ্য। হাঁস মুরগি পালন করলে পরিবারের খাদ্য চাহিদা পূরণ করার পাশাপাশি বাড়তি আয়ের সুযোগ সৃষ্টি হয়। রোমানা ইয়াসমিনের লেখা ‘গৃহপালিত পশু-পাখি পালন ও চিকিৎসা’ বইটি শুধুমাত্র পশু পাখি লালন পালনই নয় রোগসংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য ও চিকিৎসার ব্যাপারে আলোচনা করা হয়েছে। হাঁস মুরগির একটি সাধারণ রোগ কলেরা। এটি ব্যাকটেরিয়াজনিক অতি সংক্রামক একটি রোগ। এই রোগে পাতলা সবুজ পায়খানা হয়। আক্রান্ত হাঁস-মুরগির হাঁটু ও মাথা ফুলে যায়। মুরগির মাথার ঝুটি ও কানের লতি নীলাভ রং ধারণ করে। তীব্র প্রকৃতির ক্ষেত্রে হঠাৎ মারা যায়। অনেক সময় কিছু দিন ভোগার পর মারা যায়। আক্রান্ত হাঁসকে আলাদা করে চিকিৎসা করতে হবে। বাসস্থান, খাবার ও পানির পাত্র পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। নিয়মিত প্রতিষেধক টিকা দিতে হবে। তবে এ প্রতিষেধক টিকায় সাধারণত ৫০% এর বেশী ফল পাওয়া যায় না। প্রথম দিকে চিকিৎসায় দ্রুত ফল পাওয়া যায়। সালফানামাইড গ্রুপের ঔষধ বা এন্টিবায়োটিকের মধ্যে পেনিসিলিন বা ষ্ট্রেপটোমাইসিন বা ঊভয়ই সম্মিলিতি ভাবে নির্ধারিত মাত্রায় ব্যবহার করা যায়। হাঁসের আরেকটি সংক্রামক ব্যধি হলো- ডাক ভাইরাস হেপাটাইটিস। ডাক ভাইরাল হেপাটাইটিস হাঁসের ছানার একটি মারাত্মক সংক্রামক ভাইরাস জনিত রোগ। যকৃত প্রদাহ এ রোগের প্রধান বৈশিষ্ট্য। সাধরণতঃ তিন সপ্তাহের কম বয়সী হাঁস আক্রান্ত হয়। আক্রান্ত হাঁসের ছানা চলাফেরা বন্ধ করে দেয় এবং একপার্শ্বে কাত হয়ে পড়ে থাকে। আংশিকভাবে চোখ বন্ধ করে থাকে। কিছু কিছু ছানা ঈষৎ সবুজ বর্ণের পাতলা পায়খানা করে। খিঁচুনী হয় এবং ঘাড় পিছনে বেঁকে যায়। ১ সপ্তাহ কম বয়সী ছানার মৃত্যুহার প্রায় ৯৫%। তিন সপ্তাহ বয়স পর্যন্ত হাঁসের বাচ্চাকে বয়স্ক হাঁস থেকে পৃথক ভবে পালন করতে হবে। আক্রান্ত ছানাকে সুস্থ্য ছানা থেকে আলাদা করে চিকিৎসা দিতে হবে। বাসস্থান ও খামার সরঞ্জাম পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। হাঁসের বাচ্চাকে টিকা প্রদান করতে হবে। এ রোগের কার্যকরী কোন চিকিৎসা নাই। তবে ইমিউন ডাক থেকে (রোগ থেকে সেরে ওঠা) এন্টিসিরা ইনজেকশন .৫ এমএল করে ব্যবহার করা যেতে পারে। পোলট্রি শিল্পের আরেকটি সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ বার্ড ফ্লু । সাধারণত পোলট্রি শিল্পের পশুপাখি যেমন মুরগি, হাঁস, কোয়েল ইত্যাদির নিবিড় সংস্পর্শে এলে এ রোগের সংক্রমণ হয়ে থাকে। আবার আক্রান্ত রোগীর থেকেও স্বাভাবিক লোকের মধ্যে এ রোগ ছড়াতে পারে। সাধারণত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে এ রোগের সংক্রমণ বেশি হয়, যা পরবর্তীতে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়তে পারে। এজন্য এ রোগকে জুনোটিক ডিজিজ বলা হয়। সাধারণত ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস থেকে এ রোগের উৎপত্তি। এ ভাইরাস সাধারণত সর্দি, কাশি সৃষ্টি ছাড়াও বিভিন্ন ধরণের মহামারী যেমন সোয়াইন ফ্লু বা বার্ড ফ্লু আকারে ছড়িয়ে পড়তে পারে।