কাল্পনিক বিতর্ক
লেখক: খন্দকার রেজাউল করিম
প্রকাশনী: সৃজন
"কাল্পনিক বিতর্ক" গ্রন্থটির প্রথম পাতা উল্টানোর সাথে সাথেই যেন প্রবেশ করলাম আলাদা একটা জগতে। কালজয়ী সব মনিষীরা এসে ভীড় করছেন সেই জগতে। ইতিহাসের সময়রেখা ধরে একে একে হাজির হচ্ছেন কবি-সাহিত্যিক থেকে শুরু করে জগত সংসারের মঞ্চ কাঁপানো অসাধারণ সব দার্শনিক, পদার্থবিদ - একেবারে উৎসবমুখর একটা আবহাওয়া। সবাই নিজের গল্প শুনিয়ে যাচ্ছেন, কেউবা জড়িয়ে পড়ছেন জটিল সব বিতর্কে। সবার লক্ষ্য এই রহস্যময় মহাজগতকে অনুধাবন করা, আরেকটু সূক্ষ্মভাবে। সবাই কিছু একটা খুঁজছেন, খুঁজে চলেছেন এক সোনার হরিণকে। মহাবিশ্বের গুপ্তরহস্যের চাবিকাঠি। যতই তারা হরিণটির কাছে যান, হরিণ ততই সদর্পে দূরে পালিয়ে যায়। সবাই এক ঘোরলাগা আবছায়ায় আচ্ছন্ন...!
ভাবগম্ভীর দার্শনিক আলাপের মাঝে বাগড়া দিতে কখনোবা আমাদের রবি ঠাকুর এসে তার কবিতা শুনিয়ে যান, বিনিময়ে খেতে হয় প্লেটোর দৌড়ানি। কিছুক্ষণ পর আবারো বৈজ্ঞানিক আলোচনার ফাঁকে শোনাতে আসেন তার কবিতা। ব্যাস, তারপর আইনস্টাইন যান চটে।
পুরো বইজুড়ে দুজনের উপস্থিতির অভাব প্রচণ্ড আকারে টের পেয়েছি। সক্রেটিস আর স্পিনোজা। তাদের না থাকাটা একটা ফাঁকা-ফাঁকা অনুভূতি দিয়েছে। বিশেষ করে ঈশ্বর প্রসঙ্গে আইনস্টাইনের সাথে স্পিনোজার মেলবন্ধনটা দেখার খুব ইচ্ছে ছিল।
সে যাই হোক, জ্ঞানের এই মনোমুগ্ধকর আসরে এসে ভিন্ন একটা দৃষ্টিকোণ থেকে এই অপার বিস্ময়ের বিশ্বব্রহ্মাণ্ড নিয়ে চিন্তার অবকাশ মিলবে, এ আমি লিখে দিচ্ছি। আমার ধারণা - এখানেই বইটার স্বার্থকতা, পাঠকের মনে চিন্তার ফানুস উড়িয়ে দেওয়া!
খন্দকার রেজাউল স্যারের "কোয়ান্টাম রাজ্যে ডালিম কুমার" বইটা আমি পড়েছিলাম। কি সুন্দর, কি অসাধারণ লেখনী! বাংলায় বিজ্ঞান-সাহিত্যের মানদণ্ড স্থাপন করা রচনাশৈলী! এ বইয়েও তার আরেকটা ঝলকানি দেখিয়েছেন। এক কথায় বলি, আমি মুগ্ধ। সময়টাকে উপভোগ্য করে তুলবার জন্য লেখককে ধন্যবাদ।
রেটিং: নির্মল আনন্দের কোন রেটিং হয় না।