শ্রী রণজিৎ কুমার করের লেখা ’হাঁস-মুরগীর খামার ব্যবস্থাপনা’। আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে সঠিক পরিকল্পনায় মুরগি খামার স্থাপনের মাধ্যমে মুরগি পালনকে লাভজনক করে তোলা যায়। মুরগি খামার দু’ধরনের হতে পারে। যেমন-পারিবারিক মুরগি খামার ও বাণিজ্যিক মুরগি খামার। পারিবারিক মুরগি খামারে অল্পসংখ্যক মুরগি পালন করে সে অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে পরবর্তীতে বাণিজ্যিক মুরগি খামার গড়ে তোলা যায়। ছাড়া অবস্থায় মুরগি পালন পদ্ধতি- এ পদ্ধতিতে গ্রামে-গঞ্জে গৃহস্থের বাড়িতে স্বাধীনভাবে মুরগি ঘুরে বেড়ায় এবং বাড়ির আঙ্গিনা, রাস্তা-ঘাট, মাঠ ও ক্ষেত খামারে অবাধে ঘুরে বেড়ায়, ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা খাবার কুড়িয়ে খায়। মুরগির বাসস্থান এমন এক জায়গায় হতে হবে যা রোদ, বৃষ্টি ও ঠান্ডা থেকে মুক্ত থাকে। জায়গাটি অবশ্যই খোলামেলা হতে হবে। ঘরের বেড়া বাঁশের তরজা বা কাঠের তক্তা দিয়ে তৈরি করতে হবে। এছাড়া মাটির দেয়ালও তৈরি করা যাবে। বেড়া বা দেওয়ালে আলো বাতাস চলাচলের জন্য ছিদ্র থাকতে হবে। ঘরের চাল খড়, টিন বা বাঁশের তরজার সাথে পলিথিন ব্যবহার করে তৈরি করা যাবে। এরকম ঘরে ১০-১৫টি মুরগি পালন করা যায়। আমাদের দেশে গ্রামীণ এলাকায় অনেক বাড়িতেই হাঁস পালন করতে দেখা যায়। হাঁসের লালন-পালন খরচ কম এবং ঝামেলা বিহীন। হাঁসের মাংস সুস্বাদু এবং ডিম আকারে বড়। হাঁসের মাংস ও ডিমের বাজার চাহিদা রয়েছে। হাঁস পালন করলে পরিবারের খাদ্য চাহিদা পূরণ করার পাশাপাশি বাড়তি আয়ের সুযোগ সৃষ্টি হয়। বর্তমান শহর, উপশহর এবং গ্রামেও বাণিজ্যিক ভিত্তিতে হাঁসের খামার গড়ে উঠেছে। বসত বাড়িতে হাঁস চাষ একটি সহজ ও লাভজনক কাজ। বাড়ির গৃহিনী এবং ছেলে-মেয়েরা অল্প মূলধন নিয়ে ছোট পরিসরে হাঁসের খামার স্থাপন ও পরিচালনা করতে পারে। পারিবারিক এই খামারে দেশি জাত ছাড়াও উন্নত জাতের হাঁস পালন করা যায়। এ অভিজ্ঞতা পরবর্তীতে বাণিজ্যিক খামার প্রতিষ্ঠায় কাজে লাগে।