নিলু পরপর তিনটা ক্লাস নিয়ে একটু ক্লান্তি অনুভব করল। আগে এমনটা হতো না। ইদানীং সে লক্ষ করছে, অল্পেই যেন ক্লান্তি চলে আসে। আজ প্রথম ঘণ্টায় ক্লাস নেওয়ার পর তার দুটো পিরিয়ড অফ ছিল। শেষে
এ
অনেকদিন গল্প-উপন্যাস পড়া হয় না! যাও পড়ি সেটা মুঠোফোনে-অনলাইনে। এই যন্ত্রটি মানুষের অভ্যেসটাই ওলট-পালট করে দিয়েছে। আজ একটা নতুন ঝকঝকে বই হাতে নিয়ে রাত জেগে পড়লাম।
ছোটবেলায় পাঠ্যবই না পড়ে চুরি করে গল্পের বই পড়ার কথা মনে পড়ছিল। রাতে পুরোটা শেষ করিনি। সকালে সাহেব অফিসে যাওয়ার সময় বললেন, "ভালোই তো তাড়াতাড়ি পড়তে পারো। বইটা পড়ে শেষ করো।" রাতে তিন ফর্মা পড়ার পর বাকিটা সকালে শেষ করলাম।
কোন এক অনুষ্ঠানে ফুটফুটে সুন্দর পুচকি একটা মেয়েকে গান গাইতে দেখে অবাক হয়েছিলাম। পরে দেখলাম— সব মঞ্চেই তাকে পুরস্কার পেতে। সে আর কেউ নয় আমার বান্ধবী সোনালীর ছোট বোন বনানী রায়। ফেসবুকে সব সময় ওর লেখা পড়ি। ভালোই লাগে। একদিন দেখলাম, ওর বই বের হয়েছে। নাম— 'সুখোষ্ণ সমীর।' ওকে বলেছিলাম— বইটা কিনব। ইচ্ছে থাকার পরও ব্যস্ততার কারণে বইমেলায় যাওয়া হয়ে ওঠেনি এবার। তাই গতকাল সাহেবকে দিয়ে বইটা কিনে আনিয়েছি। না, বনানীকে বলিনি— এক কপি পাঠিয়ে দিও, পড়ে দেখবো। কারণ বইতো সে দিতেই পারে। তবে আমার মনে হলো— বই কিনে পড়া উচিত। তাছাড়া বই কিনলে তা পড়ার আগ্রহ থাকে। 'ফাও' পাওয়া বই অবহেলায় পড়ে থাকে সেলফের কোণায়-কানায়। এছাড়া বই কিনলে লেখক-প্রকাশক দুজনেরই সম্মান বাড়ে, উৎসাহিত হয়।
যাইহোক, সাধারণ চোখে আমরা সব সময় যাদেরকে ভালো থাকতে দেখি সেটা যে আসলে ভালো থাকা নয় লেখক সেটা চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়েছে 'সুখোষ্ণ সমীর' উপন্যাসে। সমাজে আজও অনেক মেয়ে অসহায়, অবহেলিত। সাহস নেই ঘুরে দাঁড়ানোর। যে সমাজে পারভেজের মত লোক আছে সেই একই সমাজে অরুনের মত বন্ধুত্বপূর্ণ ভালোবাসার মানুষও আছে। অবহেলিত না থেকে আমরাই পারি আমাদের নতুনভাবে আবিষ্কার করতে। সব মিলিয়ে উপন্যাসটি ভালো লেগেছে।
বনানী তোমার লেখার হাত ভালো। এগিয়ে যাও আরও আরও ভালো লেখা আমাদের উপহার দিতে নিজেকে অধিকতম যোগ্য হিসাবে সাজাও, প্রস্তুত করো।