বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের ইতিহাস ও উপমহাদেশেরে চলচ্চিত্রের ১০০ বছর আহমদ মতিউর রহমান চলচ্চিত্র এমন একটি মাধ্যম যা মূলত মানুষকে বিনোদন বা আনন্দের খোরাক দেয়। এর পাশাপাশি এই মাধ্যমের সাহায্যে অতি দ্রুত ও দক্ষতার সাথে গণমানুষের কাছাকাছি পৌঁছা যায়। যা সমাজ, জাতীয় রাজনীতি, অর্থনীতি, সামাজিক আচার আচরণ ও সাহিত্য-সংস্কৃতিকে প্রভাবিত করে থাকে। চলচ্চিত্র এক প্রকারের দৃশ্যমান বিনোদন মাধ্যম। সিনেমা শব্দটি এসেছে সিনেমাটোগ্রাফি শব্দ থেকে। চলমান চিত্র তথা ‘মোশন পিকচার’ থেকে মুভি বা বাংলায় চলচ্চিত্র শব্দটি এসেছে। চলচ্চিত্রের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকে সাংস্কৃতিক উপাদানসমূহ। যে সংস্কৃতিতে তা নির্মিত হয় তাকেই প্রতিনিধিত্ব করে চলচ্চিত্রটি। শিল্পকলার প্রভাবশালী মাধ্যম, শক্তিশালী বিনোদন মাধ্যম এবং শিক্ষার অন্যতম সেরা উপকরণ হিসেবে খ্যাতি রয়েছে চলচ্চিত্রের। অন্য কোন শিল্পমাধ্যম সাধারণের সাথে এতোটা যোগাযোগ স্থাপনে সক্ষম নয়। ডাবিং করে একই সিনেমা থেকে ভাষা অনুযায়ী সংলাপ রূপান্তরের মাধ্যমে ভিন্ন ভাষার দর্শকদের কাছেও একান্ত আপন করে চলচ্চিত্রটি উপস্থাপন করা যায়, যাতে সাধারণ মানুষ এর পূর্ণ রসাস্বাদন করতে পারে। এ গ্রন্থে চলচ্চিত্রের ইতিহাস, বানানোর কৌশল, ধরন ইত্যাদি উল্লেখ করে মূল বিষয় অর্থাৎ বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের ইতিহাস এবং উপমহাদেশের চলচ্চিত্রের গত ১০০ বছরের ইতিহাস আলোচনা করা হয়েছে। বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের দু’টি পর্ব। ১৯৫৬ থেকে ১৯৭১ এবং; ১৯৭২ থেকে বর্তমান পর্যন্ত। পরিসংখ্যান বলছে ১ম পর্বে ২০৬টি ও দ্বিতীয় পর্বে (২০১৯ পর্যন্ত) ২০৩৪টি ছবি মুক্তি পেয়েছে।
Title
বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের ইতিহাস ও উপমহাদেশেরে চলচ্চিত্রের ১০০ বছর
আহমদ মতিউর রহমান কবি-ছড়াকার-প্রাবন্ধিক হিসেবে পরিচিত। ছোট গল্প, ভ্রমণ উপন্যাস, গবেষণা গ্রন্থ স্মরণীয় বরণীয় ব্যক্তিদের জীবনীও লিখেছেন। ইতিহাসের বিভিন্ন বাঁক এবং চলচ্চিত্র সংগীতসহ সংস্কৃতির বিভিন্ন বিষয়েও তার লেখনি অসামান্য।
জন্ম ৩১ জানুয়ারি ১৯৫৯, মতলব, চাঁদপুর। বেড়ে উঠেছেন মুন্সীগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জে। উনসত্তরের উত্তাল গণ-অভ্যুত্থানের সময় মাত্র ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় রাজপথ কাঁপিয়েছেন। মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন সক্রিয়ভাবে। কৃতিত্বের সাথে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে থেকে বাংলা অনার্সসহ মাস্টার্স করেছেন। ছিলেন ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের এমফিল গবেষক।
পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি যুক্ত ছিলেন বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে। ছিলেন ইউনিভার্সিটি ফিল্ম সোসাইটির নির্বাহী কমিটির কর্মকর্তা। শিশু-কিশোর মাসিক ফুলকুঁড়ির সহকারী সম্পাদক ছিলেন দীর্ঘদিন। পেশা হিসেবে বেছে নেন সাংবাদিকতা। সংবাদপত্রের পাশাপাশি বাংলাদেশ টেলিভিশনের বার্তা বিভাগে কাজ করেছেন দুই যুগেরও বেশি সময়। যুক্ত রয়েছেন সাংবাদিক ইউনিয়নের সঙ্গেও। বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) এর সিনিয়র সহকারী মহাসচিব ছিলেন, ভারপ্রাপ্ত মহাসিচব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যাÑ ৩৫। লেখালেখির সুবাদে কয়েকটি পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন তিনি । এর মধ্যে রয়েছে নারায়ণগঞ্জে স্কাউটস এর শিশু সাহিত্য সম্মাননা, শিশু সাহিত্যেÑ চত্ত্বর শিশু সাহিত্য পুরস্কার , চলচ্চিত্র বিষয়ক গ্রন্থের জন্য চাঁদপুরের সেরাজ উদ্দীন সরকার সাহিত্য পুরস্কার এবং ভারতের পশ্চিম বঙ্গের টেক টাচ টক সংস্থার দুই বাংলার দেশাত্ববোধক বিষয়ক কবিতায় ‘মেহফিল-এ- শায়র’ সম্মাননা। এ ছাড়াও মোগল সাম্রাজ্যের ইতিহাস : হেরেমের অন্তরালের কথা গ্রন্থের জন্য তিনি ঢাকা সাব-এডিটর্স কাউন্সিল সম্মাননা পুরস্কার লাভ করেন।