কৃষিবিদ সিরাজুল করিমের লেখা 'উন্নত পদ্ধতিতে মাছচাষ ব্যবস্থাপনা’। গ্রামের অনেক নারী শাক-সবজির পাশাপাশি মৎস্য চাষ করে। মৎস্য চাষ ছোট হলেও অনেক সাফল্য ইতিমধ্যে অর্জিত হয়েছে। পুকুরে তিন মাসের মধ্যে বড় হয় এরকম মাছের চাষ করে,পারিবারিক চাহিদা পূরণ করছে। অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ জলজ জীব, যেমন মাছ, চিংড়ি, সামুদ্রিক আগাছা, কাঁকড়া ইত্যাদি সামগ্রিকভাবে মৎস্য সম্পদ বলে। পুরাতন পুকুরকে মাছ চাষের উপযোগী করার জন্য পুকুর পানি নিষ্কাশন, তলদেশের পঁচা কাদা সরিয়ে ফেলা, চুন প্রয়োগ, সার প্রয়োগ, পুনরায় পানি প্রবেশ করানো, পোনা মজুদকরণ ইত্যাদি কাজগুলো পর্যায়ক্রমে অনুসরণ করতে হবে। পুকুর শুকানো সম্ভব না হলে পুকুরের আগাছা ভালভাবে পরিষ্কার করা, অবাঞ্চিত প্রজাতি দরকরা, চুন, সার প্রয়োগ করা, পোনা মজুদ করা ইত্যাদি কাজগুলো পর্যায়ক্রমে করতে হবে। নার্সারী পুকুরে লালন পালন শেষে পোনাগুলোকে মজুদ পুকুরে নিতে হয় যেখানে মাছগুলোকে বিক্রি উপযোগী করা হয়। মাছের বৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার জন্য এই পুকুরে নিয়মিত চুন, সার, মাছের সম্পরক খাবার প্রয়োগ করা হয়ে থাকে। মাঝে মাঝে নমুনা মাছ ধরে স্বাস্থ্য ও বৃদ্ধি পরীক্ষা করা হয়, কোন রোগবালাই দেখা দিলে তার যথাযথ প্রতিকার/প্রতিষেধক ব্যবস্থা নেয়া হয় এবং লালন পালন শেষে মাছ আহরণ করা হয়। বাণিজ্যিক ভাবে মাছ চাষের ক্ষেত্রে অবশ্যই মাছ হিসেব করে পুকুরে মজুদ করতে হবে এবং আহরণের সময় কত সংখ্যক মাছ আহরণ করা হলো তাও হিসেব করতে হবে। আর দ্রুত মাছের বৃদ্ধি নিশ্চিত করতে হলে ও অধিক লাভবান হতে হলে নিয়মিত সম্পূরক খাদ্য প্রয়োগ করতে হবে।