কৃষিবিদ সিরাজুল করিমের লেখা ’আধুনিক পদ্ধতিতে হাঁস মুরগি পালন ও চিকিৎসা’। আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে সঠিক পরিকল্পনায় মুরগি খামার স্থাপনের মাধ্যমে মুরগি পালনকে লাভজনক করে তোলা যায়। মুরগি খামার দু’ধরনের হতে পারে। যেমন-পারিবারিক মুরগি খামার ও বাণিজ্যিক মুরগি খামার। গৃহপালিত মুরগির পূর্ব পুরুষ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় উদ্ভুত লাল বুনো মুরগি বলে মনে করা হয়। ধারণা করা হয় যে, খাদ্যের জন্য শতাব্দীর পর শতাব্দী বন্য বুনো মুরগি শিকারের পর মানুষ সম্ভবত ৪,০০০ বছরেরও অনেক পূর্বে মুরগিকে গৃহপালিত করে। প্রাচীন ভারতে সূর্য দেবতাকে উৎসর্গকৃত ধর্মীয় অনুষ্ঠানেও এসব মুরগি ব্যবহূত হতো। সম্ভবত তখন পূর্ব-এশিয়ার মধ্য দিয়ে মুরগি বিস্তার লাভ করে এবং খ্রিস্টপূর্ব প্রায় ১,০০০ বছর আগে পারস্যে পৌঁছায় এবং তাদের প্রাচীন ধর্মে ভূমিকা রাখে। মুরগি পালন করলে পরিবারের খাদ্য চাহিদা পূরণ করার পাশাপাশি বাড়তি আয়ের সুযোগ সৃষ্টি হয়। বর্তমানে শহর, উপ-শহর এবং গ্রামেও বাণিজ্যিক ভিত্তিতে মুরগির খামার গড়ে উঠছে। বসত বাড়িতে মুরগি চাষ হচ্ছে একটি সহজ এবং লাভজনক কাজ। বাড়ির গৃহিণীরা খামার স্থাপন ও পরিচালনা করতে পারে। পারিবারিক এই খামারে ডিম পাড়া মুরগি ছাড়াও ব্রয়লার মুরগি চাষ করা যায়। এ অভিজ্ঞতা পরবর্তীতে বাণিজ্যিক খামার প্রতিষ্ঠায় কাজে লাগে। আমাদের দেশের আবহাওয়া হাঁস পালনে খুবই উপযোগী। সমস্যা হচ্ছে হাঁসের মাংস ও ডিম মুরগির মাংসের চেয়ে জনপ্রিয় কম। তবে বর্তমানে এটি অনেক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। এখন হাঁস চাষ লাভজনক একটি প্রযুক্তি। অনেকেই বাণিজ্যিকভাবে হাঁস চাষে এগিয়ে আসছেন এবং প্রধান পেশা হিসেবে বেছে নিচ্ছেন হাঁস চাষ। মৎস্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তাদের মতে, পুকুরে হাঁস ও মাছের সমন্বিত চাষ পদ্ধতি অবলম্বন করলে খুব সহজে বেশি লাভবান হওয়া সম্ভব। হাঁস চাষে অনেক সুবিধা রয়েছে যেমন- মাছের জন্য পুকুরে তেমন বাড়তি সার ও খাদ্য দিতে হয় না । হাঁস থাকলে মাছ দ্রুত বৃদ্ধি পায়।