7 verified Rokomari customers added this product in their favourite lists
TK. 200TK. 179 You Save TK. 21 (11%)
"পাপ" বইয়ের সংক্ষিপ্ত কথা:
একটি হত্যাকাণ্ড। ঢাকায় ঘটছে এমন হাজারো ঘটনা। অনেকগুলোরই সুরাহা হয় না, থেকে যায়
অমিমাংসিত। এক একটি হত্যা শুধু দগদগে ক্ষতের মতো জেগে থাকে কাছের
বই : পাপ
লেখক : গোলাম কিবরিয়া
প্রকাশনায় : বর্ষাদুপুর
প্রচ্ছদ : হিমেল হক
পৃষ্টা সংখ্যা : ৮৮
মুদ্রিত মূল্য : ২০০ টাকা
রাত বারোটা ছাব্বিশ মিনিট। পৃথিবীর সুনসান নিস্তব্ধতা আর আঁধারের বুক মাড়িয়ে অদূরে ঠাঁই দাঁড়িয়ে কোনো প্রাইভেট ক্লিনিকে দীর্ঘ নয় মাসের প্রতীক্ষা আর সমস্ত উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার অবসান ঘটিয়ে এক নবাগত শিশু তার চিৎকারের মাধ্যমে জানান দিলো আজ থেকে সেও পৃথিবীর বাসিন্দাদের একজন। অথচ নবজাতক শিশুটি ঘুনাক্ষরেও জানে না, তার এ অপ্রত্যাশিত আগমন কতটা সহজভাবে মেনে নিবে নিষ্টুর এই ধরণী।
প্রায় তিনদশক পরের ঘটনা। পুরান ঢাকার অদূরে বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে একটি লাশ আবিষ্কৃত হয়। সায়েরা নামে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া তরণীর লাশ এটি। যার বাবা ছিলেন একসময়ের স্বনামধন্য চিত্রনাট্যকার, গীতিকার এবং সংলাপ রচয়িতা। দাম্পত্য জীবনে অসুখী পৃথক কামরায় বসবাসকারী এই চলচ্চিত্রকারেরও জীবনবসান ঘটে অতিরিক্ত মদ্যপানে। আর মা রাবেয়া খাতুন একজন ব্যাংক কর্মী। সবচেয়ে আশ্চর্য্যজনক ঘটনা হলো, সায়েরা হত্যার দিনে ড. সারোয়ার জামাল নামে এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের লাশ আবিষ্কৃত হয়। যিনি আবার সায়েরার বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ছিলেন।
প্রায় এক বছর তদন্ত করেও পুলিশ দুুটি হত্যাকান্ডের কোনো কূল কিনারা করতে পারেনি। সায়েরার মায়ের আকুতি মিনতিতে সাড়া দিয়ে এক ভয়ানক রহস্যে জড়িয়ে পড়েন ক্রাইম রিপোর্টার তন্ময় চৌধুরী। পুলিশের দৃষ্টিতে সাধারণ এই হত্যাকান্ড দুটি মোড় নেয় এক ভয়াবহ শাসরুদ্ধকর ঘটনায়। সায়েরা হত্যার ইনভেস্টিগেশনে নেমে কঠিন কিছু সত্যের মুখোমুখি হন ক্রাইম রিপোর্টার তন্ময় চৌধুরী। পুলিশ যা পারেনি, একজন ক্রাইম রিপোর্টার হয়েও ঢাকার অপরাধজগতের সমস্ত অন্ধকার পথ পাড়ি দিয়ে তুলে আনেন নিরেট সত্য সব ঘটনা।
লেখক গোলাম কিবরিয়ার লেখার সাথে আমার আজকেই প্রথম পরিচয়। গত বইমেলায় বলতে গেলে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবেই কিনে ফেলি লেখকের এই থ্রিলার উপন্যাসটি। অথচ কেনার পূর্বমুহূর্ত পর্যন্তও বইটি বইমেলা'২০ এর ক্রয় তালিকায় ছিল না। বর্ষা দুপুর স্টলে একজন প্রিয় লেখকের বই ক্রয় করতে গিয়ে আকর্ষণীয় প্রচ্ছদ দেখে মূলত বইটি হাতে নিয়ে নেড়েচেড়ে দেখি। একজন থ্রিলারপ্রেমী হিসেবে ফ্ল্যাপের লেখাটুকু পড়েই বইটি কেনার লোভ সামলে নিতে পারিনি। পড়ার তালিকায় সামনের দিকে থাকা বইগুলো পড়ার কারণ এতদিন বইটি ধরা হয়নি। বুকসেলফে সাজিয়ে রাখা বইটির উপর আজ হঠাৎ করেই দৃষ্টি পড়ে। ছোট্ট এই বইটি এক বসাতেই পড়ে শেষ করে ফেলি।
একজন থ্রিলার পাঠক হিসেবে দেশী বিদেশী বহু থ্রিলার পড়ার সৌভাগ্য আমার হয়েছে। সে হিসেবে বলতে পারি থ্রিলারের যে টান টান উত্তেজনা আর রহস্যোন্মোচনের যে রুদ্ধশ্বাস অভিযান, সেরকম কিছু ছিল না বইটিতে। একটা সাদামাটা জীবনের গল্পই মনে হয়েছে অন্ততঃ আমার কাছে। তবে হ্যাঁ, যারা রহস্যোপন্যাস জনরার নতুন পাঠক তারা অনায়াসেই বেশ মজা পাবেন বইটি পড়ে।
একটি বিষয় উল্লেখ না করলেই নয়। লেখক গোলাম কিবরিয়ার লেখনী দেখে আমি যারপরণাই বিস্মিত! অভিভূত! শব্দ গঠন আর বাক্যবুননে লেখক মুন্সিয়ানার বেশ দক্ষতা রেখেছেন। ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতকোত্তর পাশ করে বাংলা সাহিত্যে তাঁর দক্ষতা সত্যিকার অর্থেই মনোমুগ্ধকর। প্রত্যেকটি বাক্য গঠনে সাহিত্যমান অক্ষুন্ন রেখে পুরো উপন্যাসটি তিনি রচনা করেছেন।