আদবহীন মানুষের পক্ষে আর যাই হোক, ইসলামের জ্ঞানরত্ন হাসিল সম্ভব নয়।শায়েখদের উপদেশ দিয়ে সাজানো বইটি।একজন জ্ঞান অর্জনকারীর কী কী আদব বজায় রাখা উচিত সে বিষয়ে এই বইটি।এখন প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ছাড়া শায়েখ দের কাছে বসে আদব শেখাটা খুব কঠিন হয়ে গেছে বিশেষ করে সাধারণ জেনারেল পড়ুয়া মানুষদের জন্য এই ছোট বইটি বেশি সহায়ক হবে বলে মনে করছি।আদবকেতা সম্পর্কে যুগে যুগে বিভিন্ন মনীষী বই লিখে গেছেন তাদের মধ্য থেকেই এই ত্রিরত্ন শাইখের বই খুব মূল্যবান। বইটি পৃষ্ঠার মান ও অনেক ভালো।
Was this review helpful to you?
By Sabbir , Oct 11, 2019
ইলম অর্জনের প্রারম্ভে সাধারণ পাঠক সর্বপ্রথম যে ধাক্কাটা খায়, তা হচ্ছে 'সমাজে প্রচলিত ফিকহি ইখতিলাফ(মতভেদ)।' একেক আলিমের একেক বক্তব্য, কাদা ছোড়াছুড়ি তাকে ভ্রান্তিতে ফেলে দেয়। কার কথা রেখে কারটা মানবে না, এই নিয়ে দ্বিধায় থাকে। সর্বোপরি ফিকহের মতভেদগুলো মেনে কীভাবে সে দ্বীন মানবে—তা নিয়েও দোটানায় ভোগে। ইলম চর্চা হয়ে উঠে ছন্নছাড়া। আর যদি কোনো প্রিয় শায়খ থাকে, যার অছিলায় দ্বীনের পথে ফিরে এসেছে, তাহলে তাকেই বানিয়ে ফেলে হক-বাতিলের মানদণ্ড। কখনো-বা শয়তান ব্যক্তির মনে 'আলিম আলিম' ভাব নিয়ে আসে...
অনলাইন-অফলাইনে এভাবে তর্কাতর্কি, ইখতিলাফি বিষয় নিয়ে মারামারি করে জীবনের অনেক গুরুত্বপূর্ণ সময় হারিয়ে ফেলে সাধারণ পাঠক। ফলে দ্বীনের মৌলিক ভিত্তি থাকে নড়বড়ে, ঈমান-আমলের হয় না কোনো প্রবৃদ্ধি, আর ইলম অর্জন বলতে কিছু নির্দিষ্ট বিষয়ের মাঝে ঘুরপাক খাওয়া।
.
জ্ঞানের পথের এই চোরাবালি থেকে বেঁচে থাকার দিক-নির্দেশনা, জ্ঞানার্জনের সঠিক কারিকুলাম নিয়ে যুগে যুগে অনেক আলিম কলম চালিয়েছেন, প্রবন্ধ লিখেছেন। তাদের মধ্যে অন্যতম ইমাম ইবনু রজব হাম্বলি (রহ.), বাক্র আবু জাইদ (রহ.), ড. সালমান আল আওদাহ (ফা.আ.)। তাদের সেই প্রবন্ধগুলোর সংকলন নিয়েই রচিত 'জ্ঞানের পথে চলার বাঁকে'। ছোট্ট এই বইটি প্রত্যেক ইলম পিয়াসুর টেবিলে থাকা আবশ্যক মনে করি আমরা।
.
বই: জ্ঞানের পথে চলার বাঁকে
লেখক : ইবনু রজব হাম্বলি (রহ.), বাক্র আবু জাইদ (রহ.), ড. সালমান আল আওদাহ (ফা.আ.)
নিনাদ প্রকাশ