সব ঝুট হ্যায় - বিমল মিত্র
গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে বিমল মিত্রের বই পড়া শুরু করি। যখন শুরু করি অনেকেই বলল, সাবধান! বিমল মিত্র অনেক উচুমানের সাহিত্যিক। তার বই গুলো ধৈর্য্য নিয়ে পড়তে হয়।
"সাহেব বিবি গোলাম" দিয়ে শুরু। তারপর "আসামি হাজির" কড়ি দিয়ে কিনলাম -১"।
আজকে শেষ করলাম " সব ঝুট হ্যায় "
আমি একজন নগন্য পাঠক মাত্র। বই পড়ে বইয়ের কাহিনী সংক্ষিপ্তভাবে বর্ননা করা আমার কাছে কেন জানি অপরাধের মত লাগে। তবে যদি দু-এক লাইনে বলার সুযোগ থাকে, তাহলে বলতে পারি " পাপ ও প্রায়শ্চিত্তের এক অপূর্ব মেলবন্ধন " এই " সব ঝুট হ্যায় " বইটি।
মানুষের জীবনে টাকা-পয়সা, গাড়ি-বাড়ি দরকার অবশ্যই আছে। কিন্তু অনেক সময় আমরা উচ্চাকাঙ্ক্ষা পূরনের জন্য পশুতে পরিনত হই, মনুষ্যত্ববোধ হারিয়ে ফেলি। পরিবার পরিজন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাই। যেমনটা ছিল সোহম রায়ের জীবনে।
সোহম সুন্দর রায়। পিতা-মাতাহীন এক বালক পিসির সংসারে মানুষ। বেশি ভাত খাওয়ার অপরাধে পিসতুতো ভাই কাশীনাথ দত্তের লাথি খেয়ে রাস্তায় এসে দাঁড়ায়। এবং সেখান থেকে সে "টার্নবুল এন্ড জ্যাকসন " কোম্পানির ডিরেক্টর। এ উচ্চাকাঙ্ক্ষার পথে সে কখনোই সৎ থাকতে পারেনি। এবং টাকার নেশা তার এতটাই বেড়ে যায়, যার জন্য সে তার বউ সুমিত্রা কে বাধ্য করে মদ খেতে, ক্লাবে যেতে এমনকি বিভিন্ন মানুষের সাথে বিছানায় যেতে।
আমি আগেই বলেছি, বই পড়ে কাহিনী সংক্ষেপে বলা আমার মত নগন্য পাঠকের জন্য অসম্ভব কাজ। তবুও বলে যাই, হয়তো কারো আগ্রহ সৃষ্টি হবে এই বইটি পড়তে।
যে জীবনে সোহম শুধু টাকার পিছনে দৌড়েছিল, সেই টাকা সে পেয়েছিল। কিন্তু জীবন থেকে জীবন হারিয়ে।স্ত্রী সুমিত্রার সাথে ডিভোর্স হয়ে যায়। চোখের সামনে মেয়ে শম্পা ধীরে ধীরে অদৃশ্য হয়ে যায়। আর শম্পার আকাশ কাপানো কান্না " আমি পাপ্পার কাছে যাবো " যেন আমাদের সমাজের ভীত নাড়িয়ে দেয়। মনুষ্যত্ববোধ জাগিয়ে তুলে।
না। তার টাকা সে ভোগ করতে পারেনি। তার বউ সুমিত্রা পারেনি, এমনকি তার মেয়ে শম্পা ও পারেনি।
সেই টাকা অফিসের কেরানি কেদার স্যানালের মেয়ে শম্পা কে দান করে যায় সোহম। যে শম্পা ভারতবর্ষের কোনো একজায়গায় "মাতৃ মন্দির" প্রতিষ্ঠা করে সমাজের দুঃস্থ মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে।
ইংরেজিতে একটা কথা আছে, " ill got, ill spent"
কিন্ত, অসৎপথের আয় সবসময়ই অসৎপথে খরচ হয়না। কখনো কখনো তা মহৎ উদ্দেশ্য সাধন করে।