"জীবনীগ্রন্থ বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর" বইয়ের সংক্ষিপ্ত কথা: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তাঁর পিতা ছিলেন ব্রাহ্ম ধর্মশুরু দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮১৭-১৯০৫) এবং মাতা ছিলেন সারদাসুন্দরী দেবী (১৮২৬-১৮৭৫)। রবীন্দ্রনাথ ছিলেন পিতামাতার চতুর্দশ সন্তান। জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবার ছিল ব্রাহ্ম আদিধর্ম মতবাদের প্রবক্তা। রবীন্দ্রনাথের পূর্বপুরুষেরা খুলনা জেলার রূপসা উপজেলা পিটাভোগে বাস করতেন। ১৮৭৫ সালে মাত্র চৌদ্দ বছর বয়সে রবীন্দ্রনাথের মাতৃবিয়োগ ঘটে। পিতা দেবেন্দ্রনাথ দেশভ্রমণের নেশায় বছরের অধিকাংশ সময় কলকাতার বাইরে অতিবাহিত করতেন। তাই ধনাঢ্য পরিবারের সন্তান হয়েও রবীন্দ্রনাথের ছেলেবেলা কেটেছিল ভৃত্যদের অনুশাসনে। ১৯১৩ সালে ‘গীতাঞ্জলি’ কাব্যগ্রন্থের ইংরেজি অনুবাদের জন্য তিনি সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। ১৮৭৪ সালে ‘তত্তএবাধিনী’ পত্রিকায় তাঁর প্রথম রচনা “অভিলাষ” কবিতটি প্রকাশিত হয়। ১৮৭৮ সালে মাত্র সতেরো বছর বয়সে রবীন্দ্রনাথ প্রথমবার ইংল্যান্ডে যান। ১৮৮৩ সালে মৃণালিনী দেবীর সঙ্গে তাঁর বিবাহ হয়। ১৮৯০ সাল থেকে রবীন্দ্রনাথ পূর্ববঙ্গের শিলাইদহের জমিদারি এস্টেটে বসবাস শুরু করেন। ১৯০১ সালে তিনি পশ্চিমবঙ্গের শান্তিনিকেতনে ব্রাহ্মচার্যশ্রম প্রতিষ্ঠা করেন ক্ষং সেখানেই পাকাপাকিভাবে বসবাস শুরু করেন। ১৯০৫ সালে তিনি বঙ্গভঙ্গ-বিরোধী আন্দোলনে জড়িয়ে পড়েন। ১৯১৫ সালে ব্রিটিশ সরকার তাঁকে ‘নাইট’ উপাধিতে ভূীষত করেন। কিন্তু ১৯১৯ সালে জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে তিনি সেই উপাধি ত্যাগ করেন। ১৯২১ সালে গ্রামোন্নয়নের জন্য তিনি শ্রীনিকেতন নামে একটি সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯২৩ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্বভারতী প্রতিষ্ঠিত হয়। দীর্ঘজীবনের তিনি বহুবার বিদেশ ভ্রমণ করেন এবং সমগ্র বিশ্ব বিশ্বভ্রাতৃত্বের বাণী প্রচার করেন। ১৯৪১ সালে দীর্ঘ রোগভোগের পর কলকাতার পৈতৃক বাসভবনেই তাঁর মৃত্যু হয়।
আহমদ মতিউর রহমান কবি-ছড়াকার-প্রাবন্ধিক হিসেবে পরিচিত। ছোট গল্প, ভ্রমণ উপন্যাস, গবেষণা গ্রন্থ স্মরণীয় বরণীয় ব্যক্তিদের জীবনীও লিখেছেন। ইতিহাসের বিভিন্ন বাঁক এবং চলচ্চিত্র সংগীতসহ সংস্কৃতির বিভিন্ন বিষয়েও তার লেখনি অসামান্য।
জন্ম ৩১ জানুয়ারি ১৯৫৯, মতলব, চাঁদপুর। বেড়ে উঠেছেন মুন্সীগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জে। উনসত্তরের উত্তাল গণ-অভ্যুত্থানের সময় মাত্র ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় রাজপথ কাঁপিয়েছেন। মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন সক্রিয়ভাবে। কৃতিত্বের সাথে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে থেকে বাংলা অনার্সসহ মাস্টার্স করেছেন। ছিলেন ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের এমফিল গবেষক।
পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি যুক্ত ছিলেন বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে। ছিলেন ইউনিভার্সিটি ফিল্ম সোসাইটির নির্বাহী কমিটির কর্মকর্তা। শিশু-কিশোর মাসিক ফুলকুঁড়ির সহকারী সম্পাদক ছিলেন দীর্ঘদিন। পেশা হিসেবে বেছে নেন সাংবাদিকতা। সংবাদপত্রের পাশাপাশি বাংলাদেশ টেলিভিশনের বার্তা বিভাগে কাজ করেছেন দুই যুগেরও বেশি সময়। যুক্ত রয়েছেন সাংবাদিক ইউনিয়নের সঙ্গেও। বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) এর সিনিয়র সহকারী মহাসচিব ছিলেন, ভারপ্রাপ্ত মহাসিচব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যাÑ ৩৫। লেখালেখির সুবাদে কয়েকটি পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন তিনি । এর মধ্যে রয়েছে নারায়ণগঞ্জে স্কাউটস এর শিশু সাহিত্য সম্মাননা, শিশু সাহিত্যেÑ চত্ত্বর শিশু সাহিত্য পুরস্কার , চলচ্চিত্র বিষয়ক গ্রন্থের জন্য চাঁদপুরের সেরাজ উদ্দীন সরকার সাহিত্য পুরস্কার এবং ভারতের পশ্চিম বঙ্গের টেক টাচ টক সংস্থার দুই বাংলার দেশাত্ববোধক বিষয়ক কবিতায় ‘মেহফিল-এ- শায়র’ সম্মাননা। এ ছাড়াও মোগল সাম্রাজ্যের ইতিহাস : হেরেমের অন্তরালের কথা গ্রন্থের জন্য তিনি ঢাকা সাব-এডিটর্স কাউন্সিল সম্মাননা পুরস্কার লাভ করেন।