“হে বোন : জান্নাত তোমার প্রতীক্ষায়” -বইয়ের কিছু কথা আমার নেককার, পবিত্র বোন! আপনি নিশ্চিতভাবে বিশ্বাস করুন, এই দুনিয়ার বুকে আপনার মর্যাদাই সবার ঊর্ধ্বে। আপনি একজন মা, বোন, স্ত্রী ও কন্যা। আপনি এই সমাজের অর্ধেক। অবশিষ্ট অর্ধেকের অস্তিত্বের উৎসও আপনি। যুগে যুগে আপনার গর্ভেই জন্মেছেন দ্বিগি¦জয়ী বীর, অনলবর্ষী বক্তা, যুগের রাহবার, দেশ ও জাতির কা-ারী। আপনার কাছেই আমি কিছু কথা ও আবেদন, ব্যথ্যা ও নিবেদন, ইতিহাসের কিছু বাস্তব সত্য ঘটনা তুলে ধরতে চাই। হয়ত তা আপনার হৃদয়কে স্পর্শ করবে। আপনার আবেগ ও অনুভূতিকে ছুঁয়ে যাবে। আমরা জানি, নারী পুরুষের অর্ধাংশ ও সমকক্ষ। যুগে যুগে পুরুষের মাঝে যেমন আলেম ও বিদ্যান, সমাজ সংস্কারক ও দীনের মহান দায়ীগণ ছিলেন, নারীদের মাঝেও তেমনি বিদ্যান ও দায়ী ছিলেন। পুরুষের মাঝে যেমন দিবসের রোযাদার ও রাতের রোদনকারীরা ছিলেন, নারীদের মাঝেও তেমন ছিলেন, বরং কল্যাণ ও সত্যের প্রতিযোগিতায় নারীরা সব সময়ই পুরুষদের পাশাপাশি ছিলেন। এভাবে কত নারী যে পুরুষদেরকে ছাড়িয়ে গেছেন! তাদের তুলনা তো তারাই! আল্লাহর গোলামী, দীনের নুসরত ও হেফাজত, বদান্যতা ও আমলে-কর্মে নারীরা সর্বদাই পুরুষের সমকক্ষ ছিলেন, বরং আপনি যদি ইতিহাসের পাতায় চোখ বুলান তাহলে দেখতে পাবেন, মানবেতিহাসের বৃহৎ ও মহান বহু কাজ নারীরাই আঞ্জাম দিয়েছেন।
সর্বপ্রথম যিনি হারাম শরীফে বসবাস করেছেন, যমযমের পানি পান করেছেন, সাফা-মারওয়ায় সায়ী করেছেন তিনি একজন নারী। তিনি হযরত ইবরাহীম আ.এর স্ত্রী ও ইসমাইল আ.এর জননী হযরত হাজেরা রা.। সর্বপ্রথম যিনি ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন এবং দীনের সাহায্যার্থে নিজের সর্বস্বকে উজাড় করে দিয়েছিলেন তিনি একজন নারী। তিনি হলেন উম্মুল মুমিনীন হযরত খাদীজা রা.। ইসলামের জন্য যিনি নিজের জীবন কুরবান করে প্রথম শহীদের মর্যাদা লাভ করেছিলেন তিনিও একজন নারী। তিনি হলেন হযরত আম্মার বিন ইয়াসিরের জননী হযরত সুমাইয়া রাযি.।
মনে রাখবেন! মর্যাদা কোনো মানুষের দান বা অনুকম্পা নয়। পুরুষ বা নারী হওয়া মর্যাদার মাপকাঠি নয়। কর্ম ও অবদানই ব্যক্তির মর্যাদার উৎস। তাই এ যুগেও যদি মর্যাদা লাভ করতে হয় তাহলে কর্মের ময়দানে আপনাকে আপন প্রতিভার স্বাক্ষর রাখতে হবে।
মা হাজেরার ধৈর্য ও কুরবানীর ইতিহাস কে না জানি! ক্ষুধা-তৃষ্ণায় কষ্ট করেছেন। বিজন মরুভূমিতে একাকী কোলের সন্তান নিয়ে জীবনযাপন করেছেন। তবু আল্লাহ তাআলার প্রতি সব সময় সন্তুষ্ট থেকেছেন। সমস্ত কষ্টক্লেশ হাসিমুখে বরণ করেছেন। আল্লাহ তাআলার সন্তষ্টির জন্য তাঁর পথে মোজাহাদার বিস্ময়কর ইতিহাস রচনা করেছেন। এ সব কাজের সওয়াব ও বিনিময় আল্লাহ তাআলার কাছে কী বিপুল হবে তা কী ভাবা যায়! তাঁর ব্যাপারে আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনের আয়াত নাযিল করেছেন। তাঁর সন্তানকে নবী বানিয়েছেন। তাঁকে সকল অলীদের জন্য আদর্শ সাব্যস্ত করেছেন। এসব অসামান্য প্রাপ্তির পরিবর্তে দুনিয়ার সামান্য কষ্টের কি কোনো তুলনা হয়!
এ কেবল একজন হাজেরা নন, ইতিহাসের পাতায় এমন বহু হাজেরা রয়েছেন যারা তাদের রবের সন্তুষ্টির জন্য দুনিয়ার সকল সুখ-ভোগ ত্যাগ করে কষ্টের জীবনকে সাদরে গ্রহণ করেছেন। দীনের জন্য নিজের সর্বস্ব উজাড় করে তারা রাব্বুল আলামিনের সন্তুষ্টি অর্জন করেছেন।
জন্ম ১৯৭০ সালের ১৬ জুলাই। ইসলামের বিখ্যাত সেনাপতি খালিদ ইবনে ওয়ালিদ (রা) এর বংশধর তিনি। মাত্র ৫০ বছর বয়সেই হয়ে উঠেছেন আরব জাহানের বিশিষ্ট বক্তা এবং লেখক। তিনি তার বক্তৃতা এবং লেখনীর মাধ্যমে আরবসহ পশ্চিমা বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন। হ্যাঁ! আমরা আর কারো কথা বলছি না, বলছি ড. মুহাম্মদ ইবনে আবদুর রহমান আরিফীর কথা। দাম্মামে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপ্ত করার পর সৌদি আরবের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চতর পড়াশোনা করেন তিনি এবং রিয়াদের বাদশাহ সৌদ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্জন করেছেন পিএইচডি ডিগ্রি। বিখ্যাত হাদীস বিশারদ শায়খ মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল, শায়খ আব্দুল্লাহ ইবনে কুউদ, শায়খ আব্দুর রহমান ইবনে নাসের আল-বাররাক প্রমুখ ব্যক্তিবর্গকে শিক্ষক হিসেবে পেয়েছেন মুহাম্মদ আরিফী। প্রায় পনেরো-ষোলো বছর ইবনে বায রহ. এর সাথে থাকার সৌভাগ্য হয় তার। তার জীবনের মূল উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর দাওয়াত দেওয়া। তাকে অনেক সময় ""দাওয়াত ইল্লাল্লাহ"" বলেও সম্বোধন করা হয়। তার বিভিন্ন স্থানে বক্তৃতা করার মূল কারণও এটি। বাজারে তার বক্তৃতায় অডিও-ভিডিও ক্যাসেট পাওয়া যায় যার দ্বারা উপকৃত হচ্ছে পুরো মুসলিম বিশ্ব। ড. মুহাম্মদ ইবনে আবদুর রহমান আরিফী বই রচনা করে চলেছেন মানবজাতির কল্যাণার্থে। ড. মুহাম্মদ ইবনে আবদুর রহমান আরিফী এর বই সমূহ প্রত্যেকটি বিক্রির সময় একটি আরেকটিকে ছাড়িয়ে রেকর্ড সৃষ্টি করেছে। ড. মুহাম্মদ ইবনে আবদুর রহমান আরিফী এর বই সমগ্র হলো ভার্সিটির ক্যান্টিনে, সুখময় জীবন উপভোগ করুন, তুমি সেই নারী, নবী-চরিত্রের আলোকে: জীবন উপভোগ করুন, রাগ করবেন না: হাত বাড়ালেই জান্নাত, কিতাবুল ফিতান, রোজা ও হজ্জের পয়গাম, নারী যখন রানী, তোমাকে বলছি হে বোন, আপনার যা জানতে হবে, রামাদান আল্লাহ’র সাথে সম্পর্ক করুন, যেভাবে মানুষকে আল্লাহর দিকে ডাকবেন ইত্যাদি।