বই রিভিউঃ পদসঞ্চার
ধরনঃ ঐতিহাসিক উপন্যাস
রেটিংঃ ৩.৫/৫
রিভিউঃ
নারায়ন গঙ্গোপাধ্যায়ের “পদসঞ্চার” উপন্যাসটির কথা জানতে পারি পাঠক সমাবেশে ছাড়ে বই কিনতে যাবার সময়। ষোড়শ শতাব্দীর প্রথমদিকের পর্তুগীজদের আগমনের পটভুমিতে রচিত এই উপন্যাসটি, যাদের উদ্দেশ্য বানিজ্য আর ধর্মপ্রচার। আর এর জন্য তারা রক্ত ঝড়াতেও প্রস্তুত। কাহিনী শুরু হয় শঙ্খদত্ত নামে এক বনিকের বানিজ্যযাত্রার মাধ্যমে, যার গন্তব্য সিংহল, কিন্তু পথে প্রেমে পড়ে শম্পা নামের এর দেবদাসীর, হরন করে তাকে। এদিকে রাজশেখর তার কিশোরী কন্যা সুপর্ণার আরোগ্য কামনায় দ্বারস্থ হয় সোমদেব নামে এক তান্ত্রিকের, যার প্রধান উদ্দেশ্য বিধর্মীদের শেষ করে আবার হিন্দু রাজ্য প্রতিষ্ঠা করা, তার জন্য সে ব্যবহার করে রাজশেখরকে। এদিকে ডি-মেলো নামে এক পর্তুগীজ নাবিক আর তার ভাগ্নে গঞ্জালো ধরা পড়ে চট্টগ্রামের নবাবের হাতে। একদিকে প্রেম, আরেকদিকে উগ্র জাতি ও ধর্মবিদ্বেষ, আর বিভক্ত সমাজে প্রসস্ত হয়ে যায় বিদেশীদের আগমনের রাস্তা। তাই এখানে কোন চরিত্রই ভাল নয়, আবার নয় খারাপ, সবাই নিজ নিজ সময় আর সমাজের হাতের পুতুল। এক দিকে টালমাটাল রাজনৈতিক পরিবেশ, আর তাই মধ্যে কিছু মানুষের বেঁচে থাকার কাহিনী এটা। লেখকের ভাষার কারুকাজ অসাধারণ, সাথে কিছু পর্তুগীজ শব্দের ব্যবহার যেন ঐ সময়ের আবহ এনে দেয়। কিন্তু কাহিনী কেমন যেন খাপছাড়া লাগে কিছু কিছু জায়গায়, আর লেখক চরিত্রদের বর্ণনা দেবার সময় যেন কিছুটা দূরত্ব বজায় রেখেছেন। এই নিরাসক্ত বর্ণনা লেখকের সাহিত্যিক ধরন হতে পারে, হতে পারে নিরপেক্ষ থাকার জন্য এই বর্ণনা। শেষটা একটু অম্ল-মধুর, আর শুরু আভাস দেয় এক অগ্নিগর্ভ যুগের সুচনার। তবে আমাদের ইতিহাসের এই সময়টা নিয়ে খুব কম বই লেখা হয়েছে, তাই এই বইটা আমার তেমন প্রিয় না হলেও, সেই সময়ের সমাজ ও ইতিহাস জানার জন্য আর কিছু ভাল সময় কাটানোর জন্য পড়ার মত একটি বই।