"হে মেয়ে যদি সুখময় জীবন গড়তে চাও" বইটির 'লেখকের আরজি' থেকে নেয়াঃ ইলমে দ্বীনের বিভিন্ন বিষয়ে তালীম ও তাবলীগের জন্য বহু গ্রন্থ লেখা হয়েছে। এসবের মাঝে এমনও আছে, যেগুলাে শুধু নারীজাতিকে উদ্দেশ্য করেই লেখা হয়েছে। আমার এ বইটিও এর ব্যতিক্রম নয়। মহান আল্লাহর অশেষ মেহেরবানি ও দয়ায় এবং আমার এক ঘনিষ্ঠ ও অকৃত্রিম বন্ধুর অনুরােধে এই গ্রন্থটি লেখা হয়েছে। ভাষা সহজ, প্রাঞ্জল ও সাবলীল রাখার চেষ্টা করেছি। বইটির অনেক জায়গায় সবসময় স্মরণযােগ্য বুযুর্গানে দ্বীনের কিতাব থেকে এবং আমারই লেখা বিভিন্ন গ্রন্থ থেকে প্রয়ােজন অনুপাতে চয়ন ও সংকলন করেছি। বইটি মােট বিশটি পাঠে বিভক্ত। শরীয়তের বিভিন্ন বিষয়ে উৎসাহ প্রদান করা এবং দ্বীন থেকে দূরে সরে থাকার ভয়াবহ পরিণতি সম্বন্ধে হুঁশিয়ার করাই এর মূল উদ্দেশ্য। আমি এ উভয় ধরণের বক্তব্য উপস্থাপন করতে সামনে রেখেছি দু’টি কিতাব। এক—মেশকাত শরীফ। দুই হাফেজ মুনযিরী রহ.-এর বিখ্যাত কিতাব ‘আততারগীব ওয়াত-তারহীব।' এ দুটো কিতাব থেকে চয়ন করে আমি আমার কিতাবের জন্য হাদীস নিয়েছি এবং সেগুলাের অনুবাদ করে কিতাবের বিষয়বস্তুও অন্তর্ভুক্ত করে নিয়েছি। তবে কিছু হাদীস এ দু’টো কিতাব ব্যতীত অন্য কিতাব থেকেও নেওয়া হয়েছে, সেগুলাের বর্ণনাকালে মূল কিতাবের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অন্য সব হাদীস উল্লেখিত দুটি কিতাব থেকেই নেওয়া হয়েছে। এ ক্ষুদ্র বইটি যদিও সবার জন্য উপকারী, কিন্তু এটি লেখা হয়েছে বিশেষ করে নারীদেরকে উদ্দেশ্য করে। তাই এতে এমন রচনাশৈলী গ্রহণ করা হয়েছে, যা নারীসমাজের জন্য অধিক উপকারী ও উপযােগী। বইটিতে প্রতিটি কথা ও বিষয় এমনভাবে আলােচনা করা হয়েছে, যাতে তারা সহজেই বুঝতে পারেন যে, কথাগুলাে তাদের উদ্দেশ্যেই বলা হচ্ছে।
(১৯২৫—২০০২) দক্ষিণ এশিয়ার ইসলামী চিন্তা-চেতনা ও ফিকহী-ঐতিহ্যের ধারক- বাহক এবং অন্যতম বিশিষ্ট আলেম ছিলেন। তিনি শাইখুল হাদীস যাকারিয়া কান্ধলভী রহ.-এর প্রখ্যাত শিষ্য এবং দারুল উলূম করাচির দারুল ইফতা বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন।
১৯২৫ সালে উত্তর প্রদেশের বুলন্দশহরে জন্মগ্রহণ করে তিনি মাদরাসা ইমদাদিয়াহ মুরাদাবাদ, জামে মসজিদ আলীগড় এবং মাযহারুল উলূম সাহারানপুরে শিক্ষা গ্রহণ করেন। উচ্চতর শিক্ষাজীবন সমাপ্তির পর তিনি ফিরোজপুর ঝিরকা, মুরাদাবাদ ও কলকাতার বিভিন্ন মাদরাসায় অধ্যাপনা করেন। ১৯৬৪ সালে তিনি দারুল উলূম করাচিতে যোগদান করেন এবং ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত সেখানে হাদীস-তাফসির পাঠদান ও ফতোয়া প্রদানের দায়িত্ব পালন করেন।
তাঁর রচিত ৭৫ টিরও অধিক গ্রন্থে ইসলামী সমাজতত্ত্ব, পারিবারিক নীতি, ফিকহ, আখলাক ও আত্মশুদ্ধির বিষয়বস্তু সুস্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য রচনাসমূহ হলো— তোহফা-ই-খাওয়াতীন, মারনে কে বাদ কেয়া হোগা, ইসলামী আদাব, হক্কুল ওয়ালিদাইন, আনওয়ারুল বয়ান, যাদুত তালিবিন ইত্যাদি।
মাওলানা আশেক ইলাহী বুলন্দশহরী রহ. জীবনের শেষ পর্বে মদিনায় হিজরত করেন এবং প্রায় পঁচিশ বছর সেখানে অবস্থান করেন। ২০০২ সালে তিনি ইন্তেকাল করেন এবং উনাকে জান্নাতুল বাকিতে দাফন করা হয়।