ডাক্তার লুৎফর রহমান বাংলা সাহিত্যের এক অমূল্য সম্পদ। তিনি সমাজ ও দেশের কল্যাণে নিবেদিত সাহিত্য রচনা করেছেন, যা মানুষকে চারিত্রিক বিকাশে অনুপ্রাণিত করে। মানব চরিত্রের উন্নয়নই সমাজ ও জাতির অগ্রগতির প্রধান মাধ্যম—এই সত্য তিনি তাঁর লেখনীতে সার্থকভাবে প্রকাশ করেছেন। প্রায় একশ বছর আগে তিনি যে চিন্তা ও মূল্যবোধের বীজ বপন করেছিলেন, তা আজকের আধুনিক যুগেও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। তাঁর রচনায় চারিত্রিক ও নৈতিক বিকাশ, মানবিক মূল্যবোধ, আত্মশুদ্ধি, নৈতিক শিক্ষা এবং সামাজিক ও নিঃস্বার্থ সেবার চেতনা সুস্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
বিশ্বের বহু খ্যাতিমান সাহিত্যিক আজ সমাজগঠনমূলক সাহিত্য রচনা করে স্বীকৃতি ও জনপ্রিয়তা অর্জন করছেন। অথচ এ পথের দিশা আমাদের সাহিত্য ভুবনে অনেক আগেই দেখিয়েছিলেন লুৎফর রহমান। সুশীল সমাজ গঠন ও জাতীয় চরিত্রের উন্নয়নের যে দিকনির্দেশনা আমরা আজ খুঁজে ফিরি, তার রূপরেখা তিনি বহু আগেই এঁকে গিয়েছিলেন।
আমাদের জাতীয় জীবনের অবক্ষয় রোধ ও মূল্যবোধ টিকিয়ে রাখতে তাঁর সাহিত্য পাঠ ও চর্চার বিকল্প নেই। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, তিনি জাতীয় কবির মর্যাদা পাননি এবং তাঁর রচনা সর্বস্তরে মূল্যায়িত হয়নি। যদি তাঁর আদর্শ আমাদের জাতীয় সত্তায় প্রোথিত হতো, তবে আমরা নবউন্নত বা উন্নয়নশীল স্তরে নয়—বরং উন্নত বিশ্বের কাতারেই অবস্থান করতে পারতাম।
তবে এখনও সময় শেষ হয়ে যায়নি। দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, তাঁর রচনা যদি পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়, তবে নতুন প্রজন্মের চরিত্র গঠনে তা বিশেষ ভূমিকা রাখবে। সেই সাহিত্যই আমাদের জাতিকে উন্নতির পথে পরিচালিত করবে, যাতে আমরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়াতে পারি উন্নত বিশ্বের সমকক্ষ হয়ে।
Was this review helpful to you?
By Mohammad Mazedul Islam, Jul 5, 2018
Verified Purchase
মানুষ হিসেবে বড় হয়ে উঠতে চাইলে, খুবই দরকারী বই। যখন ছোট ছিলাম তখন বুঝতে পারিনি। কিন্তু ধীরে ধীরে বোধগম্য হয়েছে ডা: লুৎফর রহমান’র কথাগুলো। বিশেষ করে উঠতি যুবক-যুবতীদের জন্য, হতাশাগ্রস্থ মানুষদের জন্য বইটি খুবই জরুরী।