প্রি-অর্ডারের এই পণ্যটি 14 Apr 2026 তারিখে প্রকাশ পেতে পারে বলে প্রকাশনী থেকে জানানো হয়েছে। তবে বিশেষ কোন কারণে প্রকাশিত হওয়ার তারিখ পরিবর্তন হতেও পারে.
ফরাসি দার্শনিক রোলাঁ বার্ত 'শোকের দিনলিপি' লিখতে শুরু করেছিলেন মায়ের মৃত্যুর পর। মা হারানোর বিষাদ পাগল করে দিয়েছিল রোলাঁ বার্তকে। সেই শোক কি সামলে উঠতে পেরেছিলেন তিনি পরবর্তী জীবনে? সম্ভবত পারেননি। তবে 'শোকের দিনলিপি' লিখতে লিখতে রোলাঁ বার্তের ভেতর জাগরণ ঘটেছিল সম্পূর্ণ আলাদা এক বার্তের। এই বইয়ের প্রতিটি ভুক্তিতে পাওয়া যাবে নতুন সেই বার্তকে, নতুন এক দার্শনিক বার্তকে।
'ডেথ অব দি অথর'-এর লেখক রোলাঁ বার্ত মারা যান মায়ের মৃত্যুর তিন বছরের মধ্যে, ১৯৮০ সালে। ওই বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি প্যারিসের রাস্তা ধরে বাসায় ফেরার সময় লজি ভ্যানের ধাক্কায় বুকে আঘাত পান বার্ত। সেই ধাক্কা সামলে উঠতে পারেননি তিনি। মারা যান ২৫ মার্চ। মনে পড়ে জীবনানন্দ দাশের মৃত্যু, অন্যমনস্কতা ও বিষণ্ণতা। পাঠক কীভাবে একাত্মা হবেন এই বইয়ের সাথে, এই বইয়ের দুঃসহ দার্শনিক যন্ত্রণার সাথে?
প্রভাবশালী ফরাসি দার্শনিক রোলা বার্ত (১৯১৫ -১৯৮০) একাধারে সাহিত্যতাত্ত্বিক ও সমালোচক। কাঠামোবাদ, উত্তর-কাঠামোবাদ, চিহ্নস্তত্ত্ব, অস্তিত্ববাদ, সমাজতত্ত্ব ও মার্ক্সবাদ নিয়ে এখনকার আলোচনা তাঁর উল্লেখ ছাড়া অপূর্ণই থেকে যায়। যে রোলা বার্তকে বিশ্ব চেনে-জানে শোকের দিনলিপির বার্ত তার থেকে একেবারেই আলাদা। ইনডেক্স কার্ডে নোট রাখার অভ্যাস ছিল বার্তের। ১৯৭৭ সালে মায়ের মৃত্যুর পর বার্তকে গ্রাস করেছিল নিঃসঙ্গতা ও বিষাদ। সেই বিষাদের আচ্ছন্নতার দিনগুলোতে ইনডেক্স কার্ড একের পর নেট রাখছিলেন তিনি, কিংবা লিখছিলেন দিনলিপি। একটা ঘোরগ্রস্ততার মধ্যে তিন শতাধিক কার্ডে নোট রেখেছিলেন বার্ত। সেগুলোই তাঁর মৃত্যুর অনেক পরে ২০০৯ সালে প্রকাশিত হয় পুস্তক আকারে। বিশ শতকের মহত্তর চিন্তকদের একজনের মা হারানোর এবং পরিণত বয়সে নিঃসঙ্গ হয়ে যাওয়ার অন্তরঙ্গ উপলব্ধি এবং গভীরতম অনুভবগুলো একেবারেই অচিন্তনীয়। যে বার্ত এই বইয়ে আছেন তিনি একেবারেই অন্য এক মানুষ এবং অন্য এক দার্শনিকও। যে কারণে এই বই বার্তিয়ান নির্ভাষ, বিষাদ, দর্শন, সত্তা, শূন্যতা ও মনস্তত্ত্বের এক গহন-পুস্তক।