আনোয়ার হোসেন খানের লেখা ’সহজ পদ্ধতিতে হাঁস মুরগি পালন’। হাঁস মুরগি পালনে বাংলাদেশ যথেষ্ট জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। হাঁস পালনের উপকারিতা- হাঁসের ডিম ও মাংস প্রাণীজ আমিষের অন্যতম উৎস। হাঁসের ডিম ও মাংস বিক্রি করে পরিবারে বাড়তি আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করা সম্ভব। হাঁসের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি এবং প্রতিকূল পরিবেশে মানিয়ে চলতে পারে। হাঁস ও মাছের চাষ এক সাথে করা যায়। হাঁস হাওর-বিল, ডোবা-নালা ও ধানের জমিতে নিজেরা চরিয়ে খেতে পারে। এর ফলে হাঁসের প্রাকৃতিক খাবারের অভাব হয় না। হাঁসের বিষ্ঠা ভালোমানের জৈব সার। মুরগি পালন হচ্ছে এমন একটি ব্যবসা যেখানে অল্প দিনে ভালো আয় করা সম্ভব। মুরগির ডিম ও গোশত শুধু সুস্বাদু নয় আমিষ সমৃদ্ধ খাদ্য। মুরগি পালন করলে পরিবারের খাদ্য চাহিদা পূরণ করার পাশাপাশি বাড়তি আয়ের সুযোগ সৃষ্টি হয়। বর্তমানে শহর, উপ-শহর এবং গ্রামেও বাণিজ্যিক ভিত্তিতে মুরগির খামার গড়ে উঠছে। বসত বাড়িতে মুরগি চাষ হচ্ছে একটি সহজ এবং লাভজনক কাজ। বাড়ির গৃহিণীরা খামার স্থাপন ও পরিচালনা করতে পারে। পারিবারিক এই খামারে ডিম পাড়া মুরগি ছাড়াও ব্রয়লার মুরগি চাষ করা যায়। এ অভিজ্ঞতা পরবর্তীতে বাণিজ্যিক খামার প্রতিষ্ঠায় কাজে লাগে। ১ দিন বয়সের বাচ্চা ৮ সপ্তাহ বা ২ মাস পর্যন্ত পালন করা হয়। ১-২১ দিন বয়স পর্যন্ত বাচ্চা ব্রুডিং হাউজে পালন করা হয়। এর জন্য আলাদা ঘর তৈরি করতে হয়। বাচ্চা পালন ঘরেও ব্রুডিং হাউজ তৈরি করা যায়। ঘরের ভিটা বেলে বা দোঁ-আশ মাটি দিয়ে করতে হবে। মেঝে সিমেন্টের প্লাস্টার দিয়ে করতে পারলে ভালো হয়। প্লাস্টার করা না গেলে হাড়ি ভাঙ্গা খোয়া বালু দিয়ে পিটিয়ে শক্ত করে দিতে হবে এবং উপরে এঁটেল মাটি ও গোবর দিয়ে লেপে দিতে হবে। এর ফলে ইঁদুরের আক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে।