38 verified Rokomari customers added this product in their favourite lists
TK. 300TK. 279 You Save TK. 21 (7%)
"প্রাচীন মিশর" বইটির পূর্বাভাষ অংশ থেকে নেয়াঃ
মিশরের স্বপ্নময় অতীতকে আবিষ্কার করে মিশর তত্ত্ববিদেরা এমন একটি ‘লস্ট অ্যাটলানটিস’-এর সন্ধান দিয়েছিলেন, যেখানে মান
মিশর নিয়ে আমাদের জল্পনা কল্পনার শেষ নেই। সুবিশাল গিজার পিরামিড, পাহারারত স্ফিংকস, তুতেনখামেনের মমি, ক্লিওপেট্রার সৌন্দর্য কিংবা ইখনাটনের স্তোত্র- মিশরের ইতিহাসে ডুব দেয়ার মত টপিক সীমাহীন। মিশরীয় সভ্যতার শুরু খ্রিস্টের জন্মেরও সুদীর্ঘ চার হাজার বছর পূর্বে! এতেই বুঝা যায় কতটা বিস্তৃত এ সভ্যতার ইতিহাস।
শচীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় তাঁর বাকি দুটি বইয়ের মত (প্রাচীন ইরাক ও প্রাচীন প্যালেস্টাইন) 'প্রাচীন মিশর' বইটিতেও মিশরীয় ইতিহাসের সুলুকসন্ধান করেছেন। বইটিতে স্থান পেয়েছে প্রাচীন মিশরের রাজনৈতিক পটভূমি, শিল্প ও ধর্ম।
বইয়ের আকর্ষণীয় কিছু বিষয় হিসেবে আমি বলবো রোজেটা পাথরের কাহিনী, কিভাবে দুই মিশর এক হলো, মিশরীয় লিখনপদ্ধতি ও চিত্র নিয়ে আলোচনা, অসিরিসের মিথ, নুট গেব ও সু এর বর্ণনা, খুফুর পিরামিড, খাফরের স্ফিংকস, কারনাকের হাইপোস্টাইল হল, কারনাকের মন্দির, হাতসেপসুতের ওবেলিস্ক, রামেসিয়াম ইত্যাদি স্থাপত্যের কথা।
আমি বরাবরই ইতিহাসের শৈল্পিক ও ধর্মীয় পটভূমির চেয়ে রাজনৈতিক পটভূমির ওপর জোর দিই (যদিও দুটোই রিলেটেড)। সেই হিসাবে বইটিতে মিশরীয় রাজনীতির আলোচনা কম ছিল।
মেনেসের রাজত্ব শুরুর পর চতুর্থ (খুফু, খাফরে, মেনকারে), ষষ্ঠ (২য় পেপি), ১২তম (আমেনেম হেট, সেনুসার্ট), ১৮তম (১ম আমেনহোটেপ, হাতসেপসুত, ৩য় থাটমোস, ২য় আমেনহোটেপ, ইখনাটন, তুতেনখামেন) ও ১৯তম (১ম সেটি ও ২য় রামেসিস)- এ কয়টি রাজবংশ নিয়ে ডিটেলড আলোচনা আছে। কিন্তু এর বাইরে বাদবাকি রাজবংশ গুলো উপেক্ষিত। হিকসোস শাসনও তেমন আলোচিত হয়নি। টলেমিকদের ৩০০ বছরের ইতিহাস এক প্যারায় শেষ! হয়ত বইয়ের কলেবর যথাযথ রাখার জন্যই।
তবে রাণী হাতসেপসুতকে নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা আমার নজর কেড়েছে। নেফারতিতি ও ক্লিওপেট্রার বাইরে মিশরীয় সম্রাজ্ঞীদের ব্যাপারে জানতাম না বললেই চলে।
বইটিতে মিশরীয় শিল্প ও ধর্ম নিয়ে চমৎকার আলোচনা আছে। তৎকালীন মিশরের ধর্ম, পুরোহিতদের দাপট, সামাজিক জীবনে এর প্রভাব, বিভিন্ন রীতি- আচার (বইটিতে দেবসেবিকার নামে যৌনবৃত্তি, পশু সংসর্গের মত ঘৃণ্য আচার নিয়েও বলা হয়েছে), ফারাও-পুরোহিত সংঘর্ষ নিয়ে যেমন লেখা আছে, তেমনি লেখা আছে বিভিন্ন স্থাপত্য, মন্দিরের গঠন, বিভিন্ন ভাস্কর্য ও মূর্তি নির্মাণ প্রক্রিয়া (যেমন ল্যুভরের বিখ্যাত Scribe ও কায়রো মিউজিয়ামের সেখ-এল-বেলেদ), মিশরীয় চিত্রকলার ব্যাখা ইত্যাদি নিয়ে। বিশেষ করে লেখক রাণী হাতসেপসুত, ৩য় থাতমোস, ২য় রামেসিস, ইখনাটন, ১ম পেপি, খাফরু প্রভৃতি ফারাওয়ের মূর্তি নিয়ে এমনভাবে আলোচনা করেছেন যে পড়লে মনে হবে আমি সেই মূর্তির সামনেই আছি।
এছাড়া মিশরীয়দের আজগুবি চিকিৎসা ব্যবস্থা নিয়েও বলা হয়েছে। যদিও বিজ্ঞানের বিষয়টা তেমন আসেনি।
শচীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় ইখনাটন ও তাঁর এটন উপাসনার পিছনে ভালোই সময় দিয়েছেন। মিশরের বহুত্ববাদ ও প্রকৃতিপূজার ভিত্তিতে চরম আঘাত ছিলো ইখনাটনের এই চাপিয়ে দেয়া নতুন ধর্ম। যদিও তা ফলপ্রসূ হয়নি।
বইয়ের নেগেটিভ আরেকটি দিক হলো বইটিতে মিশরীয় দেবতাদের নিয়ে তেমন আলোচনা নেই বললেই চলে। রা ও আসিরিসের বাইরে বাকিদের নিয়ে দু লাইনের বেশিকিছু বলা হয়নি। এছাড়াও বইটা নতুন সংস্করণ হওয়ায় (মূল বই ১৯৫৯ সালের) মূল বইয়ের ছবিগুলোর অধিকাংশই ঝাপসা ও অস্পষ্ট। ফলে আপনি পড়বেন কিন্তু দেখতে হলে যেতে হবে গুগলের কাছে!
সবমিলিয়ে আমার রেটিং ৪/৫। আরেকটু বেশি আশা করেছিলাম। তবে যা পেয়েছি তা মন্দ না। মিশর নিয়ে জ্ঞান শূন্য থেকে একটু বাড়লো।
বই- 'প্রাচীন মিশর'।
লেখক- শচীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়
প্রকাশনী- দিব্যপ্রকাশ
পৃষ্ঠা সংখ্যা - ১৯২
মুদ্রিত মূল্য - ৩০০/-
Was this review helpful to you?
By Ayan Chowdhury, Dec 30, 2020
Dam onusare onek kom prista kintu, boiti bhalo o genmulok,