প্রদীপ দেব মূলত বিজ্ঞানের মানুষ। লিখেন বিজ্ঞান ও বিজ্ঞানীদের নিয়ে। পেশাগত জীবনেও দেখা যাচ্ছে শিক্ষকতায় যুক্ত আছেন অস্ট্রেলিয়ার স্বনামধন্য একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে। ফলে সাধারণ ভ্রমণ পিপাসীদের দৃষ্টির সাথে জুটে গিয়েছে লেখকের বিজ্ঞান পিপাসী দৃষ্টি। ভ্রমণ কাহিনী এখন আর নেহাত গেলাম, খেলাম, ঘুরলাম, আড্ডা দিলাম-এ সীমাবদ্ধ নেই অনেকদিন ধরেই। এটি এখন ‘কাহিনীর’ গণ্ডি পেরিয়ে ‘সাহিত্যের’ গণ্ডিতে পৌঁছে গিয়েছে। প্রদীপ দেব'এর “ম্যান্ডেলার দেশে”ও নেহাত এলাম, খেলাম, ঘুরলাম-এ সীমাবদ্ধ থাকেনি। লেখকের ঘুরে বেড়ানো স্থানগুলোর ঐতিহাসিক কাহিনীও উঠে এসেছে প্রাসঙ্গিক আলোচনায়। রাষ্ট্র, সমাজ, দেশ এসব নিয়ে, শাসন ব্যবস্থা নিয়ে কিছু পড়তে গেলেই মনে আসে কার্ল মার্কস-এর অমর বাণী। তিনি বলেছিলেন-রাজনীতি হচ্ছে শ্রেণী নিপীড়নের হাতিয়ার। দক্ষিণ আফ্রিকায়ও এর ব্যত্যয় ঘটেনি। দক্ষিণ আফ্রিকার রাজনীতিও আবর্তিত হয়েছে শ্রেণী নিপীড়নের হাতিয়ার হিসেবেই। কৃষ্ণাঙ্গদের জমির অধিকার থেকে বঞ্চিত করতে রাজনীতিবিদরা সেখানে ৮৬ টি ভূমি আইন পাশ করেছিলো। যেসব আইনের মাধ্যমে জনসংখ্যার ৭৪ ভাগ কৃষ্ণাঙ্গকে সীমাবদ্ধ করে ফেলা হয়েছিলো ১৩ ভাগ জমিতে। আইন করে দেয়া হয় কালোদের সাথে সাদাদের বিয়েতো দূরের বিষয়, কোনরূপ সম্পর্কই রাখা যাবে না, কালোরা নির্বাচনে দাঁড়াতে পারবে না, ভোট দিতে পারবে না......। ‘না’-এর কোন সীমা পরিসীমা ছিলো না। যেসবের প্রতিবাদ করতে গিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়ে যায় নেলসেন ম্যান্ডেলার। এসব কাহিনীর চমৎকার বর্ণনা আছে প্রদীপ দেব-এর “ম্যান্ডেলার দেশে” বইতে। প্রাসঙ্গিক এসব ইতিহাসের ছোঁয়ায় এলাম, খেলাম, ঘুরলামকে ছাপিয়ে বইটিকে করে তুলেছে বেশ প্রাণবন্ত, বাড়িয়ে দিয়েছে এর সাহিত্য মূল্যও।