মাহবুব রেজার লেখা ‘মুক্তিযুদ্ধের এক ডজন কিশোর গল্প’ বইটিতে রয়েছে- যুদ্ধে যাবার দিন , এই গল্পটা মুক্তিযুদ্ধের , অন্য ছেলেটা , বংশালের নাদের গুণ্ডা, এক কবির গল্প, ভূতেরা কেমন হয় , বেহালা, আমি তোমার বন্ধু হতে চাই, বালিকা কৃষ্ণকুমারী, ইউক্যালিপটাস, হাড়ের বাঁশি, সুইপার কলোনি, রঞ্জুদের বাড়ি-শীর্ষক গল্পগুলো। প্রথম গল্প ’যুদ্ধে যাবার দিন’ পড়লে আমরা বুঝতে পারবো মুক্তিযোদ্ধারা কতটা বুদ্ধির সাথে যুদ্ধটাকে হ্যাণ্ডেল করেছেন- ‘উঠোনের মধ্যে সজল কাকা আর মহেশ কাকাকে দেখে বাবা বললেন, তোরা এত দেরি করলি যে!
-বাজারে একটা মিটিং ছিল-মিটিং শেষ করে আসতে আসতে দেরি হয়ে গেল ৷
-কিসের মিটিং?
-গ্রামের মানুষজন বলাবলি করছে নদীর ওপারে নাকি পাকিস্তানী সৈন্যরা দু’চারদিনের মধ্যে এসে পড়বে ৷ যদি ওরা চলে আসে তাহলে গ্রামের মানুষের কী হবে?
বাবা সজল কাকা আর মহেশ কাকার কথা খুব মনোযোগ দিয়ে শুনলেন ৷ তারপর বললেন, যুদ্ধ শুরু হবার পর একথা অনেক শুনেছি ৷ এ অনেক পুরনো কথা৷ যুদ্ধের গতি-প্ৰকৃতি যেভাবে দ্রুত পাল্টাচ্ছে তাতে যেকোনো সময় পরিস্থিতি পাল্টে যেতে পারে-বলে বাবা। পাঞ্জাবীর পকেট থেকে একটা কাগজ বের করে সজল কাকা আর মহেশ কাকার সামনে মেলে ধরলেন, দেখো, আমরা মুক্তিবাহিনীর সঙ্গে বসে একটা মানচিত্র তৈরি করেছি, পাকিস্তানীদের যারা পথঘাট চিনিয়ে আমাদের গ্রামে নিয়ে আসবে তাদেরকে চিহিতে করতে হবে আগে৷ তারপর এই মানচিত্র অনুযায়ী ওদের বিরুদ্ধে আমরা যুদ্ধ করবো ৷ বাবার হাতের কাগজে আঁকা মানচিত্রের ওপর ঝুঁকে পড়লেন সজল কাকা৷ মহেশ কাকাও ৷ মানচিত্রটা ভাল করে দেখে প্রথমে সজল কাকা বাবাকে বলল মোশাররফ ভাই, মানচিত্র অনুযায়ী আমরা যদি পাকিস্তানী সৈন্যদের ব্লক করে দিতে পারি তাহলে ওরা আর নদী পার হয়ে আমাদের গ্রামে ঢুকতে পারবে না।”
বইটির অন্য গল্পগুলোও সুখপাঠ্য।