মিথোলজির গল্প পড়তে আমরা অনেকেই ভালবাসি। কিন্তু মিথের সাথে একটা সমাজের ,সভ্যতার, ঐতিহ্যের যে সম্পর্ক –তা ধরতে পারি ক’জন! লেখক শিমুল মাহমুদের লেখা ’মিথ- ঐতিহ্য সমাজ ও সাহিত্য’ বইটিতে এই সমস্ত কিছুর মধ্যে যে সম্পর্ক , যোগসূত্র তা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। মানব প্রজন্মের জাতিগত অভিজ্ঞতার পুঞ্জীভূত সাংকেতিক প্রকাশই মিথ বা পুরাণ। বিকাশগত স্তরসমূহ জড়িয়ে থাকে সেই স্তরসমূহের ব্যাখ্যা বা পাঠ উদ্ধার সম্ভব মিথ বা পুরাণের আলোকে। মানব-পরিবার তাদের হাজার বছরের জীবন -প্রবাহের প্রতিটি লড়াই অথবা দৈনন্দিন জীবনে টিকে থাকার প্রচেষ্টাকে চেতনায় ধারণ করে তা অভিজ্ঞতায় ও প্রজ্ঞায় রূপান্তরিত করে সেই লব্ধ অভিজ্ঞতা পরবর্তী জেনারেশনের কাছে পৌঁছে দেবার অনিবার্য আকাঙ্ক্ষায় বংশপরম্পরায় তাকে বাঁচিয়ে রাখে। এই যে অভিজ্ঞতালব্ধ জ্ঞাণের জগৎকে বাঁচিয়ে রাখার বহমান কৌশল, এই কৌশল প্রধানত ভাষাকেন্দ্রিক; এই ভাষা হাজার বছরের মানব অভিজ্ঞতাকে ধারণ করতে গিয়ে হয়ে উঠে কখনও-বা রূপক গল্প, কখনও-বা স্বর্গীয় বাণী। মানব-পরিবারে ক্লাসিক লিটারেচর মানেই ধর্মীয় গ্রন্থ; কেননা ক্লাসিক লিটারেচরগুলো শুধু একজন মানুষের প্রজ্ঞা, অনুভূতি ও জ্ঞাণকেই ধারণ করে না,বরং তা ধারণ করে হাজারো মানুষের গোষ্ঠীগত চেতনার প্রজ্ঞালব্ধ জ্ঞাণের জগৎ, যা তারা বংশপরম্পরায় বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে অর্জন করেছে। সুতরাং আমরা আজ আধুনিক বিশ্বে বাস করলেও আমাদের ফিরতে হচ্ছে মিথের কাছে ; ধর্মের কাছে। ধর্ম মানবগোষ্ঠীকে যেভাবে পথ নিদের্শনা দিয়ে থাকে আধুনিক মানবসভ্যতা আজও সেই হাজার জীবনের পরীক্ষিত বিধিবিধানের উপর নির্ভর করে আসছে; আবার এ কথাও ঠিক মানব প্রজন্ম তার প্রয়োজনেই চিরায়ত বিশ্বাসের সংজ্ঞে যোগ করে নেয় সময়োপযোগী দৈনন্দিন সত্য; ফলে সংগত কারণেই মিথ মানবজীবনের প্রয়োজনের সঙ্গে সংগতি রক্ষা করে বির্বতিত হয়।