পারুল স্কুলে ভর্তি হওয়ার পরেই মুন্নি ও তানিয়া ঈর্ষাকাতর হয়ে পড়ে। মুন্নির ভয়, ক্লাসের প্রথম স্থানটি পারুলের দখলে চলে যায় কিনা। অথচ পারুল কখনোই ক্লাসের প্রথম স্থানের ব্যপারে মাথা ঘামায় না। সে মনে করে ক্লাসে প্রথম হওয়াটাই শিক্ষার উদ্দেশ্য নয়। মানুষের শারীরিক, মানসিক বিকাশের পাশাপাশি মানুষের কল্যাণের জন্যই শিক্ষা হওয়া উচিৎ। অলৌকিক ঘটনার মত আশ্চর্য ঘটনা সে ঘটায় নাসিমা নামে এক হতদরিদ্র ছাত্রীর জীবনে। অবিকশিত তুখোড় এক মেধাবী ছাত্রিকে যে কিনা সব সময়ই ফেল করত তাঁকে গাইড করে শুধু স্কুলে না জাতীয় পর্যায়ে প্রতিষ্ঠিত করায় পারুল। নাসিমার বিয়ে ভাঙায় কৌশলে এক গায়েবি চিঠির মাধ্যমে। এছাড়াও তার নেতৃত্বে দুঃসাহসিক গা শিহরিয়া ওঠার মতো এক অভিযানে নামে তার বান্ধবীরা।
মোজাম্মেল হক নিয়োগী’র কিশোরী উপন্যাস ‘স্কুলের সেইসব দিন’কে উপস্থাপনের জন্য উপরের কথাগুলোই যথেষ্ট বোধ করি। আমিও গুরুত্বের সাথেই ‘কিশোরি’ শব্দটিকে ব্যবহার করছি কারণ এই উপন্যাসের পুরোটা জুড়ে আছে মেয়েদের গল্প। হ্যাঁ, মেয়েরা পেছনে পড়ে থাকবে কেন? সাহস, বুদ্ধি ও কৌশলের মাধ্যমে কিশোরীরাও সমাজে কত বড় অবদান রাখতে পারে তার অন্যতম উদাহরণ ‘স্কুলের সেইসব দিন’।
বর্তমান বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার ব্যপারে অনেক কথাই হয়েছে। পরিবর্তন আসেনি। কিন্তু মোজাম্মেল হক নিয়োগী’র ‘স্কুলের সেইসব দিন’ পড়ে আমি সত্যিই অবাক হয়েছি, পরিবর্তনের এমন সুন্দরতম সহজ প্রক্রিয়ায়। লেখক এই উপন্যাসের কাহিনী নিয়ে এগিয়েছেন খুবই সতর্কতার সাথে। কারণ তিনি একটি সামাজিক দায় কাঁধে নিয়েছেন। অনেক অনেক ‘ভালোলাগা’র লেখকের মধ্যে আমিও এখন আশা রাখি কিছু কিছু ‘দায় মোচন’ এর লেখক দরকার একটা সমাজের জন্য। এবং এটি বাংলাদেশের এই মারাত্মক সময়ে খুব খুব অনুপস্থিত।
মোজাম্মেল হক নিয়োগী লেখক হিসেবে নতুন নন। লেখক হওয়ার মনোবাসনা থেকে নয়, লেখালেখি করেন দায়বদ্ধতার তাড়নায়। মানুষ, রাজনীতি, মুক্তিযুদ্ধ, ভাষা আন্দোলন, ঐতিহ্য ইত্যাদি বিষয়ে এখনো লিখে চলেছেন শতাধিক গ্রন্থের এই জনক।