9 verified Rokomari customers added this product in their favourite lists
TK. 200TK. 160 You Save TK. 40 (20%)
"দুয়ার হতে দূরে" বই নিয়ে কিছু কথা:
বইটির একেবারে শেষাংশে লেখক জানাচ্ছেন, ‘কৈশোরের সমাপ্তি এখানেই। আবার যদি কখনো...। ’ হ্যাঁ, নিশ্চয়ই আবার তিনি লিখবেন। এখানেই তাঁর আত্মজী
হাসান আজিজুল হকের “দুয়ার হতে দূরে” আত্মস্মৃতির চতুর্থপাঠ। হাসান আজিজুল হককে বলা হয় বাংলা ছোট গল্পের রাজপুত কথাসাহিত্যিক। তার গ্রন্থতালিকার মধ্যে রয়েছে গল্প, উপন্যাস, উপন্যাসিকা, প্রবন্ধ, আত্মজীবনী, নাটক, অন্যান্য। এই বইটিতে তিনি তার আত্মস্মৃতি তুলে ধরেছেন। বইটি আত্মস্মৃতি হলেও এখানে ধরাবাঁধা কথোপকথন নেই, বরং তিনি তার আত্মস্মৃতি অতি চমৎকার ভাবে গল্পের মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলেছেন। বইটি পড়তে পড়তে যেন মন হলো কোন একটি উপন্যাস পড়ছি। এই বইটির লিখনিতে রয়েছে গল্পের কাঠামো, উপন্যাসের কৌশল। তিনি অতি সচেতন ভাবে ব্যক্তিক স্মৃতিকে অতি চমৎকার ভাবে শৈল্পিক ভাবে উপস্থাপন করেছেন।
সাত আট বছরের একটি ছেলে তার ভালো লাগে মেয়েদের সাথে মিশতে,গল্প করতে, মেয়েদের চারপাশে থাকতে। সে তার বয়সী ছেলেদের সাথে খেলাধুলা করার থেকে মেয়েদের গল্প শুনতে বেশি পছন্দ করতো। গ্রামের বাড়িতে সন্ধ্যায় মহিলাদের মজলিশ বসতো । বৌ-ঝি-রা, যুবতী কুমারী বিধবা বড় বোন, ফুফুরা সারাদিন কাজের পর সন্ধ্যা একত্রিত হত। লেখকের পাশের বাড়ির পুবের বারান্দায় বসতো এই মজলিশ। আর লেখক সন্ধ্যায় বাসায় ফিরে বই নিয়ে পড়তে না বসে পাশের বাড়ির এই মজলিশের পাশে গিয়ে বসতো। বারান্দায় পা ঝুলিয়ে বসে তাদের গল্প শুনতো। লেখক কোন কথা বলতো না শুধু শুনতো। মেয়েরা যে তার উপস্থিতিতে বিরক্ত হত তা না। বরং তারাও বেশ খুশি হতো সে আসাতে। সেই মজলিশের গল্পগুলো শুনতে লেখকের বেশ ভালো লাগতো। সেই সব দিন গুলোকে লেখকের মনে হতো এতো শান্তি মানুষ এর জীবনে, এতো আনন্দ মানুষের গন্ধে, সান্নিধ্যে, কথায়।