একটি কবিতা স্বার্থক হয়ে উঠে তখনই, যখন এটি জীবনের অদেখা অংশকে আমাদের সামনে দৃশ্যমান করে তুলতে পারে। সেদিক থেকে এই বইয়ের প্রতিটি কবিতাই সফল ও স্বার্থক। পাঠক প্রতিটি কবিতায়ই নতুন স্বাদ খুঁজে পাবেন বলে আমার বিশ্বাস। অধিকাংশ কবিতাই আধুনিক কবিতার প্রচলিত ধারা থেকে আলাদা। যদিও কিছু কবিতায় গত শতাব্দীর মধ্যভাগে রচিত কবিতার রীতি অনুসরণ করা হয়েছে বলে মনে হয়েছে। এতে কবিতার সৌন্দর্য্য বেড়েছে বৈ কমেনি। বইয়ের প্রেমের কবিতাগুলোর কথা আলাদা করে না বললেই নয়। একেকটি কবিতা যেন একেকটি মহাকাব্যের কাব্যিক সারাংশ। কবির কিছু কবিতায় প্রাচীন বুলগেরিয়ান সাহিত্যের ছাপ আছে। জীবনানন্দের কবিতারও ছাপ আছে কিছুটা। কবিকে এসব ব্যাপারে সচেতন হতে হবে। কারণ নিজস্বতা একজন সফল কবির অন্যতম বৈশিষ্ট্য। পরিশেষে বলা যায়, সমসাময়ীক বাংলা সাহিত্যে কবিতার যে খরা চলছে তার মাঝে দাঁড়িয়ে এই অনবদ্য বইটি কাব্যের জয়গানই উচ্চারণ করবে।বইটির কবিতা সম্পর্কে লেখক বলেন, ‘এতে সর্বমোট ৫৬টি কবিতা রয়েছে। কবিতাগুলো মূলত প্রেম ও বিরহকে উপজীব্য করে লেখা। সব মিলিয়ে পাঠকদের নিজের সামনে নিজেকেই দাঁড় করাবে কবিতাগুলো।’ বইয়ের বেশির ভাগ কবিতাই মাত্রাবৃত্ত ও স্বরবৃত্ত ছন্দে লেখা। আমার ব্যক্তিগতভাবে মনে হয়, এ দু’টি ছন্দের, বিশেষ করে স্বরবৃত্তের তাল-লয়ের ক্ষেত্রে কানই প্রধান বিচারক। কানই বলে দেয় কোথাও মাত্রার পতন হলো কি না। সে ক্ষেত্রে কবির কান আগামীতে আরও মনোযোগী হবে পাঠক হিসেবে এ দাবি আমরা করতেই পারি।