কবিতায় কবির বেদনার স্বাক্ষর থাকে। এ বেদনা হতে পারে বহুমাত্রিক। কবিতায় তা মূর্ত করে তোলার সক্ষমতার ভেতরেই কবির প্রধান সার্থকতা নিহিত। চলতি বইমেলায় প্রকাশিত মহাদেব সাহার ‘মাটির সম্ভার’ কাব্যগ্রন্থে দেখা যায় বেদনার স্বাক্ষর। এ বেদনা বহুমাত্রিক হলেও এর কেন্দ্রে রয়েছে স্বদেশের স্মৃতি। এই স্মৃতি আলোচ্য গ্রন্থের কবিতাগুলোর প্রত্যেক ছত্রে সঞ্চারিত। কবিতার ছত্রে সঞ্চারিত এসব বেদনা মন্থন আর স্মৃতিগুলো সহজেই পাঠকের মনন ও স্মৃতির সঙ্গে একাত্ম হয়ে যায়।
এই একাত্মতার মাধ্যমেই প্রমাণিত হয় সেই কবি, যিনি আজ বহু বছর হলো জনপ্রিয়। পাঠকের মননের সঙ্গে এই একাত্মতার জন্য তিনি সহজেই সঞ্চার করতে পারেন তাঁর লুকানো অশ্রু। বেদনাবিধুর একেকটি পঙিক্ত নিয়ে মাটির সম্ভার সন্নিবেশিত। বেদনাহত কবির মনে প্রতি মুহূর্তে জেগে ওঠে মাতৃভূমির পবিত্র স্মৃতি, মাতৃভূমির ধূলিকণার পবিত্র স্পর্শ। এই স্পর্শ কবিকে শিহরিত করে। কবি যেন স্বপ্নচালিত হয়ে যান। আর খুঁজে বেড়ান সেই মাটির গন্ধ, ডুবে যেতে চান হারানো অনুষঙ্গের গভীরে। কবিতাগুলোতে এভাবেই ফুটে উঠেছে আবহমান বাংলার চিত্র। এবং সবগুলোর সঙ্গে কবির পরম স্মৃতি। আর দূর পরবাসে কবি যখন এসব থেকে অনেক দূরে, তখন এগুলো স্মৃতি হয়ে তাঁকে বেদনাবিধুর করে তুলছে। কবি সেই সব বেদনা কবিতার অবয়বে প্রকাশ করেছেন। এতে একদিকে আবহমান বাংলার সামগ্রিক চিত্র যেমন ফুটে উঠেছে, তেমনি মূর্ত হয়ে উঠেছে মাতৃভূমির জন্য প্রবল হাহাকার ও পিপাসা।বইটি নিঃসন্দেহে ভালো। বিশেষ করে ভাষার কারুকার্জ কোনো ভাবেই উপেক্ষা করার মতো নয়। কিছু কিছু অংশের শব্দচয়ন এবং বাক্যচয়ন বইটির আবেদনকে আরো তীব্র করেছে। লেখা শৈল্পিক হলেও ভাব প্রকাশে লেখক ছিলেন সাবলীল।