14 verified Rokomari customers added this product in their favourite lists
TK. 500TK. 439 You Save TK. 61 (12%)
"অগ্নিকন্যা" বইয়ের ফ্ল্যাপের লেখা:
পূর্ব বাংলার তুমুল জনপ্রিয় নেতা শেরে বাংলা পাকিস্তানের প্রস্তাবক হয়েও জিন্নাহ সাহেবের কূটকৌশলে হয়ে গেলেন ‘দুশমন। পাকিস্তান আন্দোলনে
জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক ও সাংবাদিক মোস্তফা কামালের ঐতিহাসিক উপন্যাস ‘অগ্নিকন্যা’। অগ্নিকন্যা ঐতিহাসিক উপন্যাস, ইতিহাস গ্রন্থ নয়। অগ্নিকন্যা এই উপন্যাসের প্রতীকী নাম। কাজেই শুধু একটি চরিত্রকে কেন্দ্র করে এই উপন্যাস রচিত হয়নি। একটি বিশেষ সময়কে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। এর সময়কাল হচ্ছে ১৯৪৭ থেকে ১৯৬৬ খ্রিস্টাব্দ। দেশভাগ ও তার পরবর্তী প্রেক্ষাপটে ইতিহাসের নায়কদের ভূমিকা তুলে ধরার ক্ষেত্রে কোনোরকম পক্ষপাতিত্ব করা হয়নি। লেখকের কথায়, ঘটনা পরম্পরায় যাঁর যে ভূমিকা ছিল তা তুলে ধরতে কার্পণ্য করিনি। মোস্তফা কামাল কখনো উপন্যাস লিখেছেন, কখনো রম্য, কখনো সায়েন্স ফিকশন। সাহিত্যের নানা শাখায় আড়াই দশক ধরে তাঁর বিচরণ। একজন বড় লেখকের অভীষ্ট হচ্ছে দেশ-কাল ভূগোল সংশিষ্ট শিল্পরীতি। বিষয় ও আঙ্গিকতো বটেই, সময় ও কালকেও মাথায় রাখতে হয়। কথাশিল্পী মোস্তফা কামাল তাঁর অগ্নিকন্যা উপন্যাসে এই লক্ষ্যকে বিবেচনায় রেখেছেন বলে মনে হয়। উপন্যাসের পটভূমি হিসেবে তিনি শুধু দেশভাগের মর্মন্তুদ ইতিহাসকে আশ্রয় করেননি বরং বিশাল ক্যানভাসে আন্দোলনমুখর উত্তাল সেই সময়ের ইতিহাসের নায়ক-খলনায়কদের তুলে ধরেছেন নির্মোহ দৃষ্টিকোন থেকে। একটি দেশ বা অঞ্চলের ইতিহাসের শিরদাঁড়ার ওপর দাঁড়িয়েই সেই অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্য রচিত হয়। দায়িত্বশীল লেখকের জন্য এ এক ঐতিহাসিক দায়ও বটে। অগ্নিকন্যায় সেই দায়ও যেন মেটালেন লেখক।
ভাাষা-রীতি ও কুশলী উপস্থাপনার গুণেও উপন্যাসটি হয়ে উঠেছে চিত্তাকর্ষক। উপন্যাসটি শুরু হয়েছে নাটকীয়তার মধ্য দিয়ে–‘মতিয়ার দুই হাতে দুটি পুতুল। সে ঘরের মেঝেতে বসে বসে গভীর মনোযোগে পুতুল দুটিকে সাজায়। পতুলের ছোট্ট চুল বেণী করে। ঠোঁটে পায়ে আলতা লাগায়। মনে মনে বলে বাহ! ভারী সুন্দর হয়েছে তো দেখতে। …হঠাৎ তার কানে শ্লোগানের ধ্বনি ভেসে আসে। একেবারে গগনবিদারি শোগান। ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই। রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই।’ মতিয়া দৌড়ে বারান্দায় যায়। বাইরের দিকে তাকিয়ে সে দেখে, বিশাল একটি মিছিল দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে ।…সবার কণ্ঠে এক আওয়াজ ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই।’
এভাবে পাঠককে অনেকটা হাত ধরে তিনি নিয়ে যান ইতিহাসের পাদপ্রদীপের নিচে। একটি কালের সামগ্রিক পরিচয় তিনি তুলে আনেন সেই সময়ের চরিত্র, স্থান ও ঘটনার অনুপুঙ্খ বর্ণনায়। সবাই ঐতিহাসিক চরিত্র, কিন্তু ঔপন্যাসিকের সৃষ্টিশীলতায় তারা নতুন করে আবির্ভূত হন বর্তমান কালের আয়নায়। পাঠককে তিনি হাত ধরে নিয়ে যান ইতিহাসের সেই কণ্টকাকীর্ণ পথে।