14 verified Rokomari customers added this product in their favourite lists
TK. 80TK. 59 You Save TK. 21 (26%)
হৃদয়ের সূক্ষ্ম অনুভূতির প্রকাশই সাহিত্য।সাহিত্য আমাদের সমাজ-সভ্যতা সংস্কৃতির মান উন্নত করে।মানুষের জীবনে উদ্দেশ্যহীন কোন বিষয়ের কথা কল্পনাই করা যায় না। সে উদ্দেশ্য ভালো হতে পারে, ম
সাহিত্যের সীমা ঠিক কতটুকু, কি কি বিষয় থাকতে পারে সাহিত্যে? সাহিত্যের আধুনিক সংজ্ঞায়নে এর কোনো সীমা পরিসীমা নেই। মাত্রা তা বহুল, সীমা তার অসীম! কিন্তু যদি আপনি ইসলামী সাহিত্যের কথা বলেন তাহলে অবশ্যই এর সীমা আছে। সীমার মাঝেই ইসলামের সৌন্দর্য। ইসলামী সাহিত্যে কি প্রেম থাকবে? থাকবে ভালোবাসা?? কবির কল্পনা ঠিক কতটুকু থাকবে? ইসলামী সাহিত্য কি একজন সাহিত্যিকের চিন্তাকে আবদ্ধ করে দেয়? নাকি শ্বাশ্বত এক পবিত্রতার মাঝে একে পরিস্ফুটিত করে তোলে?? এসব প্রশ্নের জবাব পাবেন বিদগ্ধ আলেম ও গবেষক আব্দুল মান্নান তালিবের এই বইয়ে।
Was this review helpful to you?
By Tuhin Mazhar, Aug 12, 2017
||বুক রিভিউ||
#রকমারি_বইপোকা_রিভিউ_প্রতিযোগিতা
বইঃ ইসলামী সাহিত্য || মূল্যবোধ ও উপাদান
লেখকঃ আব্দুল মান্নান তালিব
প্রকাশনাঃ বাংলা সাহিত্য পরিষদ
ধরণঃ সাহিত্য সমালোচনা
পৃষ্ঠাঃ ৪৭
স্কুলে থাকতে আমাদের সিলেবাসে একটা কমন ভাব-সম্প্রসারণ ছিলো "সাহিত্য জাতির দর্পণ স্বরুপ"। ব্যাকরণ বই থেকে ঠ্যাডা মুখস্থ করে পরীক্ষার খাতায় লিখে দিয়ে আসতাম। অনেকে হয়তো বুঝে শুনে লিখতে পারে। এই বুঝটা আজ কিছুটা উপলব্ধি করার চেষ্টা করছি।
কখনো কি ভেবেছি যে, সাহিত্য এবং জাতি পরস্পরের সাথে কতটা সম্পর্কিত। এবং যে সাহিত্যকে আয়নার সামনে রাখলে আয়নায় গোটা একটা জাতিকেই দেখা যায়। কি ঘনিষ্ঠ একটি সম্পর্ক!
এই সম্পর্কটি নিয়েই সুসাহিত্যিক আব্দুল মান্নান তালিবের ভাবনাটি মলাটবদ্ধ হয়েছে। যদিও বইটির নাম দেয়া হয়েছে "ইসলামি সাহিত্য (মূল্যবোধ ও উপাদান"। এর পেছনে অবশ্য যোক্তিক কারণও রয়েছে।
সাহিত্য রচনা একটি স্বাধীন ব্যক্তিকর্ম। মহৎকর্মও বটে। কিন্তু এখানে হস্তক্ষেপের কথা আসবে কেন? কারণ এটা যে জাতির দর্পণ।
লেখকের সাহিত্য রচনার স্বাধীনতা যদি একটি সীমার মধ্যে না থাকে তাহলে আয়নাটি যে ঘোলাটে আর অমসৃণ হয়ে যাবে! জাতি তার চেহারা এই আয়নায় ঝাপসা দেখবে। ঝাপসাই যদি দেখা যায় তবে সাহিত্যকে কেন একটি জাতির দর্পণ স্বরুপ তুলনা করা হয়েছে?
ইসলাম কখনোই মানুষের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করেনা। বরং এই স্বাধীনতাকে বস্তুনিষ্ঠ কিছু নীতিমালার কথা বলে দেয়- যেন আয়নাটি একদম মসৃণ দেখায়। অপরদিকে আয়নার সামনে দাঁড়ানো সত্তাটিও যেন নিজেকে স্পষ্ট দেখতে পায়।
নৈতিকতাই হবে সাহিত্যের মূল ভিত্তি। এই উপাদানকে মূল হিসেবে রেখে সাহিত্য সামনে এগুবে। এটাই ইসলামের একটি সাধারণ নীতিমালা। অথচ এটা একটা কমন সেন্সের ব্যাপারও।
এর মানে এই নয় যে, একজন লেখক গুরুগম্ভীর ও ইন্ট্রোভার্ট হয়ে সাহিত্য রচনা করবেন। বরং তিনি অশালীনতাকে উপেক্ষা করে যাবেন।
চটুলতা আর চতুরতাকে তিনি নিরুৎসাহিত করবেন।
এবং সুন্দর বিশ্বাস ও মূল্যবোধ জাগিয়ে তোলার আহ্বানকে সামনে রেখে নিজের মতো করে লেখার প্লট তৈরী করবেন।
অপরদিকে খারাপ কাজগুলোর বর্ণনাও করবেন স্বাভাবিক শব্দচয়নের মাধ্যমে।
ইসলামী সাহিত্য এবং মুসলিম সাহিত্যের পার্থক্যের দিকটিও বইটিতে বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছে। একজন মুসলিম লেখকের লেখা মানেই যে ইসলামী সাহিত্য হয়ে যাবে তেমনটি নয়। যদি না তার লেখাতে ইসলামী সাহিত্যের মূলনীতিকে অনুসরণ না করা হয়। আবার কোনো অমুসলিমের রচনা যদি এই নীতির মধ্যে থাকে সেই রচনাটিকে ইসলামি সাহিত্য হিসেবে স্বীকৃত প্রদান করা হবে।
একটি বিষয় লক্ষণীয় যে, ইসলামকে মানবজাতির সামনে উপস্থাপন করা ইসলামী সাহিত্যের একটি স্বতন্ত্র এবং মৌলিক বৈশিষ্ট্য। হতে পারে তা গল্প, কবিতা, প্রবন্ধ কিংবা উপন্যাস রচনার মাধ্যমে।
সবশেষে-
এমন অসংখ্য কথা রচিত হোক এই ভাঙ্গনমুখী সভ্যতাটির জন্য।
রচিত হোক এমন আরো হাজারো শব্দের ঊর্মিমালা-
যে ঊর্মিমালায় প্রতিফলিত হবে আমাদের জীবনপ্রবাহ।
যেখানে স্বচক্ষে আমরা দেখবো আমাদের বাস্তব প্রতিবিম্ববটিকে।
রকমারি লিংকঃ https://www.rokomari.com/book/114406/ইসলামী সাহিত্য/আব্দুল মান্নান তালিব