গণ্ডির মধ্যে বন্দি বাংলাদেশের কিশোর-কিশোরীদের নতুন এক জীবনের স্বাদ দিয়েছে তিন গোয়েন্দা। তিন গোয়েন্দার সঙ্গে একটির পর একটি জটিল রহস্য ভেদ করে অনায়াসে ঝালিয়ে নেওয়া যায় নিজের বুদ্ধি। ঘরে বসেই বেড়িয়ে আসা যায় আমাজনের জঙ্গলের নরমুণ্ডু শিকারিদের গ্রাম কিংবা জলদস্যুদের দ্বীপ থেকে। বেলুনে চড়ে আকাশে উড়ে বেড়াতেও নেই মানা। আবার মুক্তার খোঁজে মুসা আমানের সঙ্গে ডুব দেওয়া যায় সাগরে। এমন রহস্য-রোমাঞ্চের জগতের হাতছানি কজনই বা এড়িয়ে যেতে পারে। তাই তো তিন গোয়েন্দা অন্য সবার চেয়ে আলাদা, সবার এত প্রিয়। গ্রীষ্মের তপ্ত দুপুরে, বৃষ্টিভেজা রাতে মোমবাতির আলোয়, কুয়াশাভরা শীতের রাতে লেপের নিচে আমি তাঁর সাথে হেঁটে বেড়িয়েছি কাশ্মীর, বার্লিন, মাদ্রিদ, নেপলস, প্যারিসের অলিগলি। মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছি বারবার। তবুও হাঁটা থামে নি আমার।
কত বন্ধু পেলাম তাঁর কারণে। স্বর্ণহৃদয় রডরিক আর ল্যাম্পনি, ক্যান্সারাক্রান্ত মেজর ফজল মাহমুদ, অসহ্য মাইকেল সেভারস, মোচওয়ালা ক্যাপ্টেন মিশ্রী খান, লেফটেন্যান্ট আতাসী, ছোট বোনের মত লুবনা আভান্তি, হাতকাটা সোহেল আহমেদ, ফ্রেঞ্চকাট দাঁড়ির ভিনসেন্ট গগল, ‘লড়েচ কি মরেচ’ গিলটি মিয়া এবং অতি অবশ্যই কাঁচাপাকা ভুরুর সেই বুড়ো যার নাম রাহাত খান।
ছবির রহস্য একটা অসধারণ গোয়েন্দা কাহিনী ।
রাকিব হাসান বাংলাদেশের একজন গোয়েন্দা কাহিনী লেখক। তিনি সেবা প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত তিন গোয়েন্দা নামক গোয়েন্দা কাহিনীর স্রষ্টা। তিনি মূলত মূল নামে লেখালেখি করলেও জাফর চৌধুরী ছদ্মনামেও সেবা প্রকাশনীর রোমহর্ষক সিরিজ লিখে থাকেন। থ্রিলার এবং গোয়েন্দা গল্প লেখার পূর্বে তিনি অন্যান্য কাজে যুক্ত ছিলেন। তিনি রহস্যপত্রিকার একজন সহকারী সম্পাদক ছিলেন।রকিব হাসান শুধুমাত্র তিন গোয়েন্দারই ১৬০টি বই লিখেছেন। এছাড়া কমপক্ষে ৩০টি বই অনুবাদ করেছেন। তিনি টারজান সিরিজ এবং পুরো আরব্য রজনী অনুবাদ করেছেন। তাঁর প্রথম অনুবাদ গ্রন্থ ড্রাকুলা। রকিব হাসান লিখেছেন নাটকও। তিনি "হিমঘরে হানিমুন" নামে একটি নাটক রচনা করেন, যা টিভিতে সম্প্রচারিত হয়।