আমাদের ছোট্ট তপু ভারি দুষ্টু। তপু আইসক্রিম, চকলেট- আর বাইরের খাবার খেতে খুব পছন্দ করে। কিন্তু ডাক্তারের কড়া নিষেধ বাইরের খাবার খাওয়া যাবে না। তাতে কি আমাদের তপু কারো কথা শুনে। সে ঠিকই নিত্য নতুন চালাকির দ্বারা সবাইকে বোকা বানিয়ে ফেলে। ফ্ল্যাপে লেখা সেরকমই একটি ঘটনা বলছি- “বিশ-বাইশ মিনিট পর সার্ভিস বয় বড়োসড়ো একটা মুরগীর গ্রিল করা রান নিয়ে এলো তপুর সামনে। ডাক্তার আংকেল এইসব খাবার খেতে নিষেধ করেছেন, সেটা আপাতত ভুলে গেল সে। ভালো করে রানটার দিকে তাকাল সে। নতুন দোকানের নিয়ম মতো কাষ্টমারদের আকর্ষণ করার জন্য লাল টকটকে একটা আপেল বসানো আছে সেই মরগির রানের উপর। অদ্ভুতভাবে গেথে দেয়া হয়েছে সেখানে আপেলটা।বাইরের জিনিস খাওয়া তপুর মানা। ডাক্তার নিষেধ করেছেন। কিন্তু আম্মু তপুর দিকে তাকিয়েই চোখ দুটো বড় করে ফেললেন। ধরে ফেললেন তপুর চালাকি। তপু এত চালাক!”/ লেখক পরিচয়: সুমন্ত আসলাম। এখনকার তরুণ পাঠকের কাছে ‘প্রিয় লেখক’ নাম। কাছের বন্ধুরা তাকে বলে স্বপ্নবাজ। তিনি জন্মেছেন সিরাজগঞ্জে। নিজেই জানালেন, অসম্ভব দুষ্ট ছিলেন তিনি ছেলেবেলায়। ঘুড়ি উড়ানো আর লাটিম ঘুরানোর স্মৃতিঘেরা ছেলেবেলা তার। অনেক আনন্দময় শৈশব ও কৈশর কাটিয়েছেন। তবে এখন বড়বেলায় এসেও সেই আনন্দে ভাটা পরেনি এতটুকুও। সব সময় তিনি আনন্দে থাকেন। তার দাবী বাংলাদেশে যদি ১০০ জন মানুষ থাকেন যারা আনন্দ নিয়ে বেঁচে আছেন তার মধ্যে তিনিও একজন। বিষয়টা ভাবতেও তার খুব ভালো লাগে। আর, নিজেকে খুব ভাগ্যবান মনে করেন এই কারণে যে তার বাড়িতে একটি পারিবারিক লাইব্রেরি ছিলো। সেই সূত্রেই ছেলেবেলা থেকেই বই পড়ার অভ্যাস গড়ে উঠেছে। সেই লাইব্রেরিতে নানারকমের বই ছিলো। কিন্তু ছোটবেলায় তাকে সবচেয়ে আলোড়িত করেছে ‘তিন গোয়েন্দা’। রাইজিং বিডিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে লেখালেখির শুরু সম্পর্কে জানান, ‘লেখালেখির শুরু ঢাকায় আসার পরে। ‘মৌচাকে ঢিল’ (যায় যায় দিনেরও আগে প্রকাশ হত) শিরোনামের পত্রিকায় গল্প ছাপা হত। সেই গল্প পড়ে এবং সেবা প্রকাশনীর কিশোর পত্রিকা পড়ে পড়ে মনে হলো আমিও গল্প লিখতে পারবো। এটা ১৯৯৬ সালের দিকের কথা। তখন ভোরের কাগজের পাঠক ফোরাম ছিলো। সেই পাঠক ফোরামে ভালো লেখার জন্য ১০০ টাকার প্রাইজবন্ড পুরস্কার দেয়া হতো। আমি পরপর কয়েকবার সেই পুরস্কার পেয়ে গেলাম। তখন মনে হলো আমার লেখা মানুষ পছন্দ করবে। সুতরাং, লেখালেখিটা করাই উচিৎ। মূলত সেই থেকেই শুরু।”