এটি নাসরীন জেবিনের প্রবন্ধগ্রন্থ। লেখক যেহেতু একজন শিক্ষিত নারী; সেকারণে গ্রন্থের শিরোনামের প্রতি তাঁর দুর্বলতা থাকবেই। এই দুর্বলতা আসলে একটি শক্তি, যে শক্তির প্রথম স্ফূরণ দেখিয়েছিলেন বেগম রোকেয়া। তিনি অবরোধবাসিনীদেরকে আলোর মুখ দেখানোর যে প্রবল প্রচেষ্টা দেখিয়েছিলেন, সেই নারীদের পর্যায়ক্রমিক উন্নতি ও আধুনিক হওয়ার কথাই নাসরীন জেবিন তাঁর এই গ্রন্থে তুলে ধরার প্রয়াস পেয়েছেন। শুরুতেই বলেছেন, ‘নারী যে ছিল অসন্তোষ আর আক্রোশের পদদলিত স্মৃতিচিহ্ন। সমাজ যাকে করেছিল অবরোধবাসিনী। চিতায় জ্বলে গেছে যে নারীর দেহ-প্রাণ, শতাব্দীর প্রাচীর দিয়ে ঘিরেছে তার মুক্তির স্বাদ। কালের প্রবহমানতায় সে আজ অন্ধ হয়েছে; হয়েছে শিক্ষিত, পরিমার্জিত, আধুনিক। অমিত সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচনে নারী আজ ব্যস্ত।একবিংশ শতাব্দীতে এসে তার মনোশুদ্ধির জয় হয়েছে- বিম্ভায়নের দরোজায় সে জয় আজ ছড়িয়ে গেছে। মানবাত্মাকে জাগিয়ে দিয়েছে যে প্রাণ, সে আর কেউ নয় নারী।’ লেখক তার গ্রন্থের ভূমিকায় বলেছেন, ‘বাংলার নারীর মুক্তি, স্বাধীনতা, অধিকার পুরোটাই সর্বজনীন প্রত্যাশা। এই প্রত্যাশায় নারীর ভিতর-বাইরের শক্তিকে আজ আর অস্বীকার করার উপায় নেই। আমাদের রাষ্ট্র ও সমাজ নারীর মূল্যায়নের ক্ষেত্রে সমতার ভিত্তিতে কাজ করে যাচ্ছে। বাংলার নারী আজ মাটিকে আলিঙ্গন করে কৃষিকাজ থেকে এভারেস্টের চূড়া পর্যন্ত স্পর্শ করে তার স্বপ্নকে দিগন্তপ্রসারী করেছে। পারিবারিক সামাজিক, প্রশাসনিক ও রাজনৈতিকভাবে সার্থক নারী আজ যুদ্ধবিমান চালাচ্ছে, প্যারাট্রুপারও হচ্ছে। নারীর এরূপ জয় অন্য নারীর মধ্যে জয়ের নেশাকে আরও স্বপ্ন রঙিন করে তুলেছে।’ আজকের নারীদের জয়যাত্রার শিল্পগাঁথাই হলো নাসরিন জেবিনের এই প্রবন্ধ গ্রন্থটি।