এটি নাসরীর জেবিনের কাব্যগ্রন্থ। কবিতা সম্পর্কে কবির বক্তব্য ‘কবিতা আমাদের বেঁচে থাকার বিশ্বজাগতিক সুর। যা আমাদের চেতনাস্তরের আকাক্সক্ষা, স্বপ্ন ও সঙ্কটকে অন্তর্জালায় বিপন্ন করতে শেখায়নি। আমাদের আস্থার সুস্থির উঠোনে দাঁড় করিয়ে দেয় কবিতা- যাকে ধরে আমরা হয়ে উঠি স্বপ্নচারী, ডিঙিয়ে যাই নিজেই নিজেকে। মনোজগতের প্রত্যাশাকে নতুন প্রাণের চেতনায় বলিষ্ঠ করতে পারে কবিতা, যাকে আশ্রয় করে মানব চৈতন্যের মুক্তি ঘটতে পারে’। এই চৈতন্য ও চেতনা এবং স্বপ্নের আকাক্সক্ষায় নির্মাণ করেছেন কবি নাসরীন জেবিন তাঁর ‘দিঘিজল ছুঁয়ে যায় সর্বনাশা চিল’। গ্রন্থে তাঁর ৯০টি কবিতা স্থান পেয়েছে। প্রেম-প্রকৃতি-সমাজ আর মানুষের ভালবাসার, দ্বন্দ্বের আর স্বপ্নের কাঠামো তৈরি করেছেন কবি তাঁর এই কবিতাগুলোতে। উদ্ধৃতি দেয়া যাক : ক. ‘বিকেলটা পাঠাবো তোমার কাছে/ একটু রং দিবে তাতে-/ কেমন হয়ে গেছে জীবন আমার/ নেই কোনো সবুজ তাতে/ জীবন শুরু হতেই নেমেছে সন্ধ্যা/ রেখেছি তাকে ড্রাই আইসের মতো/ কাটাকুটি করো না তাতে/ কবিতা নিয়ে যাবো টুকরো হাতে/ হৃদয় ভিজবে তাতে/ তোমার নতুন হাটে’। [ড্রাই আইস; পৃষ্ঠা-৭৪]। খ. ‘রুপোলি নদীর জলে নারী তুমি অবিনাসী তাবিজ/ নীরবে দিয়ে যাও ফসলের বীজ/ ভেজা চুলে নারী তুমি অধরা হবে/ কপোলে কপোল ঘষে জ্যোৎস্না নেবে/ সভ্যতা এনে দিলে নারী তুমি লাজে/ পৃথিবী নেবে তা পরম সাজে’। [রুপোলি নদীর জলে; পৃষ্ঠা-২৪]। মোট কথা সবগুলো কবিতাতেই আছে জীবনবোধ। সহজ-সরল ভাষায় কবি নাসরীন জেবিন পাঠকের কাছে হয়ে উঠেছেন মূর্তমান। নিবিড় চর্চার মধ্য দিয়ে তিনি কাব্যক্ষেত্রে উজ্জ্বল থেকে উজ্জ্বলতর হয়ে উঠবেন বলে মনে করি।