sunscreen
7 min read
সানস্ক্রিন ক্রিম ব্যবহারের অপকারিতা

একথা শুনে অনেকেই নড়েচড়ে বসতে পারেন যে সানস্ক্রিনের ব্যবহারের অপকারিতা রয়েছে । অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি যে সানস্ক্রিনের ব্যবহার আপনার ত্বকের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তবে সেটা শুধুমাত্র পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, ভুল ব্যবহার এবং আরও কয়েকটি কারণে।
কিন্তু, সানস্ক্রিনের সম্ভাব্য অপকারিতার কথা ভেবে সানস্ক্রিন ব্যবহার বন্ধ করা ঠিক না। বরং তাতে আপনার ত্বক ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে।
আসুন এই ব্লগটি পড়ে জেনে নিই কি কারণে সানস্ক্রিন ব্যবহারে আপনার উপকারের বদলে অপকার হতে পারে এবং আপনি তা কিভাবে এড়িয়ে যেতে পারবেন।
সানস্ক্রিন কি সবসময় উপকারী?
সানস্ক্রিন অবশ্যই একটি উপকারী সামগ্রী যা নারী পুরুষ নির্বিশেষে সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির বিরুদ্ধে ত্বক রক্ষাকারী ক্রিম হিসেবে বহুল ব্যবহৃত। তবে সবসময় এটি আপনার জন্য পারফেক্ট নাও হতে পারে। যে বিশেষ ফর্মুলায় একটি সানস্ক্রিন তৈরি হয় তা আপনার ত্বকের ধরনের সাথে ম্যাচ না করলে লাভের বদলে বরং ক্ষতিই হয়।
দুর্ভাগ্যজনকভাবে অনেকে আবার সঠিক সানস্ক্রিন ব্যবহার করেও কোন ভালো ফলাফল পাননা। বরং নানা সমস্যা ফেস করেন। চলুন দেখে নেয়া যাক সানস্ক্রিন থেকে একজন ব্যবহারকারী অপ্রত্যাশিতভাবে এবং কি কি সমস্যায় পড়তে পারেন, সেগুলোর কারণ কি কি এবং প্রতিকার কি হতে পারে।
সানস্ক্রিনের কি কি অপকারিতা রয়েছে?
সানস্ক্রিন ব্যবহারে যেসব সমস্যা হতে পারে তা নিম্নে আলোচনা করা হলো। বলাই বাহুল্য যে এসকল সমস্যা সবার ক্ষেত্রে দেখা দেয় না। আবার সমস্যা হলেও সবক্ষেত্রে তা একই রকম হয় না।
১. অ্যালার্জি বা র্যাশ
সানস্ক্রিনে থাকা Fragrance বা সুগন্ধি উপাদান, প্রিজারভেটিভস বা কেমিক্যাল, UV ফিল্টারস ইত্যাদি অনেক সময় ত্বকে অ্যালার্জির কারণ হতে পারে।
এর কারণে ব্যবহারকারী চুলকানি, ত্বক লালচে হয়ে যাওয়া, র্যাশ, ইত্যাদি স্কিন প্রবলেমে পড়েন। যাদের ত্বক সংবেদনশীল বা সেনসিটিভ (Sensitive), তাদের ক্ষেত্রেই এই সমস্যাগুলো বেশি দেখা যায়।
২. ব্রণ বা একনি
যেসব সানস্ক্রিন ভারী বা কমেডোজেনিক হয়, সেগুলো পোর (Pore) বন্ধ করে দিতে পারে। এমনটা হলে ব্রণ বা একনির (Acne) হার বেড়ে যায়। আপনার ত্বক যদি Oily বা Acne-prone হয় তবে ভারী সানস্ক্রিন ব্যবহার না করাই শ্রেয়।
৩. অতিরিক্ত তেলতেলে ভাব
কিছু সানস্ক্রিন তৈলাক্ত বা Greasy ফিলিং তৈরি করে। Cream-based ফর্মুলার সানস্ক্রিনগুলোর মধ্যে এটা বেশি লক্ষ্য করা যায়। এই ক্রিমগুলো গরম বা আর্দ্র আবহাওয়ায় অস্বস্তিকর অনুভূতি তৈরি করতে পারে। সেজন্য অনেককে দেখা যায় সানস্ক্রিনের ব্যবহার কমিয়ে দেন।
৪. জ্বালাপোড়া বা Irritation
কখনও কখনও সঠিক সানস্ক্রিন ব্যবহারেও ত্বকে Irritation হতে পারে। এরূপ অস্বস্তিকর অনুভূতি সানস্ক্রিনের ভুল প্রয়োগেও হয়ে থাকে। চোখের কাছে সানস্ক্রিন গেলে চোখে জ্বালাপোড়া হতে পারে। মাঝে মধ্যে অল্প সময়ের জন্য কিছু সাইড ইফেক্ট হতে পারে। সেটা একদমই স্বাভাবিক।
কি কি কারণে সানস্ক্রিন অপকারি হতে পারে?
আপনি যদি নিম্নোক্ত কারণগুলো এড়িয়ে চলতে পারেন তবে আশা করা যায়, আপনার ব্যবহৃত সানস্ক্রিন থেকে কোন সমস্যা বা অস্বস্তির সম্মুখীন হবেন না।
১. ভুল সানস্ক্রিন নির্বাচন
সানস্ক্রিন কোনটি ব্যবহার করতে হবে তা ঠিক করা হয় মূলত ত্বকের ধরনের উপর নির্ভর করে। নারী পুরুষ সানস্ক্রিনের ব্যবহারের নিয়ম কিছুটা ভিন্ন হতে পারে।
তবে একই সানস্ক্রিন উভয়ই ব্যবহার করতে পারেন। সাধারণত ত্বক তৈলাক্ত, শুষ্ক, সংবেদনশীল বা সেন্সেটিভ, মিশ্র, ইত্যাদি ধরনের হয়ে থাকে। শুস্ক ত্বকের জন্য তৈলাক্ত ত্বকের সানস্ক্রিন উপযুক্ত হবে না, বরং তাতে ত্বকে সমস্যা হতে পারে। অন্যান্য ক্রিমগুলোর ক্ষেত্রেও একথা প্রযোজ্য। একারণে সতর্কতার সাথে সানস্ক্রিন নির্বাচন করতে হয়।
২. সংবেদনশীল ত্বক বা Sensitive Skin
সংবেদনশীল ত্বকের জন্য সবসময়ই বাড়তি যত্ন ও সাবধানতা নিশ্চিত করা জরুরি। এরূপ ত্বকে সহজেই লালচেভাব, চুলকানি, ইত্যাদি দেখা দিতে পারে।
সানস্ক্রিনের কোন কোন উপাদান সংবেদনশীল ত্বকে Irritation এর কারণ হতে পারে। সেজন্য ভুল সানস্ক্রিন ব্যবহার করার সাইডইফেক্টও বেশি।
৩. হরমোনাল বা স্কিন কন্ডিশনে
এমনও হতে পারে যে কারও ত্বকে আগে থেকেই নানারকম সমস্যা আছে। যেমন, মেলাজমা, একনি বা একজিমা। এগুলোর কোন একটি স্কিন কন্ডিশন থাকা অবস্থায় সানস্ক্রিন ব্যবহার করলে তা ত্বককে আরও রিঅ্যাকটিভ করে তুলতে পারে।
৪. গরম আবহাওয়ায়
বাংলাদেশের গরম আর আর্দ্র আবহাওয়ায় সানস্ক্রিন ব্যবহারের ফলে ত্বকে আঠালো বা ঘর্মাক্ত অনুভূতি তৈরি হতে পারে। এমনটা মোটেও একজন সানস্ক্রিন ব্যবহারকারীর জন্য আরামদায়ক কোন অভিজ্ঞতা নয়। দেখা যায় অনেকেই একারণে সানস্ক্রিন ব্যবহারে অনিয়মিত হয়ে যায়।
৫. পরিমাণে কমবেশি ব্যবহার
সানস্ক্রিন অল্প ব্যবহার করলে তা UVA এবং UVB থেকে ঠিকমত সুরক্ষা দিতে পারে না। আবার প্রয়োজনের চেয়ে বেশি সানস্ক্রিন প্রয়োগ করলে ত্বকে ভারী অনুভূতি তৈরি হয়। সাথে সাথে Pore ব্লক হতে পারে।
৬. ঠিকমত ত্বক পরিষ্কার না করা
সানস্ক্রিনের উপকারিতা পেতে সবসময় ত্বককে পরিষ্কার রাখতে হবে। অনেকেই সানস্ক্রিন ব্যবহার করার পর দিনের শেষে বা রাতে ঘুমানোর আগে ত্বককে ঠিকভাবে পরিষ্কার করেন না। অপরিষ্কার ত্বকে Buildup হওয়ার কারণে ব্ল্যাকহেডস বা ব্রণের মত সমস্যার উদ্ভব হতে পারে।
৭. নিম্নমানের বা মেয়াদউত্তীর্ণ সানস্ক্রিনের ব্যবহার
সস্তায় কিনতে পাওয়া সানস্ক্রিন ব্যবহারের ফলাফল একটি ভালো সানস্ক্রিনের উপকারিতার সম্পূর্ণ বিপরীত হয়ে থাকে। অন্যদিকে মেয়াদউত্তীর্ণ সানস্ক্রিন অকার্যকর হয়ে যাওয়ায় ত্বকে প্রয়োজনীয় প্রোটেকশন দিতে পারে না। এতে ত্বক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
সানস্ক্রিনের অপকারিতা থেকে কিভাবে নিজেকে বাঁচাবেন?
যদি সানস্ক্রিন থেকে কোনরকম অপকার ছাড়া শুধুমাত্র উপকার পেত চান তবে নিম্নোক্ত বিষয়গুলোতে খেয়াল রাখবেন।
১. নিজের ত্বক বুঝে সানস্ক্রিন নির্বাচন করুন। অন্ধভাবে কোন সানস্ক্রিনটি ছেলেদের জন্য ভালো বা কোন সানস্ক্রিনটি মেয়েদের জন্য ভালো না জেনে সানস্ক্রিন কিনবেন না।
২. প্রথমবার সানস্ক্রিন ব্যবহার করার আগে অবশ্যই Patch Test করুন করুন। এতে করে আপনি বুঝতে পারবেন উক্ত ক্রিমটি আপনার ত্বকের জন্য ঠিক আছে কিনা।
৩. না জেনে উচ্চ মাত্রার SPF সমৃদ্ধ সানস্ক্রিন কিনে ব্যবহার করবেন না। বেশিরভাগ মানুষের রুটিন ও চলাফেরা অনুযায়ী SPF 30–50 যুক্ত সানস্ক্রিন যথেষ্ট কার্যকরী। সে ক্ষেত্রে আরও উচ্চমাত্রার SPF এর সানস্ক্রিন ব্যবহার করলে ত্বকে Irritation হতে পারে।
৪. সবসময় সঠিক মাত্রায় সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন। সেজন্য দুই আঙুল পরিমাণ বা Two-finger Rule ফলো করতে পারেন। এই নিয়ম অনুযায়ী, আপনার তর্জনী ও মধ্যমা, এ ২ টি আঙ্গুলের দৈর্ঘ্য মাপের পরিমাণ সানস্ক্রিন আপনার মুখ ও গলায় সানস্ক্রিন ব্যবহারের জন্য যথেষ্ট হবে।
৫. ঘাম হলে এবং দীর্ঘসময় বাইরে অবস্থা করলে অবশ্যই সানস্ক্রিন Reapply করুন। সাধারণত সানস্ক্রিন ২-৩ ঘণ্টা ত্বকে কার্যকরী থাকে।
৬. দিনশেষে বা রাতে অবশ্যই ত্বক পরিষ্কার করবেন। মুখ ঠিকমত না ধুয়ে ঘুমাতে যাবেন না এবং ভালো একটি ফেসওয়াশ ব্যবহার করবেন।
৭. বিশ্বাসযোগ্য বিক্রেতার কাছ থেকে সেরা সানস্ক্রিন কিনুন এবং সানস্ক্রিনের মেয়াদ দেখে ব্যবহার করুন।
৮. চোখের আশেপাশে সানস্ক্রিন লাগানোর ক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বন করুন। Sensitive Eye-safe ফর্মুলার সানস্ক্রিনও ব্যবহার করতে পারেন।
৯. আপনার ত্বকে কোন সমস্যা আছে কিনা দেখে নিন। যদি কোন সমস্যা থেকে থাকে তবে সানস্ক্রিন ব্যবহারের পূর্বে একজন ডার্মাটোলজিস্টের পরামর্শ নিন।
সব সানস্ক্রিন কি ক্ষতিকর?
কোনও সানস্ক্রিনই ত্বকের জন্য ক্ষতিকর নয়। তবে ভুল সানস্ক্রিন নির্বাচন বা ব্যবহার ত্বকের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে বা সমস্যা তৈরি করতে পারে।
SP বা PA এর মাত্রা বেশি হলে কি সানস্ক্রিন ত্বকের ক্ষতি করে?
একটি সানস্ক্রিনে SP বা PA এর মাত্রা বা রেটিং বলতে বোঝানো হয় যে সেই সানস্ক্রিনটি UVB এবং UVA এর বিরুদ্ধে কতটা কার্যকরী। প্রয়োজনের তুলনায় SP বা PA এর মাত্রা বেশি হলে ত্বকে অস্বস্তিবোধ হতে পারে।















