Night Cream
9 min read
নাইট ক্রিম কোনটা ভালো

সারাদিনের ধুলাবালি, রোদ আর পরিবেশের দূষণের ফলে ত্বকে নিস্তেজতা দেখা দেওয়া, দিন দিন ত্বক কালচে হয়ে স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা হারানো, ত্বকের তৈলাক্ততা থেকে ব্রণের সমস্যা ও ত্বকের অসমান টোন অনেকের নিত্যদিনের সমস্যা। তবে এই সমস্যা থেকে নিজেকে রক্ষা করা সহ ত্বকের নিয়মিত যত্নের জন্য নাইট ক্রিম বেশ জনপ্রিয় অনেক বছর ধরে।
তাই আপনার সুবিধার্থে এবং বিভিন্ন ব্যবহারকারীদের জনপ্রিয়তার ভিত্তিতে ছেলে মেয়ে সবার জন্য আমরা সেরা ১০টি নাইট ক্রিমের একটি তালিকা তৈরি করেছি এবং এর সুবিধা-অসুবিধা সহ বিস্তারিত তুলে ধরেছি। যা সঠিক নিয়ম মেনে নিয়মিত ব্যবহার করলে খুব দ্রুত ত্বক ফিরে পায় স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা ও ফর্সা ভাব।
ফর্সা হওয়ার সেরা ১০টি নাইট ক্রিম
বাংলাদেশের বাজারে বিভিন্ন কোম্পানির ক্রিম পাওয়া যায়। অসংখ্য পণ্যের ভিড়ে সঠিক পণ্য বেছে নেওয়া অনেকের কাছে কঠিন মনে হতে পারে।
তাই আমরা আপনার সুবিধার্থে বিভিন্ন ব্যবহারকারীদের জনপ্রিয়তার ভিত্তিতে সেরা ১০টি নাইট ক্রিমের তালিকা করেছি। যা ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ানো বা ফর্সা হওয়ার জন্য বেশ কার্যকর।
| ক্রিমের নাম এবং ছবি | পণ্যের সারসংক্ষেপ |
|---|---|
| ব্র্যান্ড: Garnier উপাদান: ভিটামিন সি, ইয়োগার্ট বিফিডাস। কার্যকারিতা: ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি, মৃত কোষ দূর করা, কালচে দাগ কমানো। |
|
| ব্র্যান্ড: 4KQ উপাদান: গ্লুটাথিয়ন, আলফা আরবুটিন। কার্যকারিতা: মেলানিন কমানো, ব্রণের দাগ ও মেছতা দূর করা। |
|
| ব্র্যান্ড: Ailke উপাদান: প্রাকৃতিক অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। কার্যকারিতা: জেদি কালো দাগ দূর করা, ত্বক টানটান ও ফর্সা করা। |
|
| ব্র্যান্ড: Dr. Rashel উপাদান: নিয়াসিনামাইড, আরবুটিন। কার্যকারিতা: রোমকূপ ছোট করা, ত্বকের টেক্সচার মসৃণ করা, দাগ হালকা করা। |
|
| ব্র্যান্ড: Dot & Key উপাদান: রেটিনল, সিরামাইড। কার্যকারিতা: অ্যান্টি-এজিং, বলিরেখা কমানো, ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখা। |
|
| ব্র্যান্ড: Pond's উপাদান: ১০% রেটিনল সি কমপ্লেক্স, ভিটামিন বি-৩। কার্যকারিতা: বলিরেখা দূর করা, ২৪ ঘণ্টা আর্দ্রতা, তারুণ্যদীপ্ত গ্লো প্রদান। |
|
| ব্র্যান্ড: Lotus Herbals উপাদান: গ্রেপস, মালবেরি, স্যাক্সিফ্রাগা, দুধের এনজাইম। কার্যকারিতা: প্রাকৃতিকভাবে ত্বক উজ্জ্বল করা, পুষ্টি যোগানো। |
|
| ব্র্যান্ড: Osufi উপাদান: স্কিন লাইটেনিং ও কোলাজেন রিস্টোরিং উপাদান। কার্যকারিতা: ত্বক মসৃণ করা, কালচে ছোপ দূর করে স্কিনটোন সমান করা। |
|
| ব্র্যান্ড: Lakme উপাদান: নিয়াসিনামাইড, ভিটামিন সি, গ্লিসারিন। কার্যকারিতা: কালচে দাগ দূর করে স্কিনটোন সমান করা, আর্দ্রতা ধরে রাখা। |
|
| ব্র্যান্ড: Lakme উপাদান: নিয়াসিনামাইড, ভিটামিন সি, গ্লিসারিন। কার্যকারিতা: কালচে দাগ দূর করে স্কিনটোন সমান করা, আর্দ্রতা ধরে রাখা। |
1. Garnier Bright Complete Vitamin C Night Sleeping Mask Cream 18gm
গার্নিয়ার ব্রাইট কমপ্লিট ভিটামিন সি নাইট স্লিপিং মাস্ক ক্রিমটি ত্বক উজ্জ্বল করার জন্য খুবই জনপ্রিয় প্রোডাক্ট। এতে রয়েছে শক্তিশালী ভিটামিন সি এবং ইয়োগার্ট বিফিডাস (Yoghurt Bifidus), যা রাতের বেলা ঘুমের মাঝে ত্বকের গভীরে গিয়ে পুষ্টি যোগায়। এটি ত্বকের মৃত কোষ দূর করে ত্বককে এক্সফোলিয়েট করে এবং সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর একটি সতেজ, গ্লোয়িং ও ফর্সা লুক প্রদান করে। নিয়মিত ব্যবহারে ৭-১৪ দিনের মধ্যে ত্বকের কালচে ভাব, রোদে পোড়া দাগ এবং ক্লান্তি অনেকটাই কমে আসে।
সুবিধা:
- ভিটামিন সি ও দই (Yoghurt) সমৃদ্ধ ফর্মুলা।
- স্বল্প বাজেটে ভালো মানের ব্র্যান্ডেড প্রোডাক্ট।
অসুবিধা:
- সাইজ ছোট (১৮ গ্রাম), হওয়ায় দ্রুত শেষ হয়ে যেতে পারে।
2. 4KQ Whitening Night Cream 20gm (Thailand)
থাইল্যান্ডের জনপ্রিয় ব্র্যান্ড 4K Plus-এর এই নাইট ক্রিমটি ত্বক উজ্জ্বল করা, কালো দাগ কমানো এবং স্কিন টোন সমান করার জন্য তৈরি। এতে ব্রাইটেনিং, হোয়াইটেনিং, ময়েশ্চারাইজিং ও স্কিন রিভাইটালাইজিং উপাদান রয়েছে যা ত্বকের পোরসও পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে। প্রতি রাতে পরিষ্কার মুখে আপওয়ার্ড মোশনে ম্যাসাজ করে লাগালে কিছুদিনের মধ্যেই ত্বক কোমল ও উজ্জ্বল হয়ে ওঠে।
সুবিধা:
- ব্রাইটেনিং ও হোয়াইটেনিং উভয় বেনিফিট একসাথে।
- পোর-ক্লিনিং ও স্কিন রিভাইটালাইজিং ফর্মুলা।
- সব ধরনের ত্বকে ব্যবহারযোগ্য।
অসুবিধা:
- সাইজ অনুযায়ী দাম তুলনামূলক একটু বেশি।
3. Ailke 8K Plus 10X Dark Spot Whitening Night Cream 20gm
Ailke ব্র্যান্ডের এই নাইট ক্রিমটি বিশেষভাবে ডার্ক স্পট ও পিগমেন্টেশন কমিয়ে ত্বকের টোন উজ্জ্বল করতে কাজ করে। এর 10x ডার্ক স্পট রিমুভাল ফর্মুলা ত্বকের কোলাজেন উৎপাদন বাড়াতে সহায়তা করে। এই ক্রিমে থাকা প্রাকৃতিক অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ত্বকের মরা কোষ সরিয়ে নতুন কোষ জন্মাতে সাহায্য করে, ফলে ত্বক হয়ে ওঠে আরও সতেজ, টানটান এবং ফর্সা।
সুবিধা:
- ছেলে ও মেয়ে উভয়ের জন্য উপযোগী।
- লাইটওয়েট, নন-গ্রিজি ফর্মুলা।
- দাগ ও পিগমেন্টেশন কমাতে কার্যকর।
অসুবিধা:
- সেনসিটিভ ত্বকে প্রথমবার প্যাচ টেস্ট করা উচিত।
4. Dr. Rashel White Skin Fade Spots Night Cream 50gm
ডার্মাটোলজি-ইন্সপায়ার্ড স্কিনকেয়ার ব্র্যান্ড Dr. Rashel-এর এই নাইট ক্রিম মূলত ত্বকের কালো দাগ, পিগমেন্টেশন ও অসমান স্কিনটোন ফেইড করার জন্য তৈরি। এতে থাকা নিয়াসিনামাইড ত্বকের পোরস বা রোমকূপের আকার ছোট করতে এবং ত্বকের টেক্সচার মসৃণ করতে সাহায্য করে, অন্যদিকে আরবুটিন ত্বকের কালচে দাগ কমিয়ে ফর্সা আভা নিয়ে আসে। এছাড়াও এটি ত্বকের সারাদিনের পরিবেশগত ড্যামেজ রিকভার করে।
সুবিধা:
- সাশ্রয়ী মূল্যে পাওয়া যায়।
- দাগ ও পিগমেন্টেশন কমাতে কার্যকর।
অসুবিধা:
- কিছু ব্যবহারকারীর কাছে ফ্র্যাগ্রেন্স কিছুটা স্ট্রং মনে হতে পারে।
5. Dot & Key Retinol Plus Ceramide Night Repair Cream 15ml
Dot & Key-এর এই নাইট রিপেয়ার ক্রিমে রয়েছে রেটিনল ও সেরামাইডের কম্বিনেশন, যা ত্বকের সেল রিনিউয়াল প্রসেস বাড়িয়ে ফাইন লাইনস ও বয়সের ছাপ কমাতে সাহায্য করে। সেরামাইড ত্বকের প্রাকৃতিক ব্যারিয়ার মজবুত রেখে রেটিনলের কারণে হওয়া শুষ্কতা প্রতিরোধ করে, ফলে ত্বক কোমল ও হাইড্রেটেড থাকে। যাদের ত্বকে বয়সের প্রথম লক্ষণ দেখা দিতে শুরু করেছে বা টেক্সচার অমসৃণ, তাদের জন্য এটি একটি কার্যকর অ্যান্টি-এজিং সলিউশন।
সুবিধা:
- রেটিনল ও সেরামাইডের শক্তিশালী কম্বিনেশন।
- অ্যান্টি-এজিং ও স্কিন রিপেয়ারে কার্যকর।
অসুবিধা:
- নতুন অবস্থায় অল্প পরিমানে ব্যবহার শুরু করা ভালো।
6. Pond's Age Miracle Night Face Cream with Vitamin B3 and 10% Retinol C 45g
Pond's এর এই প্রিমিয়াম নাইট ক্রিমে রয়েছে ভিটামিন বি৩ ও ১০% রেটিনল সি কমপ্লেক্স, যা বলিরেখা ও বয়সের ছাপ কমিয়ে ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত ত্বকে গ্লো বজায় রাখতে সাহায্য করে। নিয়মিত রাতে ব্যবহারে ত্বকের ইলাস্টিসিটি বাড়ে এবং ফাইন লাইনস ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে। এছাড়াও স্কিনকে হাইড্রেটেড রাখার পাশাপাশি এটি ত্বককে ভেতর থেকে ফর্সা ও গোলাপি আভা প্রদান করে।
সুবিধা:
- ভিটামিন বি৩ ও ১০% রেটিনল সি কমপ্লেক্স সমৃদ্ধ।
- বিশ্বব্যাপী পরিচিত ও বিশ্বাসযোগ্য ব্র্যান্ড।
অসুবিধা:
- দাম তুলনামূলকভাবে কিছুটা বেশি।
7. Lotus Herbals WhiteGlow Skin Whitening and Brightening Nourishing Night Crème 40g
Lotus Herbals এর WhiteGlow সিরিজের এই নাইট ক্রিমে রয়েছে আয়ুর্বেদিক ও প্রাকৃতিক উপাদানের সমন্বয়, যা ত্বক উজ্জ্বল ও পুষ্টিকর রাখতে সাহায্য করে। এটি ত্বকের মেলানিন উৎপাদন নিয়ন্ত্রণ করে অসমান স্কিনটোন কমাতে কাজ করে এবং ত্বক প্রাকৃতিকভাবেই উজ্জ্বল এবং ফর্সা হতে শুরু করে।
সুবিধা:
- আয়ুর্বেদিক ও প্রাকৃতিক উপাদান সমৃদ্ধ।
- মেলানিন নিয়ন্ত্রণ করে স্কিনটোন উজ্জ্বল করে।
অসুবিধা:
- ফলাফল পেতে একটু সময় লাগতে পারে।
8. Osufi Whitening Night Cream 25gm
ওসুফি হোয়াইটেনিং নাইট ক্রিম স্কিন হোয়াইটেনিং এবং দাগ দূর করার জন্য বাংলাদেশের বাজারে বেশ জনপ্রিয়। এটি নিয়মিত রাতে ঘুমানোর আগে পরিষ্কার মুখে লাগালে ধীরে ধীরে ত্বকের নিস্তেজভাব কমে উজ্জ্বলতা ফিরে আসে এবং কালচে ছোপ ছোপ দাগ দূর হয়ে আসে।
সুবিধা:
- সাশ্রয়ী মূল্যে পাওয়া যায়।
- নিয়মিত ব্যবহারকারীদের মধ্যে জনপ্রিয়।
অসুবিধা:
- সেনসিটিভ ত্বকে প্রথমে প্যাচ টেস্ট করা উচিত।
9. Cetaphil Bright Healthy Radiance Brightening Night Comfort Cream 50g
Cetaphil এর এই ব্রাইটেনিং নাইট কমফোর্ট ক্রিম স্পর্শকাতর ও সেনসিটিভ ত্বকের জন্য বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে। জেন্টল ফর্মুলার কারণে এটি ত্বকে কোনো জ্বালাপোড়া বা র্যাশ সৃষ্টি করে না, বরং ত্বককে আরামদায়কভাবে ময়েশ্চারাইজ করে উজ্জ্বলতা বাড়াতে সাহায্য করে। রাতের বেলায় ব্যবহারে ত্বকের ব্যারিয়ার মজবুত হয় এবং সকালে ত্বক থাকে কোমল, হাইড্রেটেড ও উজ্জ্বল দেখায়।
সুবিধা:
- ত্বকের ব্যারিয়ার মজবুত করে আর্দ্রতা বজায় রাখে।
- সেনসিটিভ ত্বকের জন্যও নিরাপদ।
- জেন্টল ও নন-ইরিটেটিং ফর্মুলা।
অসুবিধা:
- দাম তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি।
10. Lakme Absolute Perfect Radiance Brightening Night Cream (50 gm)
Lakme এর এই ব্রাইটনিং নাইট ক্রিমটি ত্বকের হারানো উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনতে অত্যন্ত কার্যকরী একটি পণ্য। এর ফর্মুলায় রয়েছে স্কিনের জন্য জনপ্রিয় উপাদান ‘নিয়াসিনামাইড। যা ত্বকের তেল নিয়ন্ত্রণ করে, ব্রণ দাগ দূর দাগ হালকা করে, লোমকূপ ছোট করতে সাহায্য করে এবং বয়সের ছাপ কমায়। এতে ত্বক স্বাভাবিকভাবেই ফর্সা দেখায়।
সুবিধা:
- ব্রণের দাগ ও হাইপারপিগমেন্টেশন কমাতে দারুণ কাজ করে।
- ভেতর থেকে ত্বককে ময়েশ্চারাইজ করে।
অসুবিধা:
- অতিরিক্ত তৈলাক্ত ত্বকের ক্ষেত্রে গ্রীষ্মকালে কিছুটা ভারী মনে হতে পারে।
নাইট ক্রিমের সেরা ব্র্যান্ড সমূহ
বর্তমান স্কিনকেয়ার বাজারে নাইট ক্রিমের অসংখ্য ব্র্যান্ড রয়েছে। তবে অসংখ্য ব্রান্ডের মাঝে নির্ভরযোগ্যতা এবং কার্যকারিতা দিক দিয়ে গার্নিয়ার, পন্ডস, সেটাফিল, লোটাস হারবাল, ডট & কি, ওসুফি, লেকমি ব্র্যান্ড গুলো বাংলাদেশে বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী
৭ দিনে কি পুরোপুরি ফর্সা হওয়া সম্ভব?
সত্যিকার অর্থে কোনো স্বাস্থ্যকর ও নিরাপদ ক্রিম ৭ দিনে গায়ের আসল রঙ পুরোপুরি বদলে দিতে পারে না। তবে ভালো মানের নাইট ক্রিম নিয়মিত ব্যবহারে ৭-১০ দিনের মধ্যে ত্বকের রোদে পোড়া দাগ, কালচে ভাব এবং মৃত কোষ দূর হয়ে যায়। ফলে ত্বকের হারানো উজ্জ্বলতা ফিরে আসে এবং ত্বককে আগের চেয়ে অনেক বেশি ফর্সা ও সতেজ দেখায়।
ব্রণযুক্ত বা তৈলাক্ত ত্বকে কি নাইট ক্রিম ব্যবহার করা ঠিক?
হ্যাঁ, অবশ্যই ঠিক। তবে ত্বক তৈলাক্ত বা ব্রনপ্রবণ হলে ভারী ক্রিম-বেইজড প্রোডাক্টের বদলে অয়েল-ফ্রি, নন-কমেডোজেনিক বা জেল-বেইজড নাইট ক্রিম ব্যবহার করা ভালো। এতে লোমকূপ বন্ধ হয়ে নতুন করে ব্রণ হওয়ার আশঙ্কা থাকে না।















