গ্রিসে পর্যটন আকর্ষণ এন্তার। সর্বত্র ছড়িয়ে আছে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন। এসব প্রত্নতত্ত্বের সঙ্গে জড়িয়ে আছে গ্রিক সভ্যতার ইতিহাস। আবার ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে আছে পৌরাণিক কাহিনি। অ্যাথেন্স গণতন্ত্রের সূতিকাগার। এ শহরের আগোরায় হাঁটতেন মহান দার্শনিক সক্রেটিস। সঙ্গে থাকত তাঁর শিষ্যকূল। এখানেই তাঁকে বিষপানে মৃত্যুবরণে বাধ্য করা হয়েছে। সেই আগোরা, সেই কারাগার- সবই এখনও আছে কালের সাক্ষী হয়ে।
গণতন্ত্রের পাদপীঠ অ্যাক্রপলিস পাহাড়ে এখনও পার্থানন দাঁড়িয়ে আছে। তবে ভগ্নদশায়। পার্থাননে অ্যাথেনা দেবীর মন্দির ছিল। ওসমানীয় সাম্রাজ্যের দখলে গেলে তা মসজিদে রূপান্তরিত হয়। পার্থাননের অলংকরণ খুলে লুট করে নিয়ে গেছে ব্রিটিশ রাজদূত। সেগুলো এখন শোভা পাচ্ছে ব্রিটিশ মিউজিয়ামে। আবার একজন ব্রিটিশ কবি লর্ড বায়রন গ্রিসের স্বাধীনতা যুদ্ধের জন্য লড়ে জীবন দিয়েছেন। এসবের বহু আগে এ অঞ্চলে দেবতাদের শাসন ছিল। দেবতা জিউস বিশ্বব্রম্মা-নিয়ন্ত্রণ করলেও অ্যাথেন্সের নিয়ন্ত্রণ ছিল অ্যাথেনার হাতে। অ্যাথেন্স বা গ্রিসকে জানতে গেলে তাই ঘুরেফিরে আসে গ্রিক পুরাণ। লেখক গ্রিস ভ্রমণে পুরাণের সেই গল্পগুলো টেনে এনেছেন। ম্যারাথন দৌড়ের ইতিহাস অ্যাথেন্স থেকে উৎসারিত। অলিম্পিক গেমসের স্মারকে চলে আসে পৌরাণিক সূত্র। পুরাণের গল্প কল্পকাহিনি না। দেবতা অ্যাপোলোর সন্তান আসক্লিপিউস চিকিৎসার দেবতা। তাঁর দর্শনে গড়া আশ্রমে অধ্যয়ন করে চিকিৎসাশাস্ত্রের জনক হয়েছেন হিপোক্রিতাস। ট্রয় যুদ্ধের বীর আগামেমনন মাইসিনি অঞ্চলে সমৃদ্ধি নিয়ে আসেন। মাইসিনি এখন কেবল প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন। তবে তারই উত্তরসূরি গ্রিক সভ্যতা। ফলে গ্রিস সফর শেষ হতে চায় না। দু মলাটের সীমাবদ্ধতায় লেখক তুলে ধরেছেন খণ্ডিত গ্রিসের চিত্র। সে চিত্র পাঠককে নিশ্চিত অনুসন্ধিৎসু করে তুলবে।
কিশোরগঞ্জ জেলার পাকুন্দিয়া থানার চরফরাদি গ্রামে জন্ম। অধ্যয়নস্থল- পাকুন্দিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পাকুন্দিয়া পাইলট মডেল হাই স্কুল, ভৈরবের কে. বি. পাইলট হাই স্কুল ও হাজী আসমত কলেজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং ইউনিভার্সিটি অব ফিলিপিন্স। স্কুলজীবন থেকে লেখালেখির শুরু। বদি মিয়ার রাজাকারের ডায়েরি, টাকাসাহেবের গল্প, পরিরানি ও রাক্ষসের গল্প, ভূত ও বুদ্ধিমান বালক, এক দেশে ছিল এক দেশ হতে দেশ দেশান্তরে, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ ইত্যাদি তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ। সম্পাদিত গ্রন্থ : বাঙালির চিরসঙ্গী রবীন্দ্রনাথ, ছড়ায় ছড়ায় শুদ্ধাচার এবং হাওর জঙ্গল মোষের শিং। নেশা দেশভ্রমণ। বাংলাদেশের সব জেলা এবং দর্শনীয় স্থান ভ্রমণ করেছেন। ভ্রমণের নেশায় ঘুরে বেড়িয়েছেন এন্টার্কটিকা ছাড়া সব মহাদেশে। স্ত্রী নাদিরা বেগম এবং তিন কন্যা- কীর্তি, অর্থী ও শ্রেয়াকে নিয়ে তাঁর ছিমছাম সংসার। কীর্তির সূত্রে তার সংসারে যোগ হয়েছে মিতুল এবং সুহৃদ।