১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জের ভাটি অঞ্চলে ৫ নম্বর সাব-সেক্টরে দুর্ধর্ষ এক গেরিলা যোদ্ধা ছিলেন। যার নাম জগৎজ্যোতি দাস। তার নামেই সেই গেরিলা দলের নামকরণ করা হয় - দাস পার্টি। মুক্তিযুদ্ধে দাস পার্টির কমান্ডার জগৎজ্যোতি দাসের চালানো অপারেশনগুলো এতটাই দুর্ধর্ষ ছিল যে পাকিস্তান আর্মিরা তাকে যমের মতোই ভয় পেত। রাতের আঁধারে ডিনামাইট দিয়ে সিলেট-সুনামগঞ্জ হাইওয়েতে সদরপুর ব্রিজ উড়িয়ে দিয়েছিল তার দল। ভেড়ামোহনা নদীতে পাকিস্তান আর্মির গোলাবারুদ বহনকারী বিরাট এক কার্গো জাহাজকে লিম্পেট মাইন আর রকেট লাঞ্চার দিয়ে নিমিষেই ডুবিয়ে দিয়েছিল। বানিয়াচং থানায় মাত্র বারোজনের একটা গেরিলা দল নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। হাতে ছিল উদ্যত মেশিনগান। কোমরের বেল্টে ছিল গ্রেনেড। গেরিলা আক্রমণে দিশেহারা হয়ে পাকিস্তানি আর্মিদের দল পালিয়ে যায়। সে অপারেশনে ৩৫ জন পাকিস্তান আর্মি এবং রাজাকার প্রাণ হারায়। পাহাড়পুর গ্রামে মাত্র তেরো জনের গেরিলা দল দুইশো পাকিস্তান আর্মি আর রাজাকারের দলকে মর্টার শেল আর মেশিনগান দিয়ে গেরিলা আক্রমণ করে। সে যুদ্ধে শত্রুপক্ষের শতাধিক নিহত হয়। পাকিস্তান আর্মি তার মাথার ওপর পুরস্কার ঘোষণা করেছিল।
জীবনের শেষ যুদ্ধে ১৬ই নভেম্বর পাকিস্তান আর্মিরা তিন দিক থেকে ঘিরে ফেললে জগৎজ্যোতি দাস যুদ্ধ করতে করতে মারা যান। মরে যাবার আগে বারোজন পাকিস্তান আর্মিকেও মেরে যান। তৎকালীন বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকার তাঁকে সর্বোচ্চ খেতাব দেবার কথা স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্র থেকে ঘোষণা করেছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাঁকে বীরশ্রেষ্ঠ খেতাব না দিয়ে বীর বিক্রম খেতাব দেওয়া হয়। সে নিয়ে অনেক বিতর্ক রয়েছে। আজ না হয় সেসব বিতর্ক দূরে থাকুক। কিন্তু এমন অকুতোভয় একজন গেরিলা যোদ্ধার কথা আমরা ক'জন জানি? এই না জানাটা আমাদের ব্যর্থতা। আমি শুধু চেয়েছি জগৎজ্যোতির সেই অনিঃশেষ আলোটুকু জনমানুষের কাছে পৌঁছে দিতে।
প্রিয় পাঠক, বইটি আমাদের সেই বীর যোদ্ধার কাছে নিয়ে যাবে। বইটি পড়া শেষ হলে আপনি তাঁকে ভালোবাসতে, বুকের ভেতর রাখতে বাধ্য হবেন।
সার্টিফিকেটের নাম মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান হলেও সুবাস নামেই বন্ধুদের কাছে বেশি পরিচিত। লেখকের শৈশব কেটেছে সবুজ শোভিত গাজীপুরের শিমুলতলীতে। ছোটবেলা থেকেই গল্প, উপন্যাসের প্রতি তার তীব্র আগ্রহ যা আজো সমভাবে বিদ্যমান। তবে কাগজ কলম নিয়ে বসা হবে তিনি ভাবেননি কখনো। করোনার মরণ ছোবল থেকে বাঁচতে এর কার্যকরী ঔষধ এবং ভ্যাকসিন নিয়ে যখন বিশ্বব্যাপী মানুষের মধ্যে চলছে উৎকণ্ঠা, তখন একজন ফার্মাসিস্ট হিসেবে সাধারণ মানুষকে এ বিষয়ে অবগত করানোর সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে দেশের বেশ কিছু জাতীয় পত্রিকায় কলাম লেখার মধ্য দিয়েই লেখকের লেখালেখির যাত্রা শুরু। বিশ্লেষণধর্মী এই লেখার পাশাপাশি কিছু কাছের মানুষের উৎসাহে অনলাইন প্লাটফর্মগুলোতে গল্প লেখা। অনলাইন পাঠকের ব্যাপক উৎসাহে ছোট-বড় মিলিয়ে ৬০ টার মতো গল্প ইতিমধ্যে লেখা হয়েছে। এই পাঠকদের অফুরন্ত ভালোবাসায় এবং অনুপ্রেরণায় ছাপার অক্ষরে প্রকাশিত "যাদুকর চিত্রকর" বইটি লেখকের প্রকাশিত প্রথম বই। উল্লেখ্য লেখক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসী বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর শেষ করে এখন জীবনরক্ষকারী ঔষধ নিয়েই কাজ করছেন।