একটি নিস্তব্ধ সকাল। শহর তখনো স্বাভাবিক ছিল—যতক্ষণ-না একে একে নিখোঁজ হতে শুরু করে ঠিক ২৭ বছরের তরুণরা। প্রথমে গুজব, তারপর আত’ঙ্ক। কিছুদিন পর শহরের খাল-বিল থেকে ভেসে ওঠে নিখোঁজ তরুণদের নি’থর দে’হ। কিন্তু সবচেয়ে ভ’য়ংক’র সত্যটা তখনই সামনে আসে যখন ময়নাতদন্তের রিপোর্ট থেকে জানা যায়—মৃ’ত তরুণদের শরীরে হৃ’ৎয’ন্ত্র নেই।
কেন শুধু ২৭ বছর বয়সি তরুণ?
কেন হৃ’ৎয’ন্ত্রই লক্ষ্য?
এটা কি নিছক খু’ন, নাকি এর পেছনে লুকিয়ে আছে কোনো ভ’য়ংক’র পরিকল্পনা?
শহরজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে আ’ত’ঙ্ক আর অবিশ্বাস। মানুষ সন্দেহ করতে শুরু করে মানুষকেই। নিশ্চয়ই সে মানুষ নামক ন’রখা’দক।
এলিজা শুধু একটি অ’পরাধের গল্প নয়—এ এক অন্ধকার সময়ের দলিল, যেখানে প্রশ্নের চেয়ে উত্তর বেশি ভ’য়ংক’র। যার প্রতিটি অধ্যায়ে রয়েছে থ্রি’ল—রয়েছে অজানা ভ’য়ের এক শি’হরণ।
Sarah Dessen Says- “There is never a time or place for true love. It happens accidentally in a heartbeat, in a single flashing, throbbing moment.”
হঠাৎ করেই একটা অসম প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে গেছি আমরা। ওর হাত স্পর্শ করার পরে থেকেই বুঝতে পেরেছি, আমাদের সম্পর্কটা ঠিক অন্যান্য কাপলদের মতো না। আমাদের মধ্যে তেমন ঝগড়াঝাটি নাই। ঝগড়া হলেও কথা বলা বন্ধ থাকে না। অন্যদের দেখি ঝগড়া করে কয়েকদিন কথা বলা বন্ধ রাখে। সেদিন নুসরাত বলল, “সত্যিকারের ভালোবাসার সম্পর্কে নাকি এমন হয়। আমার আর জেবার সম্পর্কে কোথাও কোনো বড় সমস্যা আছে। এজন্যই কখনো ঝগড়া লেগে কথা বলা বন্ধ হয়নি।” আমি ওর কথায় একমত হতে পারি না। আমাদের মধ্যে দূরত্ব কয়েক হাজার মাইল। এই দূরত্ব ঠিক করে ঘুচবে? নাকি ঘুচবে না এই জনমে? মাঝেমধ্যে মাঝরাতে আমার ঘুম ভেঙে যায় একটা স্বপ্ন দেখে। সাধারণত মানুষের খারাপ স্বপ্নে ঘুম ভাঙে। আমার ভাঙে ভালো স্বপ্নে। স্বপ্নটা কিছুটা এরকম যে, আমি আর জেবু স্রোতস্বীনি নদীর বুকে জোছনা রাতে নৌকায় বসে আছি। জেবার পরনে সাদা শাড়ি আর লাল রঙের ব্লাজ। ওর কানে আমি সিল্কের তিনটা সাদা গন্ধরাজ ফুল গুঁজে দিয়েছি। তিনটাই কেন? এর উত্তর আমার জানা নাই। চারপাশে ঝিঁঝিপোকার ডাক, আকাশে রূপালী চাঁদ আর মাঝ নদীতে আমরা দুজন ডিঙি নৌকায়। আমি ওর একটা হাত আমার দুই হাতের মধ্যে নিয়ে নিলাম। তারপর জিজ্ঞেস করলাম- “চলো আমরা ভিজি চাঁদের আলোয়। না করবে নাতো?” জেবা আমার কথায় কোনো উত্তর না দিয়ে হাসলো। আমি ও ওর মোহনীয় হাসিতে নিজের খেই হারালাম।
“And Then I did laugh, even though the future was a dangerous place, because I loved her and she loved me, and the world was beautiful.”-Maggie Stiefvater
ছোটবেলা থেকেই গল্প ও উপন্যাসের প্রতি গভীর অনুরাগী। পাঠক হিসেবে সাহিত্যের সঙ্গে দীর্ঘদিনের নিবিড় সম্পর্ক একসময় তাঁকে লেখালেখির জগতে নিয়ে আসে। কল্পনা, অনুভূতি এবং বাস্তবতার সমন্বয়ে নিজস্ব এক বর্ণনাশৈলী গড়ে তোলার প্রচেষ্টায় তিনি নিয়মিত লিখে চলেছেন।
রহস্য, থ্রিলার, মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব এবং মানবমনের অজানা দিক তাঁর লেখার প্রধান অনুষঙ্গ। পাশাপাশি ভালোবাসা, প্রতিশোধ, আবেগ ও জীবনের অপ্রত্যাশিত মোড়ও তাঁর গল্পকে করে তোলে বৈচিত্র্যময় ও প্রাণবন্ত।
তাঁর প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস এলিজা, যা প্রকাশিত হয় বইঅঙ্গন প্রকাশনী থেকে। পাঠকমহলে বইটি ইতিবাচক সাড়া পাওয়ার পর তাঁর দ্বিতীয় থ্রিলার উপন্যাস দ্য গেম অফ ব্লাড প্রকাশিত হয় বর্ষা-দুপুর প্রকাশনী থেকে।
প্রতিটি নতুন সৃষ্টির মাধ্যমে তিনি পাঠকদের জন্য ভিন্ন স্বাদের, গভীরতাসম্পন্ন এবং স্মরণীয় গল্প উপহার দেওয়ার চেষ্টা করে চলেছেন।
শব্দের ভেতর নতুন এক জগৎ নির্মাণই তাঁর স্বপ্ন—যেখানে রহস্য, অনুভূতি এবং কাহিনির শক্তি একসূত্রে গাঁথা হয়ে পাঠকের মনে দীর্ঘস্থায়ী ছাপ রেখে যায়।