একটি দেশের ইতিহাস কেবল ঘটনাপঞ্জিতে লেখা থাকে না—তা লেখা হয় কিছু মানুষের জীবনে, তাদের ত্যাগে, তাদের নীরব সহনশীলতায় এবং আপসহীন সংগ্রামে। খালেদা জিয়ার সংগ্রাম তেমনই এক নারীর জীবনকথা, যেখানে ব্যক্তিগত বেদনা, রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব ও জাতির গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা এক সুতোয় গাঁথা।
এই উপন্যাসে উঠে এসেছে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের সবচেয়ে সংকটপূর্ণ ও উত্তাল অধ্যায়গুলো। স্বৈরশাসনের অন্ধকার সময়, রাজপথে গণমানুষের ঢল, ক্ষমতার জন্য নয়—বরং অধিকার ও গণতন্ত্র রক্ষার জন্য অবিরাম লড়াইয়ের দৃশ্য এখানে নির্মোহ অথচ গভীর মানবিকতায় উপস্থাপিত হয়েছে। একজন নারী নেতা কীভাবে ভয়, নিঃসঙ্গতা, কারাবরণ ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার মুখেও নিজের আদর্শে অটল থাকেন—এই গ্রন্থ তারই এক শক্তিশালী শিল্পিত দলিল।
উপন্যাসটি কেবল রাজনীতির বাহ্যিক ঘটনাপ্রবাহে সীমাবদ্ধ নয়। এখানে আছে এক নারীর অন্তর্গত সংগ্রাম—স্বামীহারা জীবনের শূন্যতা, রাষ্ট্রক্ষমতার নিষ্ঠুর বাস্তবতা, বিশ্বাসঘাতকতা ও আশা ভাঙার মুহূর্ত, আবার সেই ভাঙা আশার ধ্বংসস্তূপ থেকেই উঠে দাঁড়ানোর দৃঢ়তা। ক্ষমতার শীর্ষে থেকেও যে মানুষটি নিজেকে বারবার প্রশ্ন করে, আত্মসমালোচনার ভেতর দিয়ে যায়—তার মানবিক মুখও এই উপন্যাসে স্পষ্ট।
খালেদা জিয়ার সংগ্রাম আসলে একটি ব্যক্তির গল্পের আড়ালে একটি জাতির গল্প। এটি রাজপথের স্লোগান, কারাগারের নিঃশব্দ রাত, জনতার ভালোবাসা ও রাষ্ট্রযন্ত্রের কঠোরতার মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা এক অবিচল কণ্ঠের কাহিনি। এখানে নেতৃত্ব মানে শুধু শাসন নয়—নেতৃত্ব মানে সহনশীলতা, ত্যাগ, অপেক্ষা এবং শেষ পর্যন্ত বিশ্বাসে অটল থাকা।
এই উপন্যাস পাঠককে নিয়ে যায় সময়ের গভীরে—যেখানে ইতিহাস কথা বলে, রাজনীতি প্রশ্ন তোলে এবং একজন নারী তার সমস্ত সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করে হয়ে ওঠেন প্রতিরোধের প্রতীক।
📘 ইতিহাস, রাজনীতি ও মানবিক দৃঢ়তার গভীর পাঠে আগ্রহী পাঠকদের জন্য খালেদা জিয়ার সংগ্রাম এক অনিবার্য ও স্মরণীয় গ্রন্থ।
মোহাম্মদ শেখ কামালউদ্দিন স্মরণ, ৩ই এপ্রিল ১৯৯৪ খ্রিস্টাব্দে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী জেলা কিশোরগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন—যে জেলা রাজনৈতিক সচেতনতা ও সংগ্রামী চেতনার জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। তিনি একটি ধর্মনিরপেক্ষ মুসলিম পরিবারে বেড়ে ওঠেন, যেখানে মানবিক মূল্যবোধ, যুক্তিবোধ ও মুক্তচিন্তার চর্চা তাঁর মানসগঠনে গভীর প্রভাব ফেলেছে।
শিক্ষাজীবনে তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উচ্চশিক্ষার মাধ্যমে নিজেকে সমৃদ্ধ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রখ্যাত Duke University থেকে তিনি MSC.Medical Neuroscience বিষয়ে পোস্টগ্রাজুয়েট ডিগ্রি অর্জন করেন এবং যুক্তরাজ্যের University of Glasgow থেকে (MSC) in Biomedical Visualization -এ অধ্যয়ন সম্পন্ন করেন। বিজ্ঞান ও মানবমনের জটিলতা সম্পর্কে তাঁর এই প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞান তাঁর লেখায় একটি স্বতন্ত্র বিশ্লেষণী গভীরতা যুক্ত করেছে।
সাহিত্য ও চিন্তাচর্চার ক্ষেত্রে মোহাম্মদ শেখ কামালউদ্দিন স্মরণ একাধারে ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক। তাঁর লেখায় ব্যক্তিমানুষের মনস্তত্ত্ব, সামাজিক দ্বন্দ্ব, ভালোবাসা, রাজনীতি এবং রাষ্ট্রব্যবস্থার অন্তর্গত সংকট গভীরভাবে প্রতিফলিত হয়।
📚 উল্লেখযোগ্য বাংলা গ্রন্থসমূহ:
জীবনসঙ্গী
মানুষ মতান্তর কেনো?
অমীমাংসিত রাজনীতির প্রশ্ন
জনগণের জীবনধারায় রাজনীতি এখন পথহারা
মানুষ ভালোবাসে কেনো?
সর্বশেষ: খালেদা জিয়ার সংগ্রাম
📗 উল্লেখযোগ্য ইংরেজি গ্রন্থসমূহ:
Politics in the Way of People’s Life Is Now Lost
Why People Change?
The Gen Z Revolution
Why Have Sex?
Reclaiming Your Mind
Love of the Human Body
ছাত্রজীবন থেকেই তিনি সক্রিয়ভাবে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং একজন ছাত্রনেতা হিসেবে রাজনৈতিক আন্দোলন ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিতর্কে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। এই প্রত্যক্ষ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা তাঁর লেখাকে কেবল তাত্ত্বিক নয়, বরং বাস্তব অভিজ্ঞতালব্ধ ও প্রাসঙ্গিক করে তুলেছে।
মোহাম্মদ শেখ কামালউদ্দিন স্মরণ এর গবেষণাভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গি, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা এবং সাহিত্যিক সংবেদনশীলতার সমন্বয়ে বাংলাদেশের এক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক অধ্যায়কে উপন্যাসের কাঠামোতে উপস্থাপন করেছেন। তাঁর লেখনী বাংলা সাহিত্যে রাজনৈতিক চিন্তাকে নতুন ভাষা ও দৃষ্টিভঙ্গিতে তুলে ধরার এক উল্লেখযোগ্য প্রয়াস।