রোমান্স বাই মিস্টেক
পর্ব ১
দুই মাসের অন্তসত্তা ঝুমুর রাস্তায় রাস্তায় ঘুড়ে বেড়াচ্ছে তার সন্তানের বাবার জন্য। সে জানে না কার সন্তান তার পেটে। এইমাত্র সে ডাক্তারের কাছ থেকে জানতে পারল সে দুই মাসের প্রেগন্যান্ট।
[তিন মাস আগে]
চোখ-মুখ বাধা অবস্থায় কোনো এক রুমের মধ্যে পড়ে আছে ঝুমুর। এইতো কিছুক্ষণ আগেই বান্ধবির বিয়ের অনুষ্ঠানে নাচ করছিল সে। নাচতে নাচতে ক্লান্ত হয়ে গেলে ঝুমুর এক গ্লাস শরবত খায়। সেই শরবত খেয়েই ঝুমুরের চোখ-মুখ অন্ধকার হয়ে আসে। যখন তার জ্ঞান ফিরে তখন সে অনুভব করে তার হাত-পা মুখ-চোখ সবকিছু বাধা। সে ছাড়া পাওয়ার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করতে থাকে কিন্তু চেষ্টা করতে করতে একসময় সে ক্লান্ত হয়ে হাল ছেড়ে দেয়। হঠাৎ ঝুমুরের কানে ভেসে আসে একটা পুরুষালি কণ্ঠ। হবো আজ রাতেই
আহিল : কী বেবি কষ্ট হচ্ছে খুব? আমারও হচ্ছে আমার জীবন তছনছ করে দিয়ে আমার সুখী পরিবারটা ভেঙে দিয়ে তুই আরামে বিয়ে করবি? তা কী করে হয়? তোর ভাইয়ের জন্য আমার জীবন, আমার বোনের জীবন নষ্ট হয়ে গেছে। তোকে তো এর ফল ভুগতেই হবে।
পুরুষালি কণ্ঠটা ঝুমুরকে কী বলছে ঝুমুর কিছুই বুঝতে পারছে না। কীসের জীবন নষ্ট, কীসের ভাই। ঝুমুরের তো কোনো ভাই নেই। সে তার বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান। তার বাবা-মা গ্রামে থাকে ঝুমুর শহরে পড়াশোনা শেষ করে নতুন চাকরিতে যোগ দিয়েছে। আজ তার বান্ধবির বিয়ে উপলক্ষে সে এখানে এসেছে। ঝুমুর মুখ উচিয়ে কিছু একটা বলার চেষ্টা করতে থাকে। তখনই আহিল তার গলা চেপে ধরে আর বলে...
আহিল : আমার বোনটাও বাঁচতে চেয়েছিল। কী বয়স হয়েছিল তার সবে ১৮-তে পা দিয়েছিল। আর তোর ভাই আমার সহজ-সরল বোনটাকে ওর প্রেমের ফাঁদে ফেলে তার থেকে সব গোপন ছবি নিয়ে সেগুলো ফেসবুকে ছড়িয়ে দিয়েছে। লজ্জায় ঘৃণায় আমার বোনটা আত্মহত্যা করে ফেলে। এই দুটো হাত দিয়ে দাফন করেছি তাকে আমি। ভাই হয়ে নিজের বোনের ওই নোংরা ছবি দেখেছি। আর শুনবি শুনবি তোর ভাই আর তার বন্ধুরা ওই ছবির নিচে কী কী কমেন্ট করেছিল।
ঝুমুর এতক্ষণে বুঝতে পেরেছে লোকটি তার বান্ধবি নিলার বদলে ভুল করে তাকে তুলে এনেছে। ঝুমুর বার বার বলার চেষ্টা করছে যে সে নিলা নয় সে ঝুমুর; কিন্তু সে পারছে না। আহিল ঝুমুরের শরীরের বিভিন্ন জায়গায় হাত দিচ্ছে। কখনো পেটে, কখনো কোমড়ে, কখনো বুবসে। ঝুমুর লজ্জায় শিউরে শিউরে উঠছে আর ফুপিয়ে কেঁদে উঠছে।
আহিল : তোর ভাই লিখেছিল উফ কী সুন্দর বুবস দেখলেই টিপতে ইচ্ছা করে। আরও কী লেখা ছিল জানিস? আরেকজন লিখেছে উফ মামা সেই দেখেই তো হ্যান্ডেল মারে দিলাম। কাছে পেলে পুরোটাই ঢুকিয়ে দিতাম।
বলতে বলতেই আহিলের গলা ভেঙে আসে। কান্না করতে থাকে গলা ছেড়ে দিয়ে। নিজেকে সামলে নিয়ে আহিল আবার বলা শুরু করে।
আহিল : আজ তোকে এখানে কেন এনেছি জানিস? আজ থেকে পাঁচ বছর আগে আমি যেই কষ্টটা পেয়েছি আজকে সেই কষ্ট আমি দ্বিগুণ করে তোর ভাই আর তোর ফ্যামিলির কাছে ফেরত দিব। অন্যের বোনের সর্বনাশ করে তোর ভাই পার পেয়ে যাবে তা তো হয় না। আজ আমার প্রতিশোধের পালা। আমাদের বাবা ছিল না, মাই ছিল সব। ছোটো বোনের এই মৃত্যু মেনে নিতে না পেরে মাও হার্ট অ্যাটাকে মারা যায়। এই দুনিয়ায় আমি একদম একা হয়ে যাই। আর এই সবকিছু হয়েছে তোর ভাইয়ের জন্য।
বলেই আহিল ঝুমুরের চুলের মুঠি ধরে। ঝুমুরের গায়ে জড়ানো ছিল লাল রঙের শাড়ি। কনের শাড়ি। তারা দুই বান্ধবি ঠিক করেছিল বিয়ের দিন তারা একি রকম শাড়ি পরবে। আহিল ঝুমুরের গা থেকে টেনে-হিচড়ে শাড়িটা খুলে ফেলে। ঝুমুরের পিঠ, পেট সব জায়গায় আহিলের স্পর্শ ঝুমুরকে ব্যাকুল করে তুলছে। আহিল ঝুমুরের থেকে কিছুটা দূরে সরে গিয়ে বসে। একটা গ্লাসে মদ ঢালতে ঢালতে বলে...
আহিল : ভয় নেই তোর ইজ্জতে আমি হাত দিব না। কিন্তু তোকে আজ রাত এইখানেই থাকতে হবে। কাল সকালে তুই এমন অবস্থায় বাড়ি পৌঁছাবি যাতে তোকে দেখে শুধু তোর ভাই কেন পুরো পাড়া-প্রতিবেশী লজ্জা পাবে ছি ছি করবে।
বলতে বলতে আহিল অনেক ড্রিংকস করে ফেলে। দুই বোতল বিয়ার খাওয়ার পর তার মাথা ঘুরতে থাকে। সে তাকিয়ে দেখে অর্ধনগ্ন অবস্থায় ঝুমুর মাটিতে শুয়ে আছে। ঝুমুর ক্লান্ত হয়ে ফোপাতে ফোপাতে ঘুমিয়ে গেছে হঠাৎ তার পেটে ঠান্ডা কিছুর স্পর্শ পেয়ে সে জেগে উঠে। আহিল ঝুমুরের পেটে পাগলের মতো কিস করে যাচ্ছে। ঝুমুর ছটফট করছে। আহিল তার সব বাধন খুলে দিয়ে ঝুমুরকে কোলে তুলে নিয়ে বিছানায় ফেলে দেয়।
ঝুমুর : প্লিজ আপনি এমন করবেন না, প্লিজ। আপনি যার কথা ভাবছেন সে আমি নই আমি নিলা নই।
ঝুমুরের একটা কথাও আহিলের কান পর্যন্ত পৌঁছাচ্ছে না। আহিল নিজের পরনের জামাকাপড় খুলে ঝুমুরের নগ্ন দেহের উপর ঝাপিয়ে পড়ে। ঝুমুর অনেকবার বলেছে সে নিলা নয়; কিন্তু আহিল নেশাগ্রস্ত থাকায় বুঝতে পারেনি।
ঝুমুরের গলায়, বুকে আহিল পাগলের মতো কিস করে যাচ্ছে আর কামড়ে দিচ্ছে। ঝুমুর ব্যথায় চিল্লাচিল্লি করলে আহিল তার বেল্ট দিয়ে ঝুমুরের হাত বেঁধে দেয়। এরপর শুরু হয় ঝুমুরের উপর নির্মম অত্যাচার। ঝুমুরের শরীরের সব জায়গায় এখন আহিলের রাজত্ব। ইচ্ছেমতো সে সারারাত ঝুমুরকে আদর করে গেছে। এক সময়ে ঝুমুর ক্লান্ত হয়ে হাল ছেড়ে দিয়ে আহিলের সাথে তাল মিলিয়ে তাকে সম্পূর্ণ করে দিয়েছে ঝুমুর। বাধ্য মেয়ের মতো নিজের সত্তিত্ব তুলে দিয়েছে আহিলের হাতে। সারারাত লাগাতার কয়েকবার শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হয়ে আহিল ক্লান্ত হয়ে ঝুমুরের বুকের উপর ঘুমিয়ে পড়ে।