Summary
"কাতিলা গাম এমন একটি উদ্ভিদ যা গন্ধহীন, স্বাদহীন এবং পলি-স্যাকারাইডের পানির দ্রবণীয় মিশ্রণ যা উদ্ভিদের শিকড় থেকে শুকিয়ে সংগ্রহ করা হয়। কাজটি জটিল মনে হলেও আসলে তেমন জটিল নয়। সহজেই তৈরী করা সম্ভব।
গরমের সময় ২ বেলা নিয়ম করে যদি কাতিলা গাম পানিতে ভিজিয়ে তাতে লেবু মিশিয়ে একটু মধু বা মিছরি বা লাল চিনি বা খাঁটি আখের গুড় মিশিয়ে খেতে পারেন তাতে যেমন সারাদিনের ক্লান্তি কেটে যাবে তেমনি শারিরীক সক্ষমতা বেড়ে যাবে বহুগুণে।
কাতিলা গাম (Tragacanth Gum) যাকে কাতিরা গামও বলা হয়। এটা শরীরে খুবই শীতল প্রভাব ফেলে। এটি সাদা বা হালকা লাল বর্ণের একটি শক্ত আঠা যা পানিতে কয়েক ঘন্টা ভিজিয়ে রাখলে নরম হয়ে ফুলে উঠে। গ্রীষ্মের সময় এটি খাওয়া শরীরের জন্য খুবই দরকারি।
এটা শরীরে গঠিত তাপ শীতল করে দেয়। এগুলো ছাড়াও এটা প্রোটিন এবং ফলিক অ্যাসিডের একটি ভাল উৎস হিসেবে কাজ করে যা দেহের স্বাস্থ্য-পরিস্থিতি ভালো রাখে।
গ্রীষ্মকালীন সময়ে কাতিলা গাম এমন লোকদের হিট স্ট্রোক রোধ করতে পারে যারা গরম আবহাওয়ায় বাইরে থাকতে পারেন না। তাই গরম যাদের সহ্য হয়না তাদের নিয়মিত কাতিলা গাম খাওয়া উচিত।
এতে উচ্চ পুষ্টিগুণ ও মান রয়েছে। এই কারণেই এটি গর্ভাবস্থায় ব্যবহার করা যেতে পারে। কারণ, কোনও প্রসূতি মা এবং তার শিশুর স্বাস্থ্যের জন্য আরও ভাল পুষ্টি প্রয়োজন যা কাতিলা গাম পূরণ করতে সক্ষম।
কিছু লোকের মধ্যে একটি সাধারণ সমস্যা হলো হাত পা জ্বালাপোড়া করা। এটা হাত ও পায়ে জ্বলন্ত সংবেদনকে উন্নত করে অর্থাৎ হাত-পায়ের জ্বালাপোড়া কমিয়ে দেয়।
কাতিলা গাম হলো ফাইবার সমৃদ্ধ এবং দেহের বিপাক বাড়ানোর বৈশিষ্ট্যযুক্ত একটি উপাদেয়। উচ্চ ফাইবারের কারণে তৃপ্তি এবং ক্ষুধা যন্ত্রণা কম অনুভূত হয়ে থাকে। এটা সহজে কোন মানুষ বুঝতে পারে না।
বর্ধিত বিপাকীয় হার স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেহের শক্তির প্রয়োজনীয়তা বাড়িয়ে তুলবে যার ফলে চর্বিতে রূপান্তরিত করতে কম সংখ্যক ক্যালোরি প্রয়োজন হবে।
সুতরাং, যদি আপনি শরীরের অতিরিক্ত ওজন কমাতে চান কিংবা ওজন রক্ষণাবেক্ষণের ডায়েটে থাকেন তবে এটা আপনাকে অনেকাংশে সহায়তা করবে।
এক কথায় বলতে গেলে শারিরীক শক্তি বৃদ্ধি, হিট স্ট্রোক প্রতিরোধ, কোষ্ঠকাঠিন্য দূরীকরণ, গর্ভবতী মায়ের পুষ্টি অক্ষুন্ন রাখতে, হাত ও পায়ে জ্বালাভাব দূর করতে, ওজন কমাতে, চকচকে ত্বক পেতে, এবং ইমিউন সিস্টেমের উন্নতি করতে কাতিলা গামের ভূমিকা অনস্বীকার্য।"