ঝুমা আক্তার, সমকালীন বাংলা কবিতার তরুণ কণ্ঠস্বর, যিনি নিজেকে কবির পরিবর্তে ‘অ-কবি’ বলে পরিচয় দিতে ভালোবাসেন। তার জন্ম কিশোরগঞ্জ জেলার হোসেনপুর উপজেলায়। পিতা মিনাল গাফর ও মাতা মাজেদা বেগম। বর্তমানে তিনি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ব্যবস্থাপনা বিভাগে অধ্যয়নরত। যদিও তার একাডেমিক পরিচয় ভিন্ন ধারার, কিন্তু হৃদয়ের গভীরে বহমান অনুভবের নদী তাকে টেনে এনেছে সাহিত্যের স্রোতধারায়।
লেখালেখি তার নিছক শখ নয়, বরং একান্ত ভালোবাসা ও আত্মপ্রকাশের মাধ্যম। তিনি বিশ্বাস করেন, সময়ের চোখ দিয়ে দেখা প্রতিটি ক্ষণ, প্রতিটি ঘটনা কবিতায় ধরা সম্ভব — শুধু দরকার সজাগ দৃষ্টির এবং অনুভবের সূক্ষ্মতা। তার কবিতায় ধরা পড়ে মানুষের হর্ষ-বিষাদ, সমাজের টানাপোড়েন, প্রকৃতির আত্মঘন উপস্থিতি, প্রতিবাদ আর প্রেম—যা পাঠককে গভীর আবেগে আবিষ্ট করে তোলে।
অমর একুশে বইমেলা ২০২৩-এ প্রকাশিত তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘বৃষ্টিমুখর দিনে’ এক অর্থে তার কবি-জীবনের আত্মপ্রকাশ, আবার অন্য অর্থে সময়ের বিবর্ণ অথচ সত্য ক্যানভাসে রঙতুলি বুলিয়ে যাওয়ার এক সাহসী প্রয়াস। এই কাব্যগ্রন্থে রয়েছে তার অন্তর্লোকের কণ্ঠস্বর, রয়েছে সমাজ ও সময়কে দেখার বিশ্লেষণাত্মক দৃষ্টি। শব্দের সংযোজন ও বাক্যবিন্যাসে কখনো কখনো প্রকাশ পেয়েছে তার স্বতঃস্ফূর্ত মুন্সিয়ানা। তবে তিনি নিজেই স্বীকার করেন, সব কবিতা পাঠকের জন্য সুখপাঠ্য নাও হতে পারে—কিন্তু কিছু কবিতা নিঃসন্দেহে মুগ্ধতা ছড়ায়, পাঠককে থমকে দেয়, ভাবায়।
ঝুমা আক্তারের কবিতা তার আত্মপ্রকাশের ভাষা, প্রতিবাদের সুর, প্রেম ও প্রকৃতির মেলবন্ধন। তার কাব্যভাষা নিঃশব্দ দ্রোহে, কোমল ভালোবাসায়, আবেগে ও অভিমানে বয়ে চলে। তিনি সময়কে ছুঁয়ে থাকা একজন কবি—অথচ নিজেকে বলতে চান 'অ-কবি'—এই স্ববিরোধিতাই তার সৃষ্টির শক্তি।
কবিতায় তার উপস্থিতি যেন এক নতুন সম্ভাবনার বার্তা। ‘ঝুমা আক্তার’ নামটি ভবিষ্যতের কবিতার জগতে স্মরণীয় হয়ে থাক—এমনটাই প্রত্যাশা।