পহেলা ডিসেম্বর শুক্রবার রাত তিনটা একুশ মিনিটে পৃথিবীতে ভূমিষ্ঠ হই আমি। লিকলিকে পাতলা শরীরের ঘাড়ত্যাড়া ছেলেটির কখনো ক্ষুধা লাগে না বলে অভিযোগ করতেন মা। জোর করে খাওয়াতেন। আমি মুখ উগলিয়ে ফেলে দিতাম খাবার। জোর করার অভ্যাসটা ছোট থেকেই অপছন্দ আমার। তাই বড় হবার পর কোনকিছুতেই জোর করেন না পরিবার। তবে, মাকে মানি লক্ষ্মী ছেলের মতন। তিনি আমার প্রথম পাঠক, আমার বন্ধু, আমার আদর্শ। ভুল ধরিয়ে দেন ঠান্ডা কথায়, শুধরিয়ে নেই। তিনি আমার পৃথিবী। ভালোবাসি প্রকৃতি—আকাশ, নদী, পাহাড়, গাছ, রাতের আঁধার, রং চা, অরো কত কি!
পড়াশোনা: বর্তমানে ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটিতে অধ্যয়নরত। মা-বাবা জানতো ডানপিটে স্বভাবের ছেলেকে বামে বললে ডানে হাঁটবে, তাই বলাবলিই ছেড়ে দিয়েছিল। আমি ভুল শুধরে পথ চলেছি শুধু। ইন্জিনিয়ারিং পড়তে পড়তেই লেখালেখিতে আসা। এও কি সম্ভব? বিশ্বাস করি, মানুষের বেঁচে থাকার জন্য নিঃশ্বাস জরুরি। লেখা আমার নিঃশ্বাস, ইন্জিনিয়ারিং আমার স্বপ্ন। স্বপ্ন, আর নিঃশ্বাস এক হয়ে সংগ্রাম করলে জীবন আটকায় না। পরিশ্রম গায়ে লাগে না। প্রতিকূল পরিস্থিতিকে ভয় না চ্যালেঞ্জ হিসেবেই নিই। জন্ম রাজশাহীতে হলেও মায়ের সরকারি চাকুরির জন্য দেশের এপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্তে ছুটোছুটি চলতোই। স্কুলজীবনে কুড়িরও বেশি স্কুল পরিবর্তন করেছি। নানা শহরে নানা মানুষের সাথে মিশে থাকার ব্যাপারগুলো আমার লেখকসত্ত্বাকে টের পাইয়েছে। আমি লিখতে চাই মৃত্যুঅবধি।
একদিন চাই, আমার শব্দগুলোই আমাকে ছাড়িয়ে যাক। বেঁচে থাকবো ইনশাআল্লাহ—এমন হারের অপেক্ষায়!
লেখক লেখালেখির পাশাপাশি নাটক লিখেন। গীতিকার হিসেবে তার লেখা অনেক গান জনপ্রিয়তা লাভ করেছে।
লেখকের প্রথম দুই উপন্যাস:
❇️ বিষাদবৃক্ষ ও
❇️ মায়ামৃগের ভুল-বেভুল