আদালতে আসামীর কাঠগড়ায় দাঁড়ানো কোনো ব্যক্তির জবানবন্দিও যে কখনও কখনও কালকে জয় করতে পারে, পারে মানুষের হৃদয়ে স্থায়ী আসন করে নিতে; তার সাক্ষাৎ প্রমাণ খ্রিষ্টপূর্ব ৩৯৯ অব্দে এথেনীয় আদালতে দেওয়া মহান দার্শনিক সক্রেটিস ও ১৯২৩ খ্রিষ্টাব্দে পরাধীন ভারতের আদালতে দেওয়া কাজী নজরুল ইসলামের জবানবন্দি। এ যেন জবানবন্দি নয়, মোহনবাঁশি-যার কানে তার সুর পৌঁছেছে, সে বিমোহিত হয়েছে। আর তথাকথিত রাজশক্তি ও কায়েমী স্বার্থবাদী শক্তির কানে তপ্ত সীসা ঢালার মতোই মনে হয়েছে। শাসক ও স্বার্থবাদী শক্তি তাই রোষে কাণ্ডজ্ঞানশূন্য হয়ে সেই আগুনকে নিভিয়ে দিতে চেয়েছে। একজনকে মৃত্যুদণ্ড ও অপরজনকে জেল-জুলুম দিয়েও সম্ভব হয়নি কণ্ঠরোধ করা।
দিনের পর দিন পার হয়েছে-সেদিনের আসামীর কাঠগড়ায় দাঁড়ানো ঐ দুজন ক্ষণজন্মা মহাপুরুষ মানুষের মনে তাঁদের আসন আরও পাকাপোক্ত করতে সক্ষম হয়েছেন। তাঁদের হার না-মানা প্রতিটি উক্তি আজও উদ্দীপ্ত করে মানুষকে। যে আগুন তাঁরা আসামীর কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে জ্বেলেছেন, তা কোনোদিনও নিভে যাওয়ার নয়।
তাই তো তাঁদের জবানবন্দিকে বলা হয়েছে- 'অগ্নিঝরা জবানবন্দি'। পাঠক উক্ত গ্রন্থে সেই আগুনের স্বরূপ কিছুটা হলেও দেখতে পাবেন বলেই আমার বিশ্বাস।